বর্তমানে সবচেয়ে লাভজনক ব্যবসা | সময় উপযোগী ১০ টি লাভজনক ব্যবসার আইডিয়া  

সম্পুর্ন হালাল ভাবে উপার্জন করার সর্বোত্তম মাধ্যম হলো ব্যবসা। বর্তমানে সবচেয়ে লাভজনক ব্যবসা সম্পর্কে জেনে পছন্দের একটি বাছাই করে আয় শুরু করতে পারেন।

মানুষের বিভিন্ন প্রয়োজন এবং চাহিদা কে কেন্দ্র করে দরকার পড়ে বিভিন্ন সেবা ও পণ্যের। সেই সেবা ও পণ্যের চাহিদা পূরণের জন্য গড়ে ওঠে বিভিন্ন ধরণের ব্যবসা।

যেমনঃ মানুষের খাদ্যের চাহিদা রয়েছে। এটি নিত্যপ্রয়োজনীয় বিষয়ের একটি। তাই এ চাহিদা পূরণ করে ব্যবসায় নিয়োজিত আছে অসংখ্য মানুষ। খাদ্যের বিভিন্ন ধরণ আছে। বিভিন্ন ধরণ নিয়ে বিভিন্ন খাদ্যের ব্যবসা পরিচালিত হচ্ছে।

অসংখ্য ব্যবসা এর ভীড়ে বর্তমানে সবচেয়ে লাভজনক ব্যবসা কোনগুলো – এটি জানা একটি গুরুত্বপূর্ণ ব্যাপার। আমাদের আজকের জানার বিষয় হলো – সময় উপযোগী ১০ টি লাভজনক ব্যবসার আইডিয়া সম্পর্কে।

তো কথা না বাড়িয়ে বর্তমান সময়ের প্রেক্ষাপটে লাভজনক ১০টি ব্যবসার আইডিয়া সম্পর্কে চলুন জেনে নেয়া যাকঃ

১০টি লাভজনক ব্যবসার আইডিয়া

বর্তমান সময়ে ভাল প্রফিট মিলছে এমন ১০টি লাভজনক ব্যবসার আইডিয়া সম্বন্ধে নীচে উল্লেখ করা হলো। প্রতিটির সম্পর্কে ব্যাসিক কিছু ধারনা দেয়ার মাধ্যমে বিষয় গুলো বুঝানোর চেষ্টা করা হবে। 

১। কাপড়ের ব্যবসা 

মানুষের পাঁচটি মৌলিক চাহিদার মধ্যে কাপড় একটি। তাই এর চাহিদাও ব্যাপক। মানুষ পোশাকে নিত্যনতুন ডিজাইন পেতে পছন্দ করে। বয়স অনুযায়ী নারী-পুরুষের পোশাকের রয়েছে অনেক ভিন্নতা।

এই বিষয়গুলো খেয়াল রেখে আপনি কাপড়ের ব্যবসা শুরু করতে পারেন। বঙ্গবাজার, ইসলামপুর, নিউমার্কেট থেকে পাইকারি দরে পোশাক কিনে সেগুলো বিক্রয় করতে পারেন। 

প্রাথমিকভাবে, ছোট একটি দোকান নিয়ে শুরু করতে পারেন। এছাড়াও অনেকে অনলাইনে নিজেদের ওয়েবসাইট খুলে এবং সোশ্যাল সাইটে মার্কেটিং করার মাধ্যমেও কাপড়ের ব্যবসা করছে।

দোকান নিয়ে কাপড়ের ব্যবসা করার জন্য মূলধন নূন্যতম ২ লক্ষ টাকা এবং অনলাইনে কাপড়ের ব্যবসা করার জন্য ২০ হাজার টাকা যথেষ্ট। ব্যবসাতে লাভ হলে আস্তে আস্তে এর পরিধি বাড়িয়ে নিতে পারেন।

২। অনলাইন স্টোর বা ই-কমার্স ব্যবসা

পৃখিবীর শীর্ষ লাভজনক ব্যবসা গুলোর মধ্যে ই-কমার্স একটি। এটি হলো ইলেকট্রনিক কমার্স যা একটি অনলাইন জেনারেল স্টোরের মতো। আমরা ভ্যারাইটিজ জেনারেল স্টোর থেকে যেমন পছন্দসই বিভিন্ন জিনিস কিনি, ই-কমার্স ও এরকম।

এটি একটি অনলাইন শপ, যে ব্যবস্থায় মানুষ ওয়েবসাইট থেকে নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্য বা সেবা ক্রয় করে থাকে। আপনিও এরকম একটি ই-কমার্স ওয়েবসাইট তৈরী করে, সেখানে পণ্য আপলোড দিয়ে আয় করতে পারেন।

প্রাথমিকভাবে, ২/১টি পণ্য নিয়ে কাজ শুরু করতে পারেন। প্রথমেই অনেক প্রকার পণ্য নিয়ে কাজ শুরু করার প্রয়োজন নেই। এ ব্যাপারে আরও বিস্তারিত জানতে গুগল এবং ইউটিউব রিসার্চ করতে পারেন।

৩। হস্তশিল্পের ব্যবসা

আমাদের দেশীয় ঐতিহ্যের কথা আমরা কমবেশি প্রায় সবাই জানি। গ্রামীণ পরিবেশে বিভিন্ন ধরনের হস্তশিল্প আজও দেখা যায়। নকশিকাঁথা থেকে শুরু করে বাঁশ ও বেতের তৈরি বিভিন্ন নয়নাভিরাম শিল্পকাজ ব্যাপক জনপ্রিয়।

এছাড়াও মাটির তৈরি বিভিন্ন শো-পিস রয়েছে। যেগুলো গ্রামাঞ্চলের পাশাপাশি শহুরে জীবনেও মানুষ সৌন্দর্যের জন্য ব্যবহার করে থাকে। শহরে এসবের বেশ ভাল চাহিদা এখনো আছে।

তাই আপনি হস্তশিল্পের বিভিন্ন পণ্যের ব্যবসা করতে পারেন। যদি নিজে কাজ পারেন, তাহলে নিজে বিভিন্ন পণ্য তৈরি করে বিক্রয় করতে পারেন। যদি কাজ নাও পারেন, তাহলে গ্রাম থেকে পাইকারি দরে পণ্য এনে শহরে ভাল দামে বিক্রয়ের মাধ্যমে ব্যবসা করতে পারেন।

৪। কুরিয়ার ব্যবসা

অনুকূল এবং প্রতিকূল – সব রকমের অবস্থায় প্রায় সমান চাহিদাসম্পন্ন একটি লাভজনক ব্যবসা হচ্ছে কুরিয়ার ব্যবসা। পাইকারি ব্যবসায়ী এবং অনলাইন ব্যবসায়ীদের জন্য কুরিয়ার একটি অতি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়।

এছাড়া বিভিন্ন প্রয়োজনে সাধারণ মানুষও কুরিয়ার সার্ভিস ব্যবহার করে থাকেন। এই প্রয়োজন এবং গুরুত্বের কথা বিবেচনা করে আপনি কুরিয়ার ব্যবসা শুরু করতে পারেন।

ব্যাক্তিগত উদ্যোগে অথবা কোন কুরিয়ার সার্ভিস কোম্পানির এজেন্সি হিসেবে কুরিয়ার সার্ভিস ব্যবসা করা যায়। যদি আপনি তুলনামূলক সহজভাবে এ ব্যবসাতে নামতে চান, তাহলে এজেন্সি হিসেবে শুরু করাটাই রেকমেন্ডেড।

কেননা, এতে পরিচিতি বাড়ানো বা প্রচারণা করার দরকার তেমন নেই। তাছাড়া এতে ব্যক্তিগত কুরিয়ার ব্যবসার চেয়ে কম মূলধন বিনিয়োগেই ব্যবসা শুরু যায়, যা নতুনদের জন্য বেশ সুবিধাজনক একটি বিষয়।

৫। অনলাইন কোর্স ব্যবসা

আপনি যদি কোন কাজে বিশেষ দক্ষ হয়ে থাকেন, তাহলে সে কাজের দ্বারা ব্যবসা করতে পারেন। ধরুন, আপনি একজন প্রফেশনাল ওয়েব ডিজাইনার। এই কাজ রিলেটেড ধারাবাহিক টিউটোরিয়াল তৈরি করতে পারেন।

সেগুলো নিজস্ব ওয়েবসাইটের মাধ্যমে নির্দিষ্ট অর্থের বিনিময়ে বিক্রয় করার মাধ্যমে অনলাইন কোর্সের ব্যবসা করতে পারেন। তবে এক্ষেত্রে আপনি যে বিষয়ে কোর্স তৈরি করবেন, সে বিষয়ে আপনাকে অবশ্যই এক্সপার্ট বা বিশেষজ্ঞ হতে হবে।

মোটকথা, আপার কোর্সগুলো টাকা দিয়ে কেনার মাধ্যমে মানুষ যাতে ভাল কিছু ক্লিয়ারলি বুঝতে ও শিখতে পারে; সে বিষয়টি লক্ষ্য রেখে আপনাকে কাজ করতে হবে। মানুষ উপকার পেলে আপনার কাছে আরও কোর্স কিনতে আগ্রহী হবে এবং আপনার ব্যবসায়ীক লাভ বাড়বে ইনশা আল্লাহ্।

৬। গাছের ব্যবসা

গাছের ও বনারণ্যের সৌন্দর্য পছন্দ করে না – এমন মানুষ খুবই কম। অসংখ্য মানুষ আছেন, যারা বৃক্ষরোপণ করতে এবং গার্ডেনিং বা বাগান করতে ভালবাসেন।

ফেসবুকের বিভিন্ন গ্রুপে এবং পোস্টে গাছ বিষয়ক অনেক কিছু দেখা যায় – যা প্রমাণ করে গাছের প্রতি তাদের সখ্যতার কথা। আর পরিবেশ বিপর্যয় বিবেচনায় এটি বর্তমান সময়ের জন্য খুব জরুরি।

আপনি বিভিন্ন গাছের চারা, গাছ এবং সার বিক্রয়ের মাধ্যমে গাছের ব্যবসা করতে পারেন। ছোট একটি খোলা জায়গাবিশিষ্ট দোকান নিয়ে সহজেই এটি শুরু করতে পারেন। 

৭। জুতার ব্যবসা

জুতা আমরা সবাই ব্যবহার করে থাকি। রাফ ইউজ করার জন্য বা কোন বিশেষ কোথাও যাবার জন্য আমরা অনেকেই ভিন্ন ভিন্ন জুতা ব্যবহার করি। আবার জুতার মধ্যে রয়েছে বিভিন্ন ধরন বা ক্যাটাগরি।

যারা নিয়মিত দৌড়ঝাঁপ বা খেলাধুলা করে থাকেন, তাদের জন্য আবার আলাদা ধরনের জুতার প্রয়োজন হয়। সব মিলিয়ে দেখা যাচ্ছে জুতার বেশ ভাল চাহিদা রয়েছে।

জুতার বিভিন্ন দিক রয়েছে। সেসব সম্পর্কে আপনার ভাল জ্ঞান থাকলে এটিতে আপনি স্বাচ্ছন্দ্যে নামতে পারেন; কেননা এটি অনেক লাভজনক একটি ব্যবসা।

নূন্যতম ৫ লক্ষ টাকা মূলধন হলে এ ব্যবসা দোকান ভাড়া নিয়ে ছোট পরিসরে শুরু করা সম্ভব। এছাড়াও ১০/১৫ হাজার টাকা বিনিয়োগে অনলাইন কে কেন্দ্র করেও এ ব্যবসা শুরু করতে পারেন।

৮। চালের ব্যবসা

চাল আমাদের দেশের প্রধান খাদ্য। এর রয়েছে বিপুল চাহিদা। প্রতিদিনই চালের বাজারে কেনাবেচা হয়ে থাকে। তাই আপনি এই ব্যবসা করতে পারেন। বাংলাদেশের পাবনা জেলা চালের জন্য বিখ্যাত।

সেখান থেকে পাইকারি মূলে চাল এনে নিজস্ব দোকানে বিক্রয় করতে পারেন। তবে এ ব্যবসা করার জন্য মূলধন বেশি প্রয়োজন হয়। নূন্যতম ৮ লক্ষ টাকা হলে এ ব্যবসা সুন্দরভাবে শুরু করা সম্ভব।

এ ব্যবসাতে যত বেশি বিনিয়োগ করা যায়, তত বেশি লাভ পাওয়ার সম্ভাবনা থাকে। তাই আপনার কাছে বড় অঙ্কের মূলধন থাকলে আপনি এ ব্যবসাটি শুরু করতে পারেন।

৯। ফার্ম ব্যবসা

গরু এবং ছাগল ফার্ম ভিত্তিতে পালন করার মাধ্যমে ব্যবসা করতে পারেন। এটি খুবই লাভজনক ব্যবসা এর একটি। দুধ পুষ্টিগুণ সমৃদ্ধ একটি খাদ্য, যার খুব চাহিদা আছে।

এছাড়াও গরু এবং ছাগলের মাংসের চাহিদাও অনেক। অনেক দামে এদের মাংস বিক্রয় হয়ে থাকে। সুতরাং এটি কতটা লাভজনক ব্যবসা তা সহজেই অনুমেয়।

তাই আপনি ছোট পরিসরে কয়েকটি গরু বা ছাগল নিয়ে ফার্ম করতে পারেন। ধৈর্য্যের সাথে সঠিক নিয়মে কাজ করতে পারলে অল্প সময়েই লাভবান হতে পারবেন ইনশা আল্লাহ্।

১০। চা পাতার ব্যবসা

বর্তমান সময়ে চা ছোট-বড় প্রায় সবাই পছন্দের একটি পানীয়। শুধু বাংলাদেশেই নয়; বাংলাদেশের বাইরেও বিশ্বের বিভিন্ন দেশে এটি ব্যাপক জনপ্রিয়। তাই এর চাহিদা অনেক।

আপনি চা পাতার ব্যবসা তাই সহজেই করতে পারেন। চা এর বিভিন্ন ধরন রয়েছে। যেমনঃ সিডি, আরডি, ডাস্ট, বিওপি ইত্যাদি। চা পাতা চায়ের দোকানগুলোতে সাপ্লাই দিয়ে ব্যবসা করতে পারেন।

এছাড়া নিজস্ব একটা দোকান নিয়ে সেখানে চা পাতার ডিলারশীপ নিয়েও ব্যবসা করতে পারেন। ডিলারশীপ এর ক্ষেত্রে বড় সুবিধা হলো অবিক্রীত মাল কোম্পানী কে শর্তসাপেক্ষে ফেরত দিয়ে অর্থ ফেরত পাওয়া যায়। ফলে এতে ক্ষতির ঝুঁকি বেশ কম।

চা পাতার ব্যবসা ডিলারশীপের ভিত্তিতে করার জন্য নূন্যতম ২ লক্ষ টাকা প্রয়োজন। এছাড়া ১০ থেকে ২০ হাজার টাকা বিনিয়োগে অনলাইনেও এ ব্যবসা করতে পারেন। তবে উত্তম হলো নিজস্ব দোকান নিয়ে এ ব্যবসাটি করা। তার পাশাপাশি অনলাইনে করতে পারেন।

ইতিকথা

উপরে উল্লিখিত ১০টি লাভজনক ব্যবসার আইডিয়া অনুযায়ী কাজ শুরু করার পূর্বে ভালমতো ব্যবসা সম্পর্কে জানতে হবে ও শিখতে হবে। কারণ, অপরিপক্ব অবস্থায় ব্যবসা করতে নামা একদম অনুচিত।

একটি ব্যবসা কখনোই হুট করে শুরু করা উচিত নয়। কেননা, এর ফলে আপনার মূলধন নষ্ট হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। একটি ব্যবসা লাভজনক হলেই যে কেউ যেভাবে ইচ্ছা তাতে নেমে যাবে; বিষয়টি এমন নয়।

 

যে ব্যবসা আপনি করতে চান – সে সম্পর্কে ভালমতো জেনে, শিখে এবং পরিকল্পনা করে তারপর নামতে হবে। এছাড়াও ধৈর্য্য, সততা, নিষ্ঠা এবং পরিশ্রমের সাথে লেগে থাকতে হবে। তবেই ব্যবসাতে সফলতা পাবেন ইনশা আল্লাহ্। এছাড়া প্রস্তুতির জন্য চেক আউট করুন আমাদের ব্যবসা আইডিয়া সংক্রান্ত ক্যাটাগরিতে। 

 

3 thoughts on “বর্তমানে সবচেয়ে লাভজনক ব্যবসা | সময় উপযোগী ১০ টি লাভজনক ব্যবসার আইডিয়া  ”

Leave a Comment