ব্যবস্থাপনা সংগঠন কি | সংগঠনের গুরুত্ব ও প্রয়োজনীয়তা | Management Organisation

ব্যবস্থাপনা সংগঠন এবং সংগঠনের গুরুত্ব ও প্রয়োজন সম্পর্কে যাবতীয় তথ্য উপাত্তে সাজানো আর্টিকেলটিতে সহজে ব্যাখ্যা করা হয়েছে।

এবং ব্যবস্থাপনা ও সংগঠন সম্পর্কে জানতে পুরো আর্টিকেলটি পড়ুন এবং আনুসাংগিক বিষয়বস্তু সম্পর্কে জানুন। তবে প্রথমেই জানা যাক ব্যবস্থাপনা সংগঠন মূলত কি!

ব্যবস্থাপনা সংগঠন কি?

উৎপাদনের একটি গুরুত্বপূর্ণ উপাদান হল সংগঠন। সংগঠন প্রতিষ্ঠানে দক্ষতা ও শৃঙ্খলা প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে প্রাতিষ্ঠানিক লক্ষ্যার্জনে বিশেষ ভূমিকা পালন করে থাকে।

তাই আধুনিক ও বৃহদায়তন প্রতিষ্ঠানে সংগঠনের প্রয়ােজনীয়তা অনস্বীকার্য। সংগঠনকে ব্যবসায়ের মেরুদণ্ড বলা হয়।

তাছাড়াও ব্যবস্থাপনা সংগঠন সম্পর্কে আরো জানুন এবং অত:পর নিম্নে সংগঠনের গুরুত্ব বা প্রয়ােজনীয়তা আলােচনা করা হলাে।

ব্যবস্থাপনা সংগঠনের গুরুত্ব ও প্রয়ােজনীয়তা (Importance of Management Organisation)

১. প্রশাসনিক কার্যক্রমে সহায়তা (To help in administrative activities)

সুশৃঙ্খল ও সুসংঘবদ্ধ সংগঠন কাঠামাে প্রতিষ্ঠানের ব্যবস্থাপকীয় ও প্রশাসনিক কার্যাবলি সুষ্ঠুভাবে সম্পাদনে সহায়তা করে।

একটি সঠিক সংগঠন কাঠামাের আওতায় প্রতিষ্ঠানে নিয়ােজিত সর্বস্তরের কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের উপর যথাযথ দায়িত্ব ও কর্তব্য অর্পণ করা হলে অতি সহজেই প্রতিষ্ঠানের লক্ষ্যার্জন সম্ভব হয়।

২. উৎপাদন উপকরণের কাম্য ব্যবহার (Optimum utilization of resources)

প্রতিষ্ঠানে নিয়ােজিত সকল মানবীয় ও অমানবীয় উপকরণের কাম্য ব্যবহার নিশ্চিতকরণে সংগঠন গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। এতে উৎপাদন
উপকরণের অপচয় হ্রাস পায় এবং উৎপাদনের পরিমাণ বৃদ্ধি পায়।

৩. শ্রম বিভাজনে সহায়তা (To help in division of labour)

একটি কার্যকর সংগঠন কাঠামাে বিশেষজ্ঞতা
ও শ্রম বিভাজের নীতির উপর ভিত্তি করে প্রতিষ্ঠা করা হয়। এ ব্যবস্থায় যে কর্মী যে কাজে দক্ষ তাকে সে কাজের দায়িত্ব অর্পণ করা হয়।

এতে কর্মীদের দক্ষতা বৃদ্ধি পায়, প্রতিষ্ঠানের কার্যক্রম মিতব্যয়িতা ও সাফল্যের সাথে সম্পাদন করা সম্ভব হয়।

৪. আধুনিক প্রযুক্তি ও কৌশল ব্যবহার (Uses of Modern technology and strategy)

বর্তমান বিশ্বে প্রতিনিয়ত আধুনিক প্রযুক্তি ও কৌশলাদি আবিষ্কৃত হচ্ছে। এসব উন্নত প্রযুক্তি ও কৌশলের সর্বোত্তম ব্যবহার একমাত্র সুসংগঠিত সংগঠনের দ্বারাই সম্ভব।

এতে প্রতিষ্ঠানের পক্ষে প্রতিযােগিতায় মােকাবেলা করে সাফল্যের সাথে টিকে থাকা সম্ভব হয়।

৫. প্রাতিষ্ঠানিক সম্প্রসারণ ও পরিবর্তনে সহায়তা (Aid to organizational expansion & change)

যে কোন দেশের আর্থ-সামাজিক ও রাজনৈতিক পরিবর্তনের সাথে সাথে ব্যবসায় প্রতিষ্ঠানের সম্প্রসারণ ও পরিবর্তন প্রয়ােজন হয়।

এক্ষেত্রে শক্তিশালী সংগঠন কাঠামাে প্রতিষ্ঠানের সুষম সম্প্রসারণ ও প্রয়ােজনীয় পরিবর্তনে সহায়তা করে থাকে।

ফলে পরিবর্তিত পরিস্থিতি সাফল্যের সাথে মােকাবেলা করে প্রতিষ্ঠানের লক্ষ্যার্জন নিশ্চিত করা যায়।

৬. সৃজনশীলতার উন্নয়ন (Development of creativity)

শক্তিশালী সংগঠন কাঠামাে প্রতিষ্ঠানে নিয়ােজিত
সকল স্তরের কর্মীকে নিজ নিজ কর্মক্ষেত্রে স্বাধীনভাবে কাজ করতে উদ্বুদ্ধ করে।

এতে কর্মীদের সৃজনশীলতার উন্নয়ন ঘটে। ফলে প্রতিষ্ঠানের উৎপাদন ও বণ্টন ক্ষেত্রে তারা ব্যাপক অবদান রাখতে পারে।

৭. শৃঙ্খলা প্রতিষ্ঠা (Establishing order)

সাংগঠনিক শৃঙ্খলা যে কোন প্রতিষ্ঠানের উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। এ ব্যবস্থায় শ্রম বিভাজন, দায়িত্ব ও কর্তৃত্ব নির্ধারণ, কে কার নিকট থেকে নির্দেশ পাবে এবং কে কার নিকট
জবাবদিহি করবে ইত্যাদি বিষয় পূর্বেই নির্ধারণ করা হয়।

এতে কার্যক্ষেত্রে শৃঙ্খলা প্রতিষ্ঠিত হয়। আর প্রতিষ্ঠানে এরূপ শৃঙ্খলা বজায় রাখা উত্তম সংগঠনের উপস্থিতিতে সম্ভব হয়।

৮. নেতৃত্ব প্রতিষ্ঠা (Establishing leadership)

উত্তম সংগঠন কাঠামাের মাধ্যমে প্রতিষ্ঠানের কার্যাবলির শ্রম বিভাজন, দায়িত্ব ও কর্তব্য নির্ধারণ ও শৃঙ্খলা বিধান প্রভৃতি সুশৃঙ্খলভাবে ঢেলে সাজানাে হয়। এতে কার্যকর নেতৃত্ব প্রতিষ্ঠিত হয়।

৯. সহজ সমন্বয় (Easy co-ordination)

সংগঠন কাঠামােতে প্রতিষ্ঠানের বিভিন্ন বিভাগ ও উপ-বিভাগের কার্য ও কার্য প্রক্রিয়া এবং সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের দায়িত্ব ও কর্তব্য সম্পর্কে সুস্পষ্ট দিক নির্দেশনা থাকে।

এতে প্রতিষ্ঠানের সমুদয় কার্যাবলির মধ্যে সুসমন্বয় বজায় রাখা সম্ভব হয়। তাছাড়া এ ব্যবস্থায় প্রতিষ্ঠানে নিয়ােজিত সর্বস্তরের কর্মীদের মধ্যে
পারস্পরিক সৌহার্দ্যপূর্ণ সম্পর্ক প্রতিষ্ঠিত হয়।

১০. নিয়ন্ত্রণে সহায়তা (Aid to controlling)

একটি কার্যকর সংগঠন কাঠামােতে প্রতিষ্ঠানের প্রতিটি বিভাগ ও শ্রমিক-কর্মীর কার্য, দায়িত্ব ও কর্তৃত্ব সম্বন্ধে সুস্পষ্ট বর্ণনা থাকে। এতে প্রতিষ্ঠানে নিয়ােজিত সর্বস্তরের কর্মী ও তাদের কার্যাদি নিয়ন্ত্রণ সহজতর হয়।

১১. কার্যভার লাঘৰ (Reducing workload)

একটি উত্তম সংগঠনে প্রয়ােজনানুযায়ী পদ সৃষ্টি করে নির্বাহীদের কর্তৃত্ব ও দায়িত্ব নির্দিষ্ট করা হয়ে থাকে। এতে সিদ্ধান্ত গ্রহণসহ দায়িত্ব সম্পাদনের ক্ষমতা নিম্নস্তরের নির্বাহীদের উপর অর্পণ করা সহজতর হয় বিধায় উধর্বতন নির্বাহীদের কার্যভার লাঘব হয়।

১২. সহযােগিতা বৃদ্ধি (Facllitates co-operation)

একটি উত্তম ব্যবস্থাপনা সংগঠনে কর্মীদের ক্ষমতা ও দায়িত্ব-কর্তব্যসহ পারস্পরিক সম্পর্কের সুস্পষ্ট ব্যাখ্যা দেয়া থাকে। ফলে প্রতিষ্ঠানের প্রতিটি কর্মীর কাজের মধ্যে সমঝোতা ও সহযোগিতা আনায়ন সহজ হয়, যা প্রতিষ্ঠানের লক্ষ্য অর্জনে সহায়ক হয়।

পরিশেষে বলা যায়, বর্তমান প্রতিযােগিতামূলক বিশ্বে প্রতিযােগিতায় টিকে থাকা এবং প্রাতিষ্ঠানিক লক্ষ্যার্জন নিশ্চিতকরণে শক্তিশালী এবং কার্যকর সংগঠন কাঠামাের গুরুত্ব অপরিসীম।

এ প্রসঙ্গে Moony & Moony এর ভাষায়, “The very pulse and heartheat, the circulations, the respirations, the vital movement, so to speak, of the organised unit.” অর্থাৎ, সংগঠনের মধ্যেই ব্যবসায়ের নাড়ির গতি, হৃদয়ের স্পন্দন, রক্ত চলাচল, শ্বাস-প্রশ্বাস এবং সকল কিছুর প্রাণবন্ততার লক্ষণ পাওয়া যায়।

Leave a Comment