মূল্য নির্ধারণের উদ্দেশ্য সমূহ | কেনো মূল্য নির্ধরণ করা হয়ে থাকে | মূল্য নির্ধরণ

কোন বাজারজাতকরণ কার্যক্রম উদ্দিষ্ট উদ্দেশ্য ছাড়া সঠিকভাবে সম্পাদন করা যায় না। মূল্য নির্ধারণের ক্ষেত্রেও একই কথা প্রযোজ্য। মূল্য নির্ধারণ করার পূর্বে ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষ কে মূল্য নির্ধারণের উদ্দেশ্য ঠিক করে নিতে হয়।

বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের নিকট মূল্য নির্ধারণ এর উদ্দেশ্য বিভিন্ন প্রকার হতে পারে। পণ্যের মূল্য নির্ধারণ এর নীতিমালার উদ্দেশ্যকে চারটি শ্রেণীর আওতায় বন্টন করা যায়। নিম্নে ছকের মাধ্যমে উদ্দেশ্য গুলো কে উপস্থাপন করা হলো

মূল্য নির্ধারণের উদ্দেশ্য সমূহ

 

মূল্য নির্ধারণের উদ্দেশ্য সমূহ

উপরের ছবিতে সুস্পষ্টভাবে উপস্থাপন করা আছে মূল্য নির্ধারণ এর উদ্দেশ্য গুলো। মূলত চারটি শ্রেণীতে মূল্য নির্ধারণের উদ্দেশ্য সমূহ কে ভাগ করা হয়েছে ছবিতে দেখানোর পাশাপাশি নিম্নে চারটি শ্রেণীর প্রতিটা বিস্তারিত ব্যাখ্যা করা হলো।

সাধারণ উদ্দেশ্য সমূহ

১. টিকে থাকা : মূল্য নির্ধারণের একটি অন্যতম উদ্দেশ্য হচ্ছে টিকে থাকা। অতিরিক্ত উৎপাদন ক্ষমতা, তীব্র প্রতিযোগিতা এবং ভোক্তাদের পরিবর্তনশীল চাহিদার কারণে অসুবিধার সম্মুখীন হলে কোম্পানির উদ্দেশ্য হিসেবে টিকে থাকাকে বেছে নিতে হয়। আর টিকে থাকার জন্য কোম্পানি তার পরনের নিম্ন মূল্য ধার্য করে থাকে।

২. পণ্য মানে নেতৃত্বদান : মূল্য নির্ধারণের উদ্দেশ্য হতে পারে পণ্য মানে নেতৃত্বদান অন্যের উচ্চ মানের জন্য অত্যধিক খরচ হওয়ার কারণে কোম্পানি উচ্চ মূল্য ধার্য করে থাকে আবার উচ্চমুল্যকে কে তারা উচ্চ মানের প্রতীক মনে করে পণ্য ক্রয় করে থাকে ।

স্থিতিমুখী উদ্দেশ্য সমূহ

মূল্য নির্ধারণের ক্ষেত্রে মুনাফাভোগী উদ্দেশ্যও বলি ও বিক্রয় মুখী উদ্দেশ্যে বলি ছাড়াও কতগুলো স্থিতি মুখী উদ্দেশ্যে বের হয়েছে সেগুলো হলো :

১. প্রতিযোগিতা ঠেকানো : বর্তমান যুগ প্রতিযোগিতার যুগ। এই যুগে প্রতিযোগিতা বৃদ্ধি পাচ্ছে তীব্রভাবে। মূল্য নির্ধারণের ক্ষেত্রে প্রতিযোগিতা ঠেকাতে হলে মূল্য এমনভাবে নির্ধারণ করতে হবে যাতে তীব্র প্রতিযোগিতার মুখে ও পণ্য অপরিবর্তিত রেখে বাজারে টিকে থাকা যায়।

২. প্রতিযোগিতার মুখোমুখি হওয়া : অনেক সময় কোন কোন প্রতিষ্ঠান প্রতিযোগিতার মুখোমুখি হওয়ার উদ্দেশ্যে পণ্যের মূল্য নির্ধারণ করে থাকে। এ ক্ষেত্রে প্রতিষ্ঠান তার প্রতিযোগী প্রতিষ্ঠানের পণ্যের মূল্যের সাথে সামঞ্জস্য রেখে মূল্য নির্ধারণ করে থাকে।

৩. মূল্য স্থিতিশীলতা বজায় রাখা : কোন কোন প্রতিষ্ঠান পণ্যের মূল্য স্থিতিশীল রেখে মুনাফা অর্জনের উদ্দেশ্যে মূল্য নির্ধারণ করে থাকে। উদ্দেশ্য সফল করার জন্য সমজাতীয় পণ্য-সামগ্রীর বিভিন্ন উৎপাদক ঐকমত্যে পৌঁছে সকল উৎপাদকগণ গৃহীত মূল্য নির্ধারণ করে থাকে।

মুনাফাভোগী উদ্দেশ্য সমূহ

ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের প্রধান উদ্দেশ্য হলো মুনাফা অর্জন। বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের বিভিন্ন রকম মুনাফা অর্জনের উদ্দেশ্যে মূল্য নির্ধারণ করে থাকে সেগুলো হলো :

১. বিনিয়োগের ওপর প্রত্যাশিত মুনাফা অর্জন : অনেক প্রতিষ্ঠান মূল্য নির্ধারণের প্রধান উদ্দেশ্য হলো বিনিয়োগের উপর প্রত্যাশিত মুনাফা অর্জন। উদ্দেশ্য বাস্তবায়নের জন্য প্রতিষ্ঠান বিনিয়োগের উপর কি পরিমান নির্নয় প্রয়োজন তা নির্ধারণ করে সে পরিমাণ আয়ের সংস্থান রেখে মূল্য নির্ধারণ করা হয়।

২. সর্বোচ্চ মুনাফা অর্জন : প্রতিষ্ঠান মূল উদ্দেশ্য মুনাফা অর্জন করা। তবে কোনো কোনো প্রতিষ্ঠানের উদ্দেশ্য হয়ে থাকে সর্বোচ্চ মুনাফা অর্জন করা। তাই এই উদ্দেশ্যকে সামনে রেখে মূল্য নির্ধারণ করা হয়।

৩. সন্তুষ্টজনক মুনাফা অর্জন : অনেক প্রতিষ্ঠান বিনিয়োগের উপর প্রত্যাশিত মুনাফা অর্জন এবং সর্বোচ্চ মুনাফা অর্জন ব্যতীত সন্তুষ্টজনক মুনাফা অর্জন করতে চায়। তাই এই উদ্দেশ্যকে সফল করার জন্য নির্দিষ্ট মূল্য নির্ধারণ করে থাকে।

বিক্রয়মুখী উদ্দেশ্য সমূহ

একটি প্রতিষ্ঠানের নির্ধারণ নীতিমালা যে কেবল মুনাফা অর্জনের উদ্দেশ্যে নির্ধারণ করা হয়ে থাকে তা কিন্তু নয় তার সাথে বিক্রয়ের পরিমাণ বৃদ্ধি করা অন্যতম কারণ হয়ে থাকে মূল্য নির্ধারণের ক্ষেত্রে। এরূপ কিছু উদ্দেশ্য গুলো হলো :

১. বিক্রয়ের পরিমাণ বৃদ্ধি : কোন কোন প্রতিষ্ঠান বিক্রয়ের পরিমাণ বৃদ্ধি করার উদ্দেশ্যকে সামনে রেখে পণ্যের মূল্য নির্ধারণ করে থাকে একক প্রতি মুনাফার পরিমাণ কমলে পণ্যের মূল্য হ্রাস পায় ফলে বিক্রয়ের পরিমাণ বৃদ্ধি পায়।

২. পণ্য বাজারে নির্দিষ্ট স্থান দখল : পণ্যের মূল্য নির্ধারণের অন্যতম উদ্দেশ্য হলো পণ্য বাজারে নির্দিষ্ট স্থান দখল করা। এ উদ্দেশ্যকে সামনে রেখে পণ্যের মূল্য নির্ধারণ করা হয়।

উদ্দেশ্যবিহীন মূল্য নির্ধারণ এতেই সন্তুষ্ট জনক নয় তাই উপরোক্ত উদ্দেশ্যসমূহ সামনে রেখে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান তাদের পণ্যের মূল্য নির্ধারণ করে থাকে।

 

Leave a Comment