টাকা জমানোর নতুন কৌশল | Japanese Kakeibo method | টাকা জমানোর উপায়

আপনি কি কোনো ভাবেই মাস শেষে টাকা জমাতে পারেছেন না? কিন্তু জমাতে চান! তাহলে টাকা জমানোর উপায় হিসেবে ব্যবহার শুরু করুন Japanese Kakeibo Method.

জাপানের Kakeibo শব্দের উচ্চারণ অনেকটা  Kah-keh-boh  যার ইংরেজি অর্থ দাঁড়ায় household financial ledger. যা কিনা ১৯০৪ সাথে Hani Motoko নামক জাপানের প্রথম নারী জার্নালিস্ট আবিস্কার করে।

Japanese Kakeibo Method অতি জনপ্রিয় একটা বাজেট প্লানিং পদ্ধতি যার অনুসরণ করার মাধ্যমে মাসিক ভিত্তিতে আপনার আয় ও ব্যয়ের মধ্যে সমঞ্জস্য রেখেই Saving করতে সক্ষম হবেন।

তাই আজেক আলোচনা করবো Japanese Kakeibo Method সম্পর্কে এবং বলবো কিভাবে আপনি আপনার ব্যক্তিগত লাইফে এই পদ্ধতির ব্যবহার করতে পারেন।

 

জাপানের কাকিবো পদ্ধতির শর্তসমূহ | Rules of Japanese Kakeibo Method

 

প্রথমেই জেনে রাখুন Japanese Kakeibo Method এ ব্যবহৃত কিছু শর্ত সম্পর্কে যেগুলো অবশ্যই অনুসরণ করতে হবে এই পদ্ধতিতে।

 

১. ৪ টি প্রশ্নের সাথে ৪ টি বাজেট প্লান মানতে হবে

২. পদ্ধতির চর্চা হাতে কলমে করতে হবে

৩. আয় ব্যয় সংক্রান্ত তথ্য লুকানো যাবে না

 

টাকা জমানোর পদ্ধতির ৪ টি প্রশ্ন | 4 Questions of Japanese Kakeibo Method 

 

যেমনটা শর্তে বলা ছিলো ৪ টি প্রশ্ন করা হবে এবং সেই প্রশ্নের উত্তরের উপর ভিত্তি করে ৪ টি বাজেট প্লান করতে হবে। ধাপে ধাপে ৪ টি প্রশ্ন ও সে-সম্পর্কে বিস্তারিত তুলে ধরছি।

 

১. আপনার কাছে এখন কত টাকা আছে | Amount of money you have available right now

 

এখন বলতে এখানে চলতি মাসের কথা বোঝানো হয়েছে। কাকিবো প্লানের ৪ টি ধাপের প্রথম ধাপ হচ্ছে Income তাই ইনকামের ঘরে আপনার মাসিক আয়টি লিখে ফেলুন।

উদাহরনের মাধ্যমে বিষয়টা বোঝানোর চেষ্টা করি। ধরুন মাসের শুরুতে আপনার কাছে ১,০০,০০০ টাকা আছে এবার ইনকামের ঘরে লিখে ফেলুন এক লাখ টাকা।

যদি মাসের মাঝে কোনো আয় হয় তা পরবর্তীতে যুক্ত করবেন। মোট কথা হচ্ছে যখন আয় হবে তখনই যুক্ত করতে হবে। এবার ২য় প্রশ্ন।

 

২. আপনি মাসে কত টাকা জমাতে চান | How much money you want to save

 

খুবই সহজ প্রশ্ন আর এর উত্তর ও খুব সহজ হবে। এক্ষেত্রে আপনড় চাহিদা মূল্যায়ন করা হবে। কেউ বেশি জমাতে চায় কেউ কম। তবে জমাতে চায় সবাই।

এক্ষেত্রে আপনি আপনার চাহিদা মোতাবেক অর্থ টার্গেট করতে পারেন। তবে হ্যা সাধারণত একটা মানুষের মোট আয়ের ১০% জমিয়ে রাখাটাই আদশ Saving হিসেবে ধরা হয়।

এবার যা করতে হবে আপনার কাকিবো বাজেট প্লানারে টার্গেট বা লক্ষ্যের ঘরে ওই সমপরিমানের অর্থের কথা লিখে রাখুন যেটা আপনি জমাতে চান।

উদাহরণ সরুপ, প্রথম প্রশ্নের জবাবে ১ লক্ষ টাকা ধরেছি বলে সেভিংয়ের ক্ষেত্রে ১০% হিসেব করে ১০ হাজার টাকা কাকিবো টার্গেট প্লানারের ঘরে লিপিবদ্ধ করলাম। এবার ৩য় প্রশ্ন।

 

৩. আপনি মাসে কত টাকা খরচ করেন | How much money are you spending

 

এবার উত্তরটা একটু কঠিন হয়ে উঠতে পারে অনেকের ক্ষেত্রে কারন প্রতিটা খরচ লিপিবদ্ধ করে রাখে এমন মানুষ খুব কমই আছে।

তবে এই কাজটা সহজ করে তোলার জন্য কাকিবো বাজেট প্লানারে রয়েছে সুন্দর একটা ব্যবস্থা। যে সম্পর্কে বলি :

কাকিবো বাজেট প্লানিং অনুযায়ী আপনার মাসের খরচ টাইমিং করতে দুইটা ক্যাটাগরিতে খরচ সাজাতে হবে। যথা ১. অবশ্যিক ব্যয় ২. জীবন যাপন ব্যয়। এবার এই দুইটা ক্যাটাগরি নিয়ে সল্প আলোচনা করি।

অবশ্যিক ব্যয় :

এই গুলো হলো সে সকল ব্যয় যা আপ্লনার প্রতি মাসে করতে হবে। অনেকটা মৌলিক চাহিদার মতন। এর মধ্যে থাকতে পারে বাড়ি ভাড়া, খাবার খরচ, বিভিম্ন বিল সহ বেশ কিছু, যা আপনার উপর ভিত্তি করবে।

জীবন যাপন ব্যয়

এই ধরনের ব্যয় নির্ণয় করতে সর্বনিম্ন ৪ টি ধাপ অনুসরণ করতে হবে। সেগুলো হলো :

 

  •   নিত্যকার বসবাসকৃত খরচ। যেমন : পোশাক, চিকিৎসা, পরিবেশ, যাতায়াত খরচ ইত্যাদি
  •   সামাজিক খরচ। যেমন : শিক্ষা খাতে খরচ, বই খাতা, প্রশিক্ষণ, দান, বিয়ের দাওয়াত সহ যাবতীয়
  •   বিনোদন সংক্রান্ত খরচ। যেমন : রেস্টুরেন্টের বিল, অনলাইন স্ট্রিমিং এর খরচ, ঘুড়তে যাওয়া সংক্রান্ত
  •   অন্যান্য যাবতীয় খরচ। যেমন : যেগুলো উপরের ধাপ গুলোতে রাখা যায় না এমন সব খরচ।

 

আচ্ছা, খরচের ধরন সম্পর্কে তো জানা গেলো এবার বলছি কাকিবো প্লানারে এটা কিভাবে উপকার করবে।

ধরুন আপনার ১ম ক্যাটাগরিতে খরচ হলো ৪০ হাজার টাকা আর ২য় ক্যাটাগরিতে খরচ হলো ৩০ হাজার টাকা।

এক্ষেত্রে প্রাথমিক ভাবে একটা ধারনা করে খরচ হওয়ার আগেই মাসের প্রথম দিকে একটা সচ্ছ ধারনা পাচ্ছেন যে আপনার আনুমানিক কত খরচ হবে।

এবং ইম্পট্যান্ট পার্টটা এই যে আপনি খরচ করার আগেই কি পরিমানের অর্থ সেভ করতে চান সেই সম্পর্কে ২য় প্রশ্নেই ধরে রেখেছেন।

তবে সবার ক্ষেত্রে কিন্তু আয় থেকে ব্যয় কম হয় না। ধরা যাক, আপনার ১ম ক্যাটাগরিতে ব্যয় হয়েছে ৬০ হাজার ও ২য় ক্যাটাগরিতে ৫০ হাজার এবং আপনি সেভ করতে চাচ্ছেন ১০ হাজার।

তাহলে আপনার মাসিক আয় হওয়ার উচিৎ ছিলো ১ লাখ ২০ হাজার। কিন্তু প্রথম প্রশ্নের জবাব মোতাবেক দেখা যাচ্ছে আপনার আয় ১ লাখ টাকাই।

তাহলে কি আপনার সেভ হওয়ার বদলে ঋন করা লাগছে না? অবশ্যই লাগছে। আর এমন সিচুয়েশন হলে কাকিবো পদ্ধতি অনুযায়ী এর সমাধান রয়েছে ৪থ ধাপে।

 

৪. কিভাবে সঞ্চয়ের ক্ষেত্রে উন্নতি করা যায় | How can you improve next month

 

দেখুন, সেভিংসে উন্নতি করার দুইটা দিক আছে। এক আপনাকে আয় বাড়াতে হবে, নয়তো ব্যয় কমাতে হবে। এক্ষেত্রে হয় কি, অনেকের আয় বাড়ানোটা কষ্টসাধ্য বিষয় হয়ে দাঁড়ায়।

এক্ষেত্রে ব্যয় গুলো নিয়ন্ত্রণ করা যেতে পারে। তবে ব্যয়ের মধ্যে যে ধাপ বিষয়ক ভাগ গুলো আছে সেগুলো মাথায় রাখতে হবে।

প্রথমত ক্যাটাগরি ১ এর ব্যয় গুলো সব সময় হবেই। এটা পরিবর্তন করা সম্ভবই নয়। তাহলে ২ নাম্বার ক্যাটাগরিতে থাকা ব্যয় গুলো লিস্ট করার পর সেই লিস্ট থেকে কিছু ব্যয় ছাটাই করতে হবে।

এবার প্রশ্ন আসতেই পারে, সেটাই তো সম্ভব হচ্ছে না। কোনো ব্যয় না করে থাকা যাচ্ছে না। তার জন্য বলবো, আপনাকে প্রথম দিকে সম্পুর্ন ভাবে বাদ দিয়ে দিতে হবে না কোনোটাই।

খেয়াল করুন, আমরা এমন অনেক ব্যয় করে থাকি যার ফলাফল আসবে হয়তো কিছু মাস পরে। অথবা এখনই ওই খরচটা করার প্রয়োজন নেই, কিছু দিন পরে খরচ করলেও আহামরি অসুবিধা হয়ে যাবে না। সেগুলো ফোকাস করুন।

মনে রাখবেন, আপনার বাজেট প্লানিং হচ্ছে একটি মাসকে কেন্দ্র করে। তাই যে সকল খরচের ফলাফল এই মাসের মধ্যেই পাওয়া যাবে সেসব বাদে বাকি গুলো স্কিপ করতে পারেন।

এভাবে ধিরে ধিরে আপনার চাহিদা ও লাইফ স্টাইলের ধরন অনুসরণ করে নিজের মত করে বাজেট ও সেভিংস এর বিষয় গুলো সম্পন্ন করতে হবে।

 

ইতিকথা

 

Japanese Kakeibo Method এর যথাযথ ব্যবহার করতে পারলে অবশ্যই একটা ভালো ফিডব্যাক পাবেন আশা করছি।

এক্ষেত্রে প্রথমদিকে কিছুটা বিরক্তিকর মনে হলেও দুই এক মাস কন্টিনিউ করার পর যখন দেখবেন ভালো ফিডব্যাক পাচ্ছেন তখন নিজেই এই পদ্ধতির উপর আকৃষ্ট হবেন।

Personal Finance হোক কিংবা Saving, Investment হোক কিংবা Loan প্রতিটি বিষয়ের প্রপার গাইডলাইন রয়েছে এখানে। প্রয়োজনের সুবাদে জেনে নিতে পারেন যেকোনো সময়ে।

 

 

 

 

 

 

 

 

Leave a Comment