স্বৈরতান্ত্রিক নেতৃত্ব কাকে বলে । Autocratic Leadership । নেতৃত্বদান – ব্যবস্থাপনা 

স্বৈরতান্ত্রিক নেতৃত্ব কি এবং কাকে বলে সে সম্পর্কে জানাবো পুরো আর্টিকেলে। এই পাঠটি ব্যবস্থাপনার নীতিমালার অধ্যায় ৬ : নেতৃত্বদান এর আলোকে করা হয়েছে যা বিবিএ লেভেলের। তাহলে শুর করা যাক মূল পাঠ। 

স্বৈরতান্ত্রিক নেতৃত্ব নেতা নিজেকে সকল ক্ষমতার অধিকারী মনে করেন। তিনি অধস্তনদের কোন প্রকার মতামত। | গ্রহণ না করে একাই সকল সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেন এবং অধস্তনদের সিদ্ধান্ত বাস্তবায়ন করতে বাধ্য করেন। তিনি অধস্তনদের বল প্রয়ােগ, আদেশ এবং ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে কাজ আদায় করেন। এরূপ নেতা ক্ষমতা আঁকড়ে ধরেন এবং কতৃত্ব হস্তান্তরে সম্পূর্ণরূপে নারাজ থাকেন।

Bartol ও Martin এর মতে , “Autocratic behavioral style of leaders who tend to make unilateral decisions, dictate work methods, limit worker knowledge about goals to just the next step to be performed, and sometimes give feedback that is punitive.” 

অর্থাৎ, নেতৃত্বের স্বৈরতান্ত্রিক আচরণগত স্টাইল হচ্ছে যিনি একক সিদ্ধান্ত নেন, কার্যপদ্ধতির নির্দেশনা দেন, লক্ষ্য সম্পর্কে কমরি জ্ঞানকে সীমিত রেখে শুধুমাত্র কার্যসম্পাদনের পরবর্তী পদক্ষেপ জানান এবং খুব কমই ফলাবর্তন করেন যা কষ্টসাধ্য মনে করেন। 

এরূপ নেতৃত্বে যােগাযােগ মূলত নিম্নমুখী হয় এবং নিজস্ব ব্যক্তিত্বের প্রভাবে অধস্তনরা নির্দেশ মেনে চলতে বাধ্য থাকেন। ঘনিষ্ঠ তত্তাবধান, নির্দিষ্ট আদেশ ও নির্দেশ দানের উপর এ ধরনের নেতৃত্ব প্রতিষ্ঠিত। স্বৈরতান্ত্রিক নেতৃত্ব সমুদয় ক্ষমতা ও দায়িত্ব তাঁর নিজস্ব মনে করেন। 

প্রভুত্বমূলক নেতৃত্ব ডগলাস ম্যাকগ্রেগরের X তত্ত্বের (Theory-X) অনুরূপ। এরূপ নেতা মনে করেন মানুষ কাজ অপছন্দ করে এবং সুযােগ পেলেই দায়িত্ব এড়াতে চায়। তাই প্রাতিষ্ঠানিক উদ্দেশ্য অর্জনের লক্ষ্যে অধস্তনদের উপর চাপ প্রয়ােগের প্রয়ােজন রয়েছে। 

প্রভুত্বমূলক নেততুকে Flippo দু’ভাগে ভাগ করছেন। যথা :

 (ক) কল্যাণমূলক স্বৈরতান্ত্রিক নেতৃত্ব এবং 

(খ) ম্যানিপুলেটিভ বা স্বৈরতান্ত্রিক নেতৃত্ব। 

প্রভূত্বমূলক নেতৃত্বের বৈশিষ্ট্য ও সুবিধা (Characteristics and advantages of autocratic leadership) : 

ক, এরূপ নেতৃত্বে অধস্তনদের ঘনিষ্ঠভাবে তত্ত্বাবধান করা হয় । 

খ, দ্রুত সিদ্ধান্ত গ্রহণ সম্ভব হয় এবং নিয়ন্ত্রণ কার্যকর হয় । 

গ. নির্দেশ দানের ঐক্য বজায় থাকে বলে কর্মীদের মধ্যে বিভেদ ও বিচ্ছিন্নতা দূর করে। 

ঘ, এরূপ নেতৃত্ব পরিকল্পনা অনুযায়ী কার্য সম্পাদন করে এবং অপেক্ষাকৃত অদক্ষ কর্মীদের দিয়ে কার্য সম্পাদন করা সহজতর হয়। 

উ, এরূপ নেতৃতু কর্মীদের মতামত গ্রহণ করে না এবং অসম্ভব লক্ষ্য নির্ধারণ করে।

চ, এরূপ নেতৃত্ব কর্মীদের পণ্য মনে করে এবং অনবরত চাপ প্রয়ােগ করে। ছ, এরূপ নেততু কর্তৃত্ব হস্তান্তর করে না এবং কর্মীদের নেতিবাচক প্রেষণা দ্বারা কর্মে উদ্বুদ্ধ করতে চেষ্টা করে।

প্রভূত্বমূলক নেতৃত্বের সীমাবদ্ধতা (Limitation of Autocratic leadership)

ক. এরূপ নেতৃত্ব কর্মীদের কাজে অনুৎসাহী করে কর্মীর মনােবল বিনষ্ট করে।

 খ, এরূপ নেতৃত্ব একনায়কতন্ত্রের মনােভাব গড়ে তােলে।

গ. এরূপ নেতৃত্ব কর্মীদের হতাশার সৃষ্টি করে কার্যে অনুপস্থিতির হার বৃদ্ধি করে

ঘ, প্রভূতুমুলক নেতত কমরি উদ্যোগ ও সৃজনশীলতা বিনষ্ট করে 

ঙ,  এ ধরনের নেতত কমাদের মনে শাস্তি ও ভীতির সঞ্চার করে, কাজের জন্য প্রেষণা দান করে না। ফলে কর্মীরা এরূপ নেতাকে অপছন্দ করে এবং সম্মান দেখায় না।।

পরিশেষে, এই ছিলো স্বৈরতান্ত্রিক নেতৃত্ব সংক্রান্ত কিছু বিষয় নিয়ে আলোচনা। এরুপ ছোট ছোট বিষয়ে এর বিস্তারিত ব্যাখ্যা প্রতিনিয়ত Salim Speaking ব্লগে আপলোড করা হয়ে থাকে। Keep in Touch. 

Leave a Comment