সংগঠনের বৈশিষ্ট্য গুলো কি কি | ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের সংগঠনের ধারনা ও বৈশিষ্ট্য 

ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের কার্যক্রম পরিচালনায় সংগঠন গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখে তবে সংগঠনের বৈশিষ্ট্য গুলো যথাযথ প্রয়োগের মাধ্যমেই তা করা সম্ভব।

তাই এই আর্টিকেলে ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের সংগঠনের বৈশিষ্ট্য গুলো কি কি সে বিষয়ক আলোচনা করা হয়েছে। প্রতিটি বিষয় সচ্ছ ভাবে উপস্থাপিত হয়েছে যাতে করে বুজতে অনেকটা সুবিধা হয়। 

তবে আপনার যদি সংগঠন বলতে কি বোঝায় সে সম্পর্কে জ্ঞান থেকে থাকে তাহলে বেশ ভালো। নয়ত প্রথমে সংগঠনের সংজ্ঞা বা সংগঠন কাকে বলে তা জেনে নিন। এবং পরবর্তীতে নিম্মের দেয়া সংগঠনের বৈশিষ্ট্য গুলো সম্পর্কে জানুন। 

সংগঠনের বৈশিষ্ট্য গুলো কি কি 

প্রতিটি প্রক্রিয়ার কতকগুলাে নিজস্ব বৈশিষ্ট্য থাকে। যেহেতু সংগঠন একটি প্রক্রিয়া তাই এর বিশেষ কতিপয় বৈশিষ্ট্য রয়েছে। এসব বৈশিষ্ট্যের কারণেই সংগঠনকে ব্যবস্থাপকীয় অন্যান্য কার্যাবলি থেকে সহজেই পৃথক করা যায়। নিম্নে উত্তম সংগঠনের বৈশিষ্ট্যসমূহ উল্লেখ করা হলাে :

১. শ্রম বিভাজন (Division of labour) 

কারবার প্রতিষ্ঠানের উদ্দেশ্য অর্জনে এর কাজগুলাে; যেমন- উৎপাদন, বিপণন ও অর্থসংস্থান প্রভৃতিকে বিভিন্ন বিভাগ, উপ-বিভাগে বিভক্ত করে সংগঠন কাঠামাে প্রণয়ন করা হয়। 

২. কর্তৃত্ব ও দায়িত্ব অর্পণ (Delegation of authority and responsibility) 

সংগঠন কাঠামােতে প্রতিষ্ঠানে নিয়ােজিত সর্বস্তরের কর্মীদের জন্য বিভিন্ন পদ সৃষ্টি ও তাদের কর্তৃত্ব ও দায়িত্বের সুস্পষ্ট দিক নির্দেশনা দেয়া থাকে। এতে প্রতিষ্ঠানের সার্বিক কর্মকাণ্ড সুষ্ঠু ও সুশৃঙ্খলভাবে সম্পাদন সম্ভব হয়। সংগঠনে সৃষ্ট পদগুলাে গুরুত্ব অনুযায়ী উপর থেকে নিচ পর্যন্ত একটি কর্তৃত্বের সােপান সৃষ্টি করে তাদেরকে সুসংবদ্ধ ও সমন্বয়ের সহায়ক করে গড়ে তােলা হয়।

৩. লক্ষ্য অর্জন (Attainment of goal)

প্রতিষ্ঠানের নির্ধারিত লক্ষ্য অর্জন করা উত্তম সংগঠনের একটি গুরুত্বপূর্ণ বৈশিষ্ট্য। প্রতিটি প্রতিষ্ঠানে একটি সুনির্দিষ্ট উদ্দেশ্য বা লক্ষ্য থাকে। তাই প্রতিষ্ঠানের মূল লক্ষ্যের সাথে সামঞ্জস্য বিধান করে সংগঠন কাঠামাে প্রণয়ন করা হয়।

৪. শ্রম বিশেষীকরণ (Specialization of labour) 

একটি উত্তম সংগঠন কাঠামাের অন্যতম বৈশিষ্ট্য হলাে। প্রতিষ্ঠানে নিয়ােজিত কর্মীদের দক্ষতা ও যােগ্যতার ভিত্তিতে বিভিন্ন বিশেষজ্ঞের উপর কার্যভার অর্পণ করা। এতে প্রাতিষ্ঠানিক কর্মকাণ্ডে গতিশীলতা বৃদ্ধি পায়।

৫. সমন্বয় সাধন (Co-ordination) 

সংগঠন কাঠামােতে প্রতিষ্ঠানের লক্ষ্য অর্জনের জন্য বিভিন্ন বিভাগ, উপবিভাগ ও কার্যালির মধ্যে সমন্বয় সাধন করা হয়। এতে প্রতিষ্ঠানের সকল স্তরে শৃঙ্খলা প্রতিষ্ঠিত হয় ।

৬. আনুষ্ঠানিক ও অনানুষ্ঠানিক সম্পর্ক (Formal & informal relationships) 

সংগঠনের কর্মীবৃন্দের মধ্যে আনুষ্ঠানিক ও অনানুষ্ঠানিক সম্পর্ক সৃষ্টি করা হয়। নির্ধারিত কার্য সম্পাদন ও সংগঠনের উদ্দেশ্য অর্জনের জন্য এরূপ সম্পর্ক গঠন করা হয়। সদস্যদের প্রচেষ্টায় আনুষ্ঠানিক ও অনানুষ্ঠানিক সম্পর্ক সৃষ্টি দ্বারা প্রতিষ্ঠানের কার্যাবলি সুষ্ঠুভাবে সম্পাদন ও পারস্পরিক সৌহার্দ্যপূর্ণ সম্পর্ক প্রতিষ্ঠিত হয়।

৭. নমনীয়তা (Flexibility) 

একটি উত্তম সংগঠনের নমনীয়তা সুনিশ্চিত থাকা বাঞ্ছনীয়। পরিবর্তিত অবস্থার সাথে খাপ খাওয়ানাের লক্ষ্যে নমনীয়তার বৈশিষ্ট্য অপরিহার্য। প্রযুক্তিগত পরিবর্তনের সাথে সংগঠনের সামঞ্জস্য বিধান করা দক্ষ সংগঠনের গুরুতপর্ণ বৈশিষ্ট।

৮. কাম্য তত্ত্বাবধান (Optimum span of supervision) 

সংগঠন এরূপভাবে তৈরি হবে যাতে নির্বাহীগণ যথােপযুক্ত তত্ত্বাবধান কার্য পরিচালনায় সক্ষম হন। এজন্য প্রয়ােজনীয় পদ সৃষ্টি ও কর্তৃত্ব ও দায়িত্ব সুনির্দিষ্ট করতে হবে।

৯. নির্দেশ ও আদেশের ঐক্য (Unity of direction and command) 

সংগঠনে কে কার নিকট জবাবদিহি করবে এবং কে কার অধীনে ও নির্দেশে কাজ করবে তা সুসংজ্ঞায়িত থাকা বাঞ্ছনীয়।

১০. ভারসাম্যতা (Balancing) 

একটি সংগঠনের বিভাগ ও উপবিভাগসমূহ এরূপভাবে সৃষ্টি হবে যাতে প্রত্যেকের মধ্যে সহযােগিতা ও সংহতি বজায় রেখে কার্যক্ষেত্রে ভারসাম্য আনয়ন সম্ভব হয়।

১১. উদ্দেশ্য নির্ধারণ (Determining objective) 

সংগঠনের উদ্দেশ্য নির্ধারণ করে তা অর্জনে সচেষ্ট হওয়া একটি উত্তম সংগঠনের মূল বৈশিষ্ট্য। এজন্যে প্রত্যেকটি শাখা সংগঠনের বিভাগ ও উপ-বিভাগের উদ্দেশ্য নির্ধারণ করা আবশ্যক।

১২. সঠিক নিয়ন্ত্রণ পরিধি নির্ণয় (Appropriate span of control) 

শ্রম বিভাগ এবং কর্তৃত্ব ও দায়িত্ব অর্পণের সাথে সাথে সেসব দায়িত্ব সুষ্ঠুভাবে সম্পাদনের জন্য কার্যকরভাবে একজন কর্মকতার কাম্য নিয়ন্ত্রণ পরিধি নির্ধারণ করা আবশ্যক।

১৩. স্থায়িত্ব (Stability) 

একটি উত্তম সংগঠনের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ বৈশিষ্ট্য হলাে এর স্থিতিশীলতা ও কার্যে ধারাবাহিকতা বজায় ও সুনিশ্চিত করা। সংগঠনকে সুদৃঢ় করতে এর স্থায়িত্ব অপরিহার্য।

১৪. নেতৃত্ব সৃষ্টি (Creation of leadership)

একটি উত্তম সংগঠনে ভবিষ্যৎ নেতৃত্ব সৃষ্টির উপর গুরুত্ব আরােপ করা অপরিহার্য। প্রতিষ্ঠানকে টিকিয়ে রেখে এর লক্ষ্য অর্জনের মানসে দক্ষ নেতৃত্বের গুরুত্ব অপরিসীম।

১৫. মিতব্যয়িতা অর্জন (Achieve economy) 

প্রতিষ্ঠানের সর্বস্তরে সর্বাধিক মিতব্যয়িতা অর্জন করে অধিক মুনাফা অর্জন একটি উত্তম সংগঠনের অন্যতম মূল বৈশিষ্ট্য।

— 

অত:পর, সংগঠনের বৈশিষ্ট্য নিয়ে এই ছিলো যাবতীয় ইনফরমেশন। ব্যবস্থাপনা ভিত্তিক যেকোনো বিষয়ে তথ্য পেতে যা জানতে এখানে ক্লিক করুন। ধন্যবাদ। 

 

5 thoughts on “সংগঠনের বৈশিষ্ট্য গুলো কি কি | ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের সংগঠনের ধারনা ও বৈশিষ্ট্য ”

  1. Right here is the perfect webpage for everyone who would like to understand this topic. You understand a whole lot it’s almost tough to argue with you (not that I really will need toÖHaHa). You certainly put a fresh spin on a subject that has been discussed for a long time. Wonderful stuff, just excellent!

    Reply

Leave a Comment