গণতান্ত্রিক ও স্বৈরতান্ত্রিক নেতৃত্বের মধ্যে পার্থক্য । নেতৃত্বদান – ব্যবস্থাপনা 

উক্ত আর্টিকেলে গণতান্ত্রিক ও স্বৈরতান্ত্রিক নেতৃত্বের মধ্যে পার্থক্য নিয়ে আলোচনা করা হবে। ইতিপূর্বে গণতান্ত্রিক নেতৃত্ব কি এবং স্বৈরতান্ত্রিক নেতৃত্ব কি সেই বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য দেয়া হয়েছে। এবং তারই ধারাবাহিকতায় এবার জানাবো গণতান্ত্রিক ও স্বৈরতান্ত্রিক নেতৃত্বের মধ্যে পার্থক্য সম্পর্কে। 

গণতান্ত্রিক নেতৃত্ব

গণতান্ত্রিক নেতৃত্ব সম্পূর্ণ বিপরীত ধর্মী প্রতিষ্ঠানের অধীনস্থদের সহযোগিতা উপর ভিত্তি করে গণতান্ত্রিক নেতৃত্ব প্রতিষ্ঠিত। এটি একটি উদারনৈতিক নেতৃত্ব। এই ধরনের নেতৃত্বে অনন্ত স্তলোদের সাথে আলাপ আলোচনা ও মতামত গ্রহণ এবং সংশ্লিষ্ট অন্যান্যদের সাথে পরামর্শ করে সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়। ফলে গণতান্ত্রিক নেতৃত্ব ক্ষমতা ও সিদ্ধান্ত গ্রহণ বিকেন্দ্রীকরণে আগ্রহী থাকে।

স্বৈরতান্ত্রিক নেতৃত্ব

স্বৈরতান্ত্রিক নেতৃত্ব নেতা নিজেকে সকল ক্ষমতার অধিকারী মনে করেন। তিনি অধস্তনদের কোন প্রকার মতামত। | গ্রহণ না করে একাই সকল সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেন এবং অধস্তনদের সিদ্ধান্ত বাস্তবায়ন করতে বাধ্য করেন। তিনি অধস্তনদের বল প্রয়ােগ, আদেশ এবং ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে কাজ আদায় করেন। এরূপ নেতা ক্ষমতা আঁকড়ে ধরেন এবং কতৃত্ব হস্তান্তরে সম্পূর্ণরূপে নারাজ থাকেন

গণতান্ত্রিক নেতৃত্বে ক্ষমতার প্রয়ােগ ও সিদ্ধান্ত গ্রহণে অধস্তন কর্মীর অংশগ্রহণ উৎসাহিত করা হয়। পক্ষান্তরে, স্বৈরতান্ত্রিক নেতৃত্বে সিদ্ধান্ত গ্রহণ ও ক্ষমতা প্রয়ােগে নেতা একনায়কসুলভ আচরণ করেন। উভয় প্রকার নেততে যেসব পার্থক্য লক্ষ্য করা যায়, তা নিম্নে উল্লেখ করা হলাে :

গণতান্ত্রিক ও স্বৈরতান্ত্রিক নেতৃত্বের মধ্যে পার্থক্

পার্থক্যের বিষয় গণতান্ত্রিক নেতৃত্ব স্বৈরতান্ত্রিক নেতৃত্ব 
সিদ্ধান্ত গ্রহণ (Taking decision) সিদ্ধান্ত গ্রহণে অধস্তনের মতামত ও পরামর্শ গ্রহণ করা হয়। নেতা এককভাবে সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেন।
কর্তৃত্ব হস্তান্তর (Delegation of authority) প্রয়ােজনে অধস্তনদের হাতে কর্তৃত্ব ও ক্ষমতা হস্তান্তর করা হয়। কর্তৃত্ব ও ক্ষমতা নেতার হাতে পুঞ্জীভূত থাকে
কর্মী মূল্যায়ন (Employee evaluation) এখানে কর্মীকে মানবিক দৃষ্টিকোণ থেকে বিবেচনা করা হয় এবং কর্মীর মতামতকে গুরুত্ব দেয়া হয় কর্মীদের মানবিক দৃষ্টিকোণ থেকে বিবেচনা করা হয় না এবং তাদের মতামত গ্রাহ্য করা হয় না 
কর্মীদের মনােবল (Mental strength of employee)  এক্ষেত্রে কর্মীরা উচ্চ মনােবল সম্পন্ন হয় এখানে কর্মীরা নিম্ন মনােবল সম্পন্ন হয়
যােগাযােগ (Communication)  এখানে নেতা সবসময় অধস্তনের সাথে যোগাযোগ রক্ষা করেন এখানে নেতা কর্মীর সাথে আনুষ্ঠানিক যোগাযোগ রক্ষা করেন
তত্ত্বাবধান (Supervision) এখানে কর্মীদের খুব কাছে থেকে তত্ত্বাবধান করেন প্রয়ােজনীয় পরামর্শ উপদেশ দেন তত্ত্বাবধানের চেয়ে কর্মীকে নানা বন্ধনে  নিয়ন্ত্রণে রাখা হয়
নিয়ন্ত্রণ (Control) পরামর্শ ও সংশােধনের সুযােগ দিয়ে কাজ আদায় করা হয় এখানে ভয় ও শাস্তি প্রদানের মাধ্যমে নিয়ন্ত্রণ করা হয়

 

অতঃপর, উপযুক্ত আলােচনায় বলা যায় যে, গণতান্ত্রিক এবং স্বৈরতান্ত্রিক নেতৃত্বের মধ্যে মেজর পার্থক্য থাকলেও তাদের মাঝে কিছু মিলও খুঁজে পাওয়া যায় যা ইতিমধ্যে উল্লেখ্য করা হয়েছে। তাছাড়া নেতৃত্ব বিষয়ক অন্যান্য বিষয়বস্তু সম্পর্কে জানতে উক্ত লিংকটি ফলো করুন। 

 

Leave a Comment