সংগঠন কাঠামোর প্রকারভেদ | Type of Organisation Structure | ব্যবস্থাপনা

সংগঠন কাঠামো কি এবং সাংগঠনিক কাঠামোর উপাদানসমূহ এরপর সংগঠন কাঠামোর প্রকারভেদ সম্পর্কে জানুন আর্টিকেল এর মাধ্যমে। এখানে সংগঠন কাঠামোর প্রকারভেদ সমূহ চিত্রের সাহায্যে উপস্থাপন এবং বিষয়বস্তু ব্যাখ্যা করা হয়েছে।

প্রাতিষ্ঠানিক লক্ষ্যার্জনে কর্মীদের একত্রিত বা সম্মিলিতভাবে কাজ করার জন্য যে কাঠামাে গড়ে তােলা হয় তাকে সংগঠন কাঠামাে বলে। সংগঠনিক কাঠামো সম্পর্কে আরো জানতে এখানে ক্লিক করুন।

যে কোন প্রতিষ্ঠানের কার্যাবলি সুষ্ঠু ও সুশৃঙ্খলভাবে সম্পাদনের মাধ্যমে লক্ষ্যার্জন নিশ্চিতকরণে সংগঠন কাঠামাের বিশেষ গুরুত্ব রয়েছে। কেননা, এ ব্যবস্থায় সংগঠনের সদস্যদের কে কার উপর কর্তৃত্ব করবে, কে কার নিকট কাজের জন্য জবাবদিহি করবে প্রভৃতি বিষয় সুনির্দিষ্ট করে দেয়া হয়।

কোন প্রতিষ্ঠানের সংগঠন কাঠামাে সকল সময় অপরিবর্তিত থাকবে এমনটি বলা মুশকিল। কারণ পারিপার্শ্বিক অবস্থা ও পরিবর্তিত পরিস্থিতি সংগঠনকে প্রভাবিত করে।

তাই পারিপার্শ্বিক অবস্থা ও পরিবর্তিত পরিস্থিতির সাথে সঙ্গতি রেখে প্রতিষ্ঠানের সংগঠন কাঠামােও পরিবর্তন করতে হয়।

সংগঠন কাঠামোর প্রকারভেদ

মূলত সংগঠন কাঠামো দুই ভাবে গড়ে উঠে। আনুষ্ঠানিক এবং অনানুষ্ঠানিক। চিত্রেএ মাধ্যমে বিষয়টি তুলে ধরছি এতে বুজতে সুবিধা হবে।

সংগঠন কাঠামোর প্রকারভেদ

 

সংগঠন কাঠামোর মূলত দুই প্রকার। যথাঃ ১. আনুষ্ঠানিক সংগঠন ২. অনানুষ্ঠানিক সংগঠন। চিত্রে দেয়া প্রতিটি প্রকার গুলোকে এক এক করে বিস্তারিত ভাবে তথ্য দিয়ে বুজিয়ে দেয়া হচ্ছে।

আনুষ্ঠানিক সংগঠন কাকে বলে?

উধ্বতন ব্যবস্থাপনা কর্তৃক নিয়মতান্ত্রিক উপায়ে যে সংগঠন কাঠামাে গড়ে তােলা হয় তাকে আনুষ্ঠানিক সংগঠন বলে।

এরূপ সংগঠনে প্রত্যেক ব্যক্তির কর্তব্য ও দায়িত্বের সুস্পষ্ট সংজ্ঞা প্রদানের পাশাপাশি কাজের জন্য কে কার নিকট জবাবদিহি করবে তাও নির্ধারিত থাকে। যে সংগঠন সুনির্দিষ্ট নিয়মকানুন, পদ্ধতি ও প্রক্রিয়ার অধীনে পরিচালিত হয় তাকে আনুষ্ঠানিক সংগঠন বলে।

Trewatha & Newport এর মতে,
“The formal organisation is basically a goal oriented social entity which exists to accommodate the efforts of individuals and groups.”

অর্থাৎ, আনুষ্ঠানিক সংগঠন হলাে মূলত লক্ষ্যকেন্দ্রিক একটি সামাজিক সত্তা
যেখানে ব্যক্তিক ও দলের সামর্থ্যকে কাজে লাগানাের পরিবেশ বিদ্যমান থাকে।

Chester I. Barnard এর মতে, “Formal organisation is an organisation when the activities of two or more persons are consciously co-ordinated towards a given objective.”

অর্থাৎ, আনুষ্ঠানিক সংগঠন হলাে একটি সংগঠন যেখানে দুই বা ততােধিক ব্যক্তির কাজকে সচেতনভাবে একটি নির্দিষ্ট উদ্দেশ্য অর্জনের জন্য সমন্বিত করা হয়।

আনুষ্ঠানিক সংগঠনের প্রকারভেদসমূহ :

  • সরলরৈখিক সংগঠন
  • কার্যভিত্তিক সংগঠন
  • সরল রৈখিক ও বিশেষজ্ঞ কর্মী সংগঠন
  • কমিটি সংগঠন
  • মেট্রিক্স সংগঠন

আনুষ্ঠানিক সংগঠন এর প্রকারভেদ সম্পর্কে বিস্তারিত জানতে এখানে ক্লিক করুন। এখানে পাঁচটি প্রকার সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য দেয়া আছে।

অনানুষ্ঠানিক সংগঠন কাকে বলে?

সম্পর্কের মাধ্যমে যে সংগঠন কাঠামাের সৃষ্টি হয় তাকে অনানুষ্ঠানিক সংগঠন কাঠামাে বলে।

কোন প্রতিষ্ঠানে কর্মরত কর্মীদের আনুষ্ঠানিক সম্পর্কের বাইরে তাদের ব্যক্তিগত ভাব-বিনিময়, পারস্পরিক স্বার্থ সংশ্লিষ্ট বিষয় নিয়ে আলাপ-আলােচনার মাধ্যমে অনানুষ্ঠানিক সম্পর্ক গড়ে ওঠে। এরূপ সম্পর্ক হতে সৃষ্ট সংগঠনকে
অনানুষ্ঠানিক সংগঠন বলে।

বিশেষজ্ঞদের মতে অনানুষ্ঠানিক সংগঠন

Keith Davis বলেন , “Informal organisation is a network of personal and social relations not established or required by the formal organisation but arising spontaneously as people associate with one another.”

অর্থাৎ, আনুষ্ঠানিকভাবে প্রতিষ্ঠিত নয় বা আবশ্যক বিবেচিত নয় অথচ প্রতিষ্ঠানে ব্যক্তিগত ও সামাজিক সম্পর্কের ভিত্তিতে স্বতঃস্ফূর্তভাবে গড়ে উঠে এমনি সহযােগী ব্যক্তিবর্গের দলকে অনানুষ্ঠানিক সংগঠন বলে।

G. R. Terry এর মতে, “Henever people work together, informal groups are
bound together by various interests. Such groups constitute the informal organisation.”

অর্থাৎ, যখন লােকেরা কাজ করে, তখন তাদের মাঝে বিভিন্ন স্বার্থ সংশ্লিষ্ট বিষয় নিয়ে আলােচনা করতে হয় বলে অনানুষ্ঠানিক দলের সৃষ্টি হয়। এরূপ গড়ে ওঠা দলকে অনানুষ্ঠানিক সংগঠন বলে।

 

Leave a Comment