সঞ্চয়পত্র কি | সঞ্চয়পত্রের নতুন নিয়ম | বাংলাদেশে সঞ্চয়পত্র ক্রয়ের নিয়ম ২০২২

ঝুঁকি মুক্ত উপায়ে দীর্ঘ মেয়াদি বিনিয়োগের মাধ্যম হলো সরকরি সঞ্চয়পত্র। সঞ্চয় প্রিয় নাগরিক সহজেই করে ফেলতে পারে দীর্ঘ কালীন সঞ্চয়ি বিনিয়োগ।

যেহেতু সঞ্চয়পত্র একটি দীর্ঘ কালীন বিনিয়োগ তাই সল্প ভুলেও মাশুল দিতে হতে পারে অনেক বড়। তাই প্রতিটি বিষয়ে বিস্তারিত ধারনা নিয়েই সঞ্চয়পত্র কেনা উচিৎ।

এক্ষেত্রে প্রাথমিক ভাবে সঞ্চয়পত্র সম্পর্কে বিস্তারিত ধারনা পেতে এই আর্টিকেলটি ভালো ভাবে পড়তে পারেন। খুব সহজ ভাষায় প্রতিটি বিষয় ব্যাখ্যা করাতে আছে আমি সেলিম আর আপনি আছেন আমার Salim Speaking নামক ব্লগে।

সঞ্চয়পত্র কি?

বাংলাদেশ জাতীয় সঞ্চয় অধিদপ্তরের অধীনে জনগনকে সঞ্চয়ে উৎসাহিত করা, ও ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকা ক্ষুদ্র সঞ্চয় জাতীয় স্ক্রিমে আহরণ করার উদ্দ্যেশে এবং জনসাধারণের ঝুঁকি মুক্ত ভাবে বিনিয়োগের পথ তৈরি করার নামই সঞ্চয়পত্র।

সঞ্চয়পত্র কত প্রকার?

সঞ্চয় পত্র সাধারণত দুই ধরনের হয়। যথা : ১. বাংলাদেশিদের জন্য ২. বাংলাদেশি প্রবাসীদের জন্য। এই দুইটিকে আবার মেয়াদ ভিত্তিক ভাগ করা হয়েছে যা ধাপে ধাপে দেখানো হবে।

বাংলাদেশে বসবাসকারী নাগরিকদের জন্য

৫ বছর মেয়াদি বাংলাদেশ সঞ্চয় পত্র
৩ বছর মেয়াদি মুনাফা ভিত্তিক সঞ্চয় পত্র
৫ বছর মেয়াদি পরিবার সঞ্চায় পত্র
৫ বছর মেয়াদি পেনশন সঞ্চয় পত্র

বাংলাদেশি প্রবাসিদের জন্য

১. Wage Earner Development Bond
২. Us Doller Investment Bond
৩. Us Doller premium Bond

সঞ্চয়পত্র কারা কিনতে পারবে?

৫ বছর মেয়াদি বাংলাদেশ সঞ্চয় পত্র : যেকোনো বাংলাদেশি নাগরিক একক বা যৌথভাবে কিনতে পারবে। এক্ষেত্রে অবশ্যই ১৮ বছরের উপর হতে হবে।

৩ বছর মেয়াদি মুনাফা ভিত্তিক সঞ্চয় পত্র : এটিতে মূলত ৩ মাস পর পর মুনাফা দেয়া হয়। যেকোনো বাংলাদেশি নাগরিক একক বা যৌথভাবে কিনতে পারবে। এক্ষেত্রে তাকেও অবশ্যই ১৮ বছরের উপর হতে হবে।

৫ বছর মেয়াদি পরিবার সঞ্চায় পত্র : যেকোনো বাংলাদেশি নারী নাগরিক যার বয়স ১৮ হয়েছে। এবং যদি কোনো পুরুষ পরিবার সঞ্চয়পত্র কিনতে চায় তাহলে তার বয়স ৬৫ হতে হবে।

৫ বছর মেয়াদি পেনশন সঞ্চয় পত্র : এটিতে মূলত ৩ মাস অন্তর মুনাফা ধরা হয়। এক্ষেত্রে সরকারি, সেমি সরকারি কর্মচারী বা Employees তাদের পেনশনেএ টাকায় এই সঞ্চয়পত্র কিনতে পারবে

সঞ্চয়পত্রের ক্রয়সীমা ও মিনিমাম লিমিটেশন

৫ বছর মেয়াদি বাংলাদেশ সঞ্চয় পত্র : একক নামে ৩০ লাখ টাকা ও যৌথ নামে ৬০ লাখ টাকা অব্দি সঞ্চয় পত্র কিনতে পারবে। এবং সর্বনিম্ন ১০০০ টাকার সঞ্চয়পত্র ক্রয় করতে হবে।

৩ বছর মেয়াদি মুনাফা ভিত্তিক সঞ্চয় পত্র : একক নামে ৩০ লাখ টাকা ও যৌথ নামে ৬০ লাখ টাকা অব্দি সঞ্চয়পত্র কিনতে পারবে। এবং সর্বনিম্ন ১ লাখ টাকার সঞ্চয়পত্র ক্রয় করতে হবে।

৫ বছর মেয়াদি পরিবার সঞ্চায় পত্র : সর্বোচ্চ ৪৫ লাখ টাকা অব্দি এবং সর্বনিম্ন ১০ হাজার টাকা অব্দি সঞ্চয়পত্র কেনা যাবে।

৫ বছর মেয়াদি পেনশন সঞ্চ য়পত্র : এক্ষেত্রে সর্বনিম্ন ৫০ হাজার টাকা থেকে শুরু করে সর্বোচ্চ ৫০ লাখ টাকা অব্দি একজন মানুষ সঞ্চয়পত্র কিনতে পারবে।

বিঃদ্রঃ এছাড়া সব গুলো সঞ্চয় পত্র মিলিয়ে যদি কেউ কিনে থাকে এক্ষেত্রে একক নামে সর্বোচ্চ ৫০ লাখ টাকা ও যৌথ নামে ১ কোটি টাকা অব্দি সঞ্চয়পত্র কিনতে পারবে।

সকল সঞ্চয়পত্রের মুনাফার হার

৫ বছর মেয়াদি বাংলাদেশ সঞ্চয়পত্র

১৫ লাখ টাকা অব্দি : ১১.২৮%
১৫ লাখ থেকে ৩০ লাখ টাকা অব্দি : ১০.৩০%
৩০ লাখ থেকে সর্বোচ্চ অব্দি : ৯.৩০%

৩ বছর মেয়াদি মুনাফা ভিত্তিক সঞ্চয়পত্র

১৫ লাখ টাকা অব্দি : ১১.০৪%
১৫ লাখ থেকে ৩০ লাখ টাকা অব্দি : ১০.০০%
৩০ লাখ থেকে সর্বোচ্চ অব্দি : ৯.০০%

৫ বছর মেয়াদি পরিবার সঞ্চায়পত্র

১৫ লাখ টাকা অব্দি : ১১.৫২%
১৫ লাখ থেকে ৩০ লাখ টাকা অব্দি : ১০.৫০%
৩০ লাখ থেকে সর্বোচ্চ অব্দি : ৯.৫০%

৫ বছর মেয়াদি পেনশন সঞ্চয়পত্র

১৫ লাখ টাকা অব্দি : ১১.৭৬%
১৫ লাখ থেকে ৩০ লাখ টাকা অব্দি : ১০.৭৫%
৩০ লাখ থেকে সর্বোচ্চ অব্দি : ৯.৭৫%

কোথায় থেকে সঞ্চয়পত্র কিনতে পারবো?

কখনই কোনো দালাল বা ৩য় পক্ষের কাছ থেকে সঞ্চয়পত্র কেনা থেকে বিরত থাকুন। অফিসিয়াল উপায় অনুসরণ করুন এবং আপনার অর্থের নিশ্চয়তা করুন। এক্ষেত্রে চারটি স্থান থেকে সঞ্চয় পত্র কেনা যাবে। সেগুলো হচ্ছে :

১. জাতীয় সঞ্চয় অধিদপ্তর : সারাদেশে ৮৩ টি জেলা ভিত্তিক কার্যালয় রয়েছে জাতীয় সঞ্চয় অধিদপ্তের। আপনার এড়িয়া অনুযায়ী কার্যালয়ে গিয়ে অফিসিয়ালি কিনতে পারবেন।

২. বাংলাদেশ ব্যাংক : সদরঘাট ও ময়মনসিংহ অফিস বাদে দেশের যেকোনো বাংলাদেশ ব্যাংকের অফিস থেকে সঞ্চয় পত্র কিনতে পারেন।

৩. পোস্ট অফিস : এটা প্রতিটা এড়িয়াতেই আছে তাই যাতায়াত সমস্যা সমাধানের ক্ষেত্রে পোস্ট অফিস ব্যবহার করতে পারেন।

৪. ব্যাংকের মাধ্যমে : শরিয়া মোতাবেক পরিচালনা হয় এমন ব্যাংক বাদে যেকোনো ব্যাংক থেকে সঞ্চয় পত্র কিনতে পারবেন। ব্যাংকের মাধ্যমে কেনা সব চেয়ে ভালো মাধ্যম কারন সঞ্চয় পত্রের টাকা গ্রহন ও প্রদান ব্যাংকের মাধ্যমেই হবে। তাই এক্ষেত্রে অতিরিক্ত ঝামেলা বহনের কাজটা ব্যাংক সয়ং করে নিবে।

কিভাবে সঞ্চয়পত্র কিনতে হয়?

১. প্রথমেই ব্যাংক একাউন্ট থাকতে হবে, যদি না থাকে তাহলে করে নিতে হবে।

২. এরপর যে পরিমানের সঞ্চয় পত্র কিনতে চান সম পরিমানের টাকা একাউন্ট রাখতে হবে।

৩. যে স্থান থেকে সঞ্চয় পত্র কিনতে চান সেখানে যাওয়ার পর একটি ডেবিট ইন্সট্রাকশন দেয়া হবে যেখানে উল্ল্যেখ থাকবে যে, আপনার ব্যাংক একাউন্ট থেকে টাকা সঞ্চয়পত্রে টাকা নেয়া হবে।

৪. সম্মতি জানানের এই পর্যায়ে আপনাকে বেশ কিছু ডকুমেন্টস সাবমিট করতে হবে বা দাখিলা দিতে হবে। সেই ডকুমেন্টস গুলো কি সেগুলোও জানিয়ে রাখছি।

সঞ্চয়পত্র কেনার জন্য প্রয়োজনীয় ডকুমেন্টস

১. সঞ্চয়পত্র ফর্ম (Prescribe Form) : এটি উক্ত স্থানে গেলে ফ্রিতেই দিবে অথবা অনলাইন থেকেও ডাউনলোড করে নিতে পারেন এই লিংক থেকে [সঞ্চয় পত্র ফ্রম ডাউনলোড] পরবর্তীতে ফ্রমটি সম্পুর্ন ভাবে পূরন করে জমা দিতে হবে।

২. সঞ্চয়পত্র হোল্ডার (Holder) ও একজন নোমিনি (Nominee) এর এক কপি পাসপোর্ট সাইজের রঙিন ছবি

৩. হোল্ডার ও নোমিনির জাতীয় পরিচয় পত্রের ফটোকপি। যদি নোমিনি ১৮ বছরের কম বয়সের হয় তাহলে জন্ম নিবন্ধন এর ফটোকপি দিতে হবে।
৪. ২ লাখ টাকার বেশি সঞ্চয়পত্র কিনলে E-TIN Certificate লাগবে।

সঞ্চয়পত্রের সংক্রান্ত গুরুত্বপূর্ণ বিষয় সমুহ

১. একক নামে সর্বোচ্চ ৫০ লাখ ও যৌথ নামে সর্বোচ্চ ১ কোটি টাকার সঞ্চয়পত্র কেনা যাবে

২. সঞ্চয়পত্রের কোনো প্রসেসিং ফি নেই

৩. কোনো Minor বা ১৮ বছরের কম কেউ সঞ্চয়পত্র কিনতে পারবে না

৪. সঞ্চয়পত্রে সর্বোচ্চ ৩ জন নমিনির নাম দেয়া যাবে

৫. ১৮ বছরের কম কাউকে নমিনি হিসেবে ধরা যাবে

৬. অন্য কারো ই-টিন দিয়ে সঞ্চয়পত্র কেনা যাবে না

৭. সঞ্চয়পত্র জামানত রেখে লোন নেয়া যাবে না

৮. ১ বছরের আগে সঞ্চয় পরে ভাঙালে কোনো মুনাফা পাওয়া যাবে না

৯. সঞ্চয়পত্রের মেয়াদ শেষ হওয়ার পর ৭২ ঘন্টার মধ্যে টাকা নিদিষ্ট ব্যাংক একাউন্টে যুক্ত হয়ে যাবে

১০. মেয়াদ শেষ হওয়ার আগে সঞ্চয় পত্র ভাঙতে চাইলে বা টাকা উঠাতে চাইলে সঞ্চয়পত্রের Acknowledgement Copy সাথে নিয়ে, যেখানে সঞ্চয় পত্র করেছেন সেখানে আসতে হবে।

১১. ৫ লাখ টাকা অব্দি সঞ্চয়পত্রেএ জন্য ৫% ট্যাক্স ও ৫ লাখ টাকার বেশি মুল্যের সঞ্চয় পত্র কিনলে ১০% ট্যাক্স কাটা হবে।

এই অব্দি প্রাথমিক ভাবে সঞ্চয়পত্র সংক্রান্ত প্রতিটি ডিটেলস সহজ ভাবে ব্যাখ্যা করার চেষ্টা করেছি। আশা রাখছি এই ক্ষুদ্র চেষ্টায় কিছুটা উপকার হয়েছে। এমনই সব ইনফরমেশন পাবেন এই ব্লগটিতে প্রতিনিয়ত। ধন্যবাদ

1 thought on “সঞ্চয়পত্র কি | সঞ্চয়পত্রের নতুন নিয়ম | বাংলাদেশে সঞ্চয়পত্র ক্রয়ের নিয়ম ২০২২”

Leave a Comment