প্রোডাক্টিভিটি কি? কিভাবে প্রোডাক্টিভ হয়ে উঠবেন | উৎপাদনশীলতার বৃদ্ধি উপায় সমূহ

 

প্রোডাক্টিভিটি কি

( What is Productivity )

 

প্রোডাক্টিভিটি ( productivity ) শব্দের আভিধানিক অর্থ উৎপাদনশীলতা বা উৎপাদনের কার্যকারিতা। সহজে বুজতে গেলে, কোনো কাজ কত দ্রুততার সাথে করা যেতে পারে তার প্রক্রিয়া ও সক্ষমতাই হলো প্রোডাক্টিভিটি (productivity) উদাহরণস্বরূপ বলা যায় একটা মানুষ বা যন্ত একটা টাইমে কতটুকু কাজ করতে পারে তার পরিমাপই হলো সেই মানুষ অথবা যন্তটির প্রোডাক্টিভিটি। 

 

প্রোডাক্টিভিটি কত ধরনের হয় 

( type of productivity )

 

ইতিমধ্যে জেনে নেয়া হয়েছে প্রোডাক্টিভিটি আসলে কি। এবার দেখা যাক productivity কত রকমে সাজানো যায়। এটা যে কেবল কোনো পন্য উৎপাদন কাজের প্রসেস তা কিন্তু নয়। এই প্রক্রিয়াটি যেকোনো কিছুতেই এপ্লাই (apply) করা যেতে পারে। এই যেমন পড়াশোনা ঠিকভাবে হচ্ছে না, তবে করা দরকার সেটাও বুজতে পারছো, এক্ষেত্রে পড়াশোনার ম্যাপিংয়ের (কাজের শুরু থেকে শেষ অব্দি সকল কার্যক্রমই ম্যাপিং) কাজে প্রোডাক্টিভিটির রুলস গুলো এপ্লাই করা যেতে পারে। এছাড়া অফিসিয়াল হোক বা আন – অফিসিয়াল যেকোনো স্টেজে যেকোনো পরিস্থিতিতে যেকোনো কিছুরই সক্ষমতা বাড়াতে প্রোডাক্টিভিটির পদ্ধতি ( process of productivity ) এপ্লাই করা যায়। 

 

প্রোডাক্টিভিটি কিভাবে কাজ করে 

( how productivity works )

 

প্রোডাক্টিভিটি (productivity) মূলত একটি পদ্ধতি যা ঠিকভাবে মেনে চললে সুন্দর একটা আউটপুট (যেকোনো কাজের ফলাফল) পাওয়া যায়। সাভাবিকভাবে প্রতিনিয়ত কোনো কাজে ধৈর্য ও উদ্যোমতার সাথে লেগে থাকলে সেটার ফলাফল প্রকৃতভাবেই আশানুরূপ হয়। সেক্ষেত্রে প্রোডাক্টিভিটির কৌশলগত পদ্ধতিগুলো ভিতরের সর্বোচ্চটা দিয়ে বের করে আনতে সহায়তা করে। তবে একটা বিষয় অবশ্যই বলতে হয়, প্রোডাক্টিভিটি মানে এই না যে, সারাদিন গাধার খাটুনি খেতে কাজ করেই যেতে হবে। তাহলে সেটাকে আর যাই বলুক প্রোডাক্টিভিটি বলা যায় না। এটা অবশ্যই ঠিক যে হার্ড ওয়ার্ক থেকে স্মার্ট ওয়ার্ক বেশি কার্যকর হয়। দিকনির্দেশনা ও ম্যাপিং ছাড়া সারাদিন খাটুনি না খেটে পরিকল্পনা মাফিক নিদিষ্ট সময়ে কাজ করে বেশি আউটপুট নিয়ে আসতেও প্রোডাক্টিভিটি কাজ করে।

 

প্রোডাক্টিভিটি বৃদ্ধি করার প্রক্রিয়া (increase productivity)

 

এতোক্ষনে প্রোডাক্টিভিটি কি এর গুরুত্ব কি তা অবশ্যই বুঝা হয়েছে এবার আসি কিভাবে এটাকে নিজেদের চাহিদা মোতাবেক বাড়িয়ে নেয়া যায়। বলা হয়ে থাকে একটা মানুষ কতটা সফল তা ভিত্তি করে সেই মানুষটার প্রোডাক্টিভিটির উপর। সিচুয়েশন যেমনই হোক না কেন, কাজের আউটপুটে সেটা প্রভাব ফেলা যাবে নাহ। আর বাজে প্রভাব মুক্ত প্রোডাক্টিভিটি সম্পন্ন আউটপুট নিয়ে আসতে যেতে হয় একটি নিয়মের ধারার মধ্য দিয়ে। ধারার সেই প্রসেসগুলোই প্রোডাক্টিভিটির কার্যকারিতা বাড়িয়ে দেয়। এখন সাভাবিক ভাবেই প্রশ্ন উঠে কি সেই ধারা, আর কিইবা সেই প্রসেসগুলো? বলছি, এখানে বেশ কয়েকটি পয়েন্ট তুলে ধর‍তে হবে সাথে বিস্তারিত আলোচনার প্রয়োজন আছে। তাই কেবল মাত্র প্রোডাক্টিভিটি বৃদ্ধি করার প্রক্রিয়াকে কেন্দ্র করে বিস্তারিত আলোচনা করেছি এখানে.. 

 

প্রোডাক্টিভিটি বৃদ্ধি – Online

 

আজকাল যেকোনো কাজেই অনলাইন শব্দটা যুক্ত করা আছে। পড়াশোনা থেকে শুরু করে শপিং অব্দি সব কিছুই অনলাইনে করা সম্ভব। এতে হয় কি, সময় সাশ্রয় হয়। তবে সব সময়ই কি সাশ্রয় হয়? দেখা যায় মাল্টি-টাস্কিন এর ফলে নিদিষ্ট ফোকাস থেকে মুভ অন (move on) হয়ে যায়। উদাহরণ দিয়ে বিষয়টা বুঝাচ্ছি, এই ধরুন আপনি ঠিক করলেন অনলাইনে কোর্স করার। বসলেনও করতে তবে তার সাথেই সোসাল সাইট গুলোও এক্টিভ রাখলেন। ফলসরূপ কিছুক্ষন পর পর নতুন নোটিফিকেশন চেক করতে গিয়ে ফোকাস হারাতে হয় মুল নির্ধারিত কাজ থেকে। বলতে গেলে এরুপ উদাহরণ অহরহ দেয়া যায় তবে সেগুলো বলে লাভ নেই। মূল কথা হচ্ছে এই যে অনলাইনে কাজের সময় যেই বিষয়টিতে সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব দিতে হয় মাল্টি-টাস্কিং না করাতে। 

 

সময় নির্ধারণ করতে হবে। কারন লাগাতার অনলাইনে বসে থাকাটা মানসিক ও শারীরিক কোনো ভাবেই কল্যানকর নয়। এক্ষেত্রে Time Management প্রক্রিয়াটি সবচেয়ে বেশি কার্যকর। এছাড়া অন্যান্য বেশ কিছু পদ্ধতি রয়েছে যা মূলত প্রোডাক্টিভিটি বৃদ্ধির প্রক্রিয়াতেই আলোচনা করা হয়েছে। সেখানে একত্রে সকল বিষয় গুলো উপস্থাপন করা হয়েছে। 

 

প্রোডাক্টিভিটি বৃদ্ধি – Offline

 

সিচুয়েশন যদি এমন হয় যে অনলাইনে যাওয়ার প্রয়োজন নেই। সম্পুর্ন ফোকাস অফলাইনে কোনো কাজে দিতে হবে। তাহলে প্রোডাক্টিভিটির মাধ্যমে আউটপুটের ফলাফল বৃদ্ধি করা খুব সহজ হয়ে উঠে। এক্ষেত্রে কার্যকর পদ্ধতি সমূহ হলো : To-Do list, Treat Yourself, Rule 80/20, Focus method এসব পদ্ধতি নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা রয়েছে, যেমন কি করবেন কিভাবে করবেন সব কিছু। যে মেথডটি সম্পর্কে জানতে ইচ্ছুক সেটায় ক্লিক করে বিস্তারিত জেনে নিন। তবে সংক্ষেপে কিছু বর্ননা করছি। 

 

১. টু-ডু লিস্ট হলো সেই রুলস যেখানে ঘুম থেকে উঠার পর থেকে ঘুমানোর আগ অব্দি যেসকল গুরুত্বপূর্ণ কাজ আছে তা লিপিবদ্ধ করা। আর প্রয়োজনে দেখে নেয়া যায় এমন সংস্পর্শে রাখা। এতে করে গুরুত্বপূর্ণ কাজ গুলো সরণে থাকবে। আর এই পদ্ধতির একটা ধারা হলো রেগুলার এটিকে ফলো করে যাওয়া। নিজের সক্ষমতা অনুযায়ী তৈরি করতে হবে যাতে কয়েকদিন এর মধ্যে অসম্ভব বলে ফেলে না রাখা হয়। 

 

২. টাইম ম্যানেজমেন্ট করার মাধ্যমে প্রোপার ভাবে একটা শিডিউল তৈরী করতে হবে যেখানে  ডেইলি এক্টিভিটিস ( সেসব কাজ যেগুলো প্রতিদিন করতেই হয় ) এর পাশাপাশি স্পেশাল ওয়ার্ক ( দিনের বিশেষ কাজ ) লিপিবদ্ধ থাকবে। এরপর টুডু লিস্ট আর টাইম দুইটাকে একত্রে মিলিয়ে একটা পার্ফেক্ট ডে প্লান করে নিতে হবে।

 

৩. গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্ট এই যে, যখন যে কাজটি করা হবে তখন সেই কাজ বাদে অন্য কিছুতে যায়ে ফোকাস না যায় সেখানে পুরো খেয়াল রাখা প্রয়োজন। কারন এক সাথে দুই বা একাধিক কাজ করতে গেলে প্রায় সব গুলো অর্ধসম্পুন্ন রয়ে যায়। এছাড়া বাকি বিষয়গুলো এই বিষয়ক বিস্তারিত আলোচনা মূলক আর্টিকেলে রয়েছে।

 

পড়াশোনায় প্রোডাক্টিভিটি

 (Productivity effect on Study)

 

এটি মূলত স্টুডেন্টদের জন্য। পড়াশোনা করার ক্ষেত্রেও প্রোডাক্টিভিটির কৌশলগুলো প্রয়োগ করা যায়। আর সত্যি বলতে এতে পড়াশোনাতে ব্যাপক ভবে পজিটিভ প্রভাব ফেলে। তো প্রশ্ন হচ্ছে পড়াশোনার জন্য কি নিদিষ্ট কোনো নিয়ম আছে ?  হ্যা অবশ্যই আছে। আসলে সঠিক নিয়মে পড়াশোনা না করে সারাদিন বই নিয়ে বসে রইলেও তেমন আশানুরূপ আউটপুট পাওয়া যায় না। এক্ষেত্রে পূর্বে উল্লেখিত প্রোডাক্টিভিটি বৃদ্ধির যে সকল প্রসেস রয়েছে সেগুলো এপ্লাই করা যেতে পারে প্রায় একই ভাবে। আমি এগুলো এমন ভাবে সাজিয়েছি যেগুলো যেকোনো কাজেই একই ভাবে প্রয়োগ করা যায়। এছাড়াও পড়াশোনকে কেন্দ্র করে বিভিন্ন টিপস ও সহায়ক হিসেবে এই ব্লগের ” Education ”  ক্যাটাগরি থেকে বিভিন্ন বিষয় সম্পর্কে জানতে পারবেন। পড়াশোনায় প্রোডাক্টিভিটির সেক্টরে দীর্ঘসময় ধরে পড়ার নিয়ম  সম্পর্কে লিখা আর্টিকেলটি পড়ে নিতে পারেন এখান থেকে…

 

সফলতা অর্জনে প্রোডাক্টিভিটির অবদান ( success of productivity )

 

খুব জনপ্রিয় একটা কথা আছে ” যে যত সফল, তার প্রোডাক্টিভিটি ততই বেশি ” আসলে কি বুঝায় এই কথাটি দ্বারা? একটা ব্যক্তি যখন কোন কাজ পরিকল্পনা মাফিক করে, কাজের মধ্যে ভারসাম্য বজায় রাখে, শুরু থেকে শেষ অব্দি সুসংগঠিত একটি আউটপুট দেয় তখন তার কাজটি স্বয়ং সম্পূর্ণ রূপে উপস্থাপিত হয়। আর এরূপ কাজের ফলাফল অবশ্যই আশানুরূপ ফলাফল। প্রডাক্টিভিটি মূলত এই কাজটি করে থাকে প্রডাক্টিভিটির যেসকল কৌশল গুলো নিয়ে আলোচনা করেছি সেই কৌশল গুলোর মাধ্যমে যেকোনো কাজ এরকম সুসংগঠিত ভাবেই করা যায়। একই কাজের জন্য দুইটি ব্যক্তি দুই রকম আউটপুট দিবে এক্ষেত্রে যে সবচেয়ে ভালো আউটপুট দেবে তার প্রডাক্টিভিটি ভালো আর সেই সফলতা অর্জন করবে এটাই তো স্বাভাবিক। 

 

প্রোডাক্টিভিটি ধরে রাখতে করনীয়

 

প্রডাক্টিভিটি সম্পর্কে কতটুকু জানলাম, কতটুকু শিখলাম, কতটুকু বুজলাম সেটা কখনোই ম্যাটার করবে না। যদি কিছু প্রভাব ফেলে সেটি হল প্রডাক্টিভিটি কতদিন ধরে Continue ( চালিয়ে যাওয়া ) করা যায়। এক দিনে ১০ ঘন্টা কাজ করে পরের দিন দুই ঘন্টাও করলাম না এরুপ যদি হয় অবস্থা তাহলে সেখানে প্রোডাক্টিভিটির যত কৌশলই অবলম্বন করা হোক না কেনো যেটি বিফলেই যাবে। প্রোডাক্টিভিটি হার্ড ওয়ার্ক থেকে বেশি স্মার্ট ওয়ার্কে সহায়ক হয়। ডেইলি এক ধারার মধ্যে দিয়ে পার হতে হবে এই রাস্তায়। ভারসাম্যতা বজায় রাখাটা খুব জরুরি এই পদ্ধতিতে। আর এসব নিয়ম সঠিক ভাবে রেগুলার চালিয়ে যেতে পারলে কোনো কিছুতেই কাউকে অসফল হতে হয় না। সফল তারাই, যারা সক্ষম। যেকোনো পরিস্থিতিতে নিজেকে মানিয়ে চলে প্রোডাক্টিভিটি বাড়িয়ে দেখাতে সক্ষম। এই সক্ষমতা আছে সবার মাঝেই, প্রয়োজন কেবল ফুটিয়ে তোলা। আপনিও ফুটিয়ে তুলুম, নিজের প্রোডাক্টিভিটি বাড়ান৷

 

ইতিকথা

 

এই প্রতিবেদনে সকল বিষয় গুলো যুক্ত করা হয়েছে তবে সেগুলো সংক্ষিপ্ত আকারে। প্রতিটি মেইন কিওয়ার্ড গুলোতে লিংক যুক্ত করা আছে। সেগুলোতে ক্লিক করলে সেই কিওয়ার্ডের উপর বিস্তারিত আলোচনা আছে এই ব্লগেই। আপনার চাহিদা মোতাবেক যেকোনো বিষয় আরো বিস্তারিত ভাবে জানতে উক্ত কিওয়ার্ডে ক্লিক করুন৷ আমি সেলিম মাহামুদ প্রতিনিয়ত এরুপ ইনফরমেশন আমার এই ব্লগে তুলে ধরি। ইমেইল সাবমিট করে সাবস্ক্রাইব করে রাখুন সকল আপডেট পেতে এছাড়া যুক্ত হোন ফেসবুক পেজে। ধন্যবাদ, আপনার শুভকামনা করছি। 

 

2 thoughts on “প্রোডাক্টিভিটি কি? কিভাবে প্রোডাক্টিভ হয়ে উঠবেন | উৎপাদনশীলতার বৃদ্ধি উপায় সমূহ”

Leave a Comment