সংগঠনের উপাদান কয়টি ও কি কি | ব্যবস্থাপনা – সংগঠন | সংগঠনের উপাদান

সংগঠনের ধাপ অনুসরণ করার ক্ষেত্রে সংগঠনের উপাদান সম্পর্কে জানা খুবই গুরুত্বপূর্ণ তাই সংগঠনের উপাদান কয়টি ও কি কি সে সম্পর্কে জানুন বিস্তারিত।

সংগঠন হলাে এমন একটি প্রক্রিয়া যার মাধ্যমে প্রতিষ্ঠানের বিভিন্ন উপায় উপকরণের মধ্যে সুসামঞ্জস্য আনয়ন করা হয়।

সংগঠন কাঠামাে গড়ে তুলতে হলে কতকগুলাে পদক্ষেপ অনুসরণ করতে হয়। প্রখ্যাত ব্যবস্থাপনা বিশেষজ্ঞ L. A. Allen & R. W. Griffin সংগঠন কাঠামাে প্রণয়নে কতিপয় পদক্ষেপের কথা উল্লেখ করেছেন।

তবে একটি আদর্শ সংগঠন কাঠামাে প্রণয়নে যেসব পদক্ষেপ অনুসরণ করা হয় সেগুলাে চিত্রে উপস্থাপনপূর্বক আলােচনা করা হলাে :

সংগঠনের উপাদান কয়টি ও কি কি?

মূলত সংগঠনের উপাদান ৬ টি এবং নিম্মে চিত্রের মাধ্যমে তা দেখানোর পাশাপাশি ৬ টি সংগঠনের উপাদান সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য তুলে ধরা হলো।

সংগঠনের উপাদান কয়টি ও কি কি

১. উদ্দেশ্য নির্ধারণ (Determination of objectives)

সংগঠনের প্রথম ও সর্বাধিক গুরুত্বপূর্ণ কাজ হলাে
প্রতিষ্ঠানের উদ্দেশ্যসমূহ নির্ধারণ করা। কেননা, প্রতিষ্ঠানের উদ্দেশ্যকে কেন্দ্র করেই সংগঠন কাঠামাে গড়ে তােলা হয়।

২. কার্যাবলি নির্ধারণ (Determining functions)

সংগঠন কাঠামাের দ্বিতীয় গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হলাে
প্রতিষ্ঠানের কার্যাবলি নির্ধারণ করা। সংগঠন কাঠামাের এ পর্যায়ে প্রতিষ্ঠানের উদ্দেশ্যাবলি অর্জনের জন্য কি কি কার্য সম্পাদন করতে হবে তা নির্ধারণ করা হয়।

৩. কার্যাবলি শ্রেণীবদ্ধকরণ (Classification of activities)

সংগঠন কাঠামাের আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ
হলাে কাজের ধরন অনুযায়ী প্রতিষ্ঠানের সমুদয় কার্যাবলিকে বিভিন্ন শ্রেণীতে বিভক্ত করা।

এতে প্রতিষ্ঠানে নিয়ােজিত সর্বস্তরের কর্মী নিজ নিজ কার্য সম্পাদনে দক্ষতার পরিচয় দিতে পারে। ফলে কার্যক্ষেত্রে মিতব্যয়িতা অর্জিত হয়।

৪. যােগ্য কর্মী নিয়ােগ (Employment of qualified personnel)

কর্মীর দক্ষতার উপর প্রতিষ্ঠানের সাফল্য
অনেকাংশে নির্ভরশীল। তাই কার্যকর সংগঠন কাঠামাে গড়ে তুলতে হলে উপযুক্ত ও যােগ্য কর্মী নিয়ােগ করতে হবে। এক্ষেত্রে কর্মীদের প্রয়ােজনীয় প্রশিক্ষণ ও উন্নয়নের ব্যবস্থা গ্রহণ করা যেতে পারে।

৫. কর্তৃত্ব ও দায়িত্ব অর্পণ (Delegation of authority and responsibility)

প্রতিষ্ঠানে নিয়ােজিত প্রত্যেক কর্মীর উপর দায়িত্ব ও কর্তৃত্ব সমভাবে বণ্টন করা উচিত। এতে কর্মী দক্ষতার সাথে কার্য সম্পাদন করতে পারে।

অন্যথায় কর্মীর পক্ষে সুষ্ঠুভাবে কার্যাবলি সম্পাদন করা সম্ভব হয় না। সংগঠনের প্রতিটি কর্মীর কর্তৃত্ব ও দায়িত্ব নির্ধারণ পূর্বক তা অর্জনের জন্য অর্পণ করতে হবে।

৬. সমন্বয় সাধন (Co-ordination)

প্রতিষ্ঠানের উদ্দেশ্য অর্জনে শ্রমিক-কর্মীদের পারস্পরিক সহযােগিতা ও সমন্বয় নিঃসন্দেহে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।

তাই সংগঠন কাঠামােতে বিভিন্ন বিভাগ ও উপ-বিভাগের কার্য ও ব্যক্তিবর্গের মধ্যে সমন্বয় সাধনের প্রয়ােজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে যাতে শৃঙ্খলার সাথে লক্ষ্যার্জন করা সম্ভব হয়।

উল্লিখিত পদক্ষেপসমূহ আদর্শ সংগঠন কাঠামাে গড়ে তুলতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে থাকে। তাই যে কোন সংগঠন কাঠামাে প্রণয়নে এসব পদক্ষেপ অনুসরণ করা অতীব জরুরি।


পরিশেষে, এই ছিলো সংগঠনের উপাদান কয়টি ও কি কি সেই বিষয়ে পুরো আর্টিকেল। ব্যবস্থাপনা ও সংগঠনের আরো বিষয়বস্তু জানতে ব্লগের মেনু আপশনে দেখুন। ধন্যবাদ।

Leave a Comment