ব্যবস্থাপনার উদ্দেশ্য সমূহ । ব্যবস্থাপনার মুখ্য উদ্দেশ্যগুলাে । ব্যবস্থাপনা  

উক্ত আর্টিকেলে আলোচনা করা হয়েছে ব্যবস্থাপনার উদ্দেশ্য সমূহ। একটি প্রতিষ্ঠানের মূখ্য উদ্দেশ্য গুলোকে কেন্দ্র করেই উক্ত প্রতিষ্ঠানের ব্যবস্থাপনার উদ্দেশ্য গুলো সাজানো হয়ে থাকে। নিম্মে ব্যবস্থাপনার উদ্দেশ্যের ভাগ ও সেগুলোর বিস্তারিত তুলে ধরা হলো। 

ব্যবস্থাপনার প্রধান উদ্দেশ্য হলাে প্রতিষ্ঠানের প্রাপ্তব্য সম্পদসমূহের কাম্য ব্যবহার নিশ্চিতকরণের মাধ্যমে সর্বোচ্চ মুনাফা অর্জন করা। ব্যবসায় প্রতিষ্ঠানের উদ্দেশ্যাবলির সাথে ব্যবস্থাপনার উদ্দেশ্যাবলি নিবিড়ভাবে সম্পৃক্ত। একটি ব্যবসায় প্রতিষ্ঠানে ব্যবহৃত বিভিন্ন উপকরণের সর্বোত্তম ব্যবহার, ন্যূনতম ব্যয়ে সর্বাধিক উৎপাদন ও মুনাফা অর্জন, অধিক দক্ষতা ও সামাজিক কল্যাণ নিশ্চিতকরণ প্রভৃতি ব্যবস্থাপনার মুখ্য উদ্দেশ্য।

ব্যবস্থাপনার উদ্দেশ্য সমূহ

নিম্মে ব্যবস্থাপনার উদ্দেশ্যাবলি দু’টি দৃষ্টিকোণ থেকে আলােচনা করা হলাে : (ক) প্রাথমিক উদ্দেশ্যাবলি; (খ) গৌন উদ্দেশ্যাবলি। 

(ক) প্রাথমিক উদ্দেশ্যাবলি ব্যবস্থাপনার প্রাথমিক বা মুখ্য উদ্দেশ্যসমূহ নিম্নরূপ : 

সুনির্দিষ্ট লক্ষ্যার্জন : 

একটি সুনির্দিষ্ট লক্ষ্যার্জনের জন্য ব্যবসায় প্রতিষ্ঠান গঠন ও পরিচালনা করা হয়। এক্ষেত্রে ব্যবস্থাপনার প্রাথমিক বা মৌলিক উদ্দেশ্য হলাে- স্বল্প শ্রম, অর্থ ও সময় ব্যয়ে প্রতিষ্ঠানের কার্যাদি সম্পাদনের মাধ্যমে উক্ত উদ্দেশ্যার্জন করা।

মুনাফা অর্জন : 

ব্যবসায় প্রতিষ্ঠানের প্রধান উদ্দেশ্য হলাে মুনাফা অর্জন করা। এক্ষেত্রে ব্যবস্থাপনা উৎপাদন উপকরণের সর্বোত্তম ব্যবহারের মাধ্যমে সর্বাধিক উৎপাদন ও মুনাফা অর্জন এবং বিনিয়ােগকারীদের স্বার্থ সংরক্ষণে সক্রিয় ভূমিকা পালন করে থাকে।

অক্তিত্ব রক্ষা 

বর্তমান প্রতিযােগিতামূলক বাজারে টিকে থাকা ও কারবারের সমৃদ্ধি অর্জন ব্যবস্থাপনার একটি গুরুত্বপূর্ণ উদ্দেশ্য। এ উদ্দেশ্যের কার্যকর বাস্তবায়নে ব্যবস্থাপনাকে দক্ষতা বৃদ্ধি, ব্যয় সংকোচন ও অপচয় হাস প্রভৃতি কার্যাবলি সম্পাদন করতে হয়।

(খ) গৌণ উদ্দেশ্যাবলি 

প্রতিষ্ঠানের প্রাথমিক উদ্দেশ্যের পাশাপাশি ব্যবস্থাপনাকে আরাে কতিপয় সহায়ক গৌণ উদ্দেশ্যার্জন করতে হয়। এসব উদ্দেশ্যাবলি মূলত প্রতিষ্ঠানের অর্থনৈতিক ও সামাজিক উদ্দেশ্যাবলির সাথে সম্পৃক্ত। নিম্নে ব্যবস্থাপনার গৌণ উদ্দেশ্যাবলি আলােচনা করা হলাে।

উৎপাদন উপকরণের সদ্ব্যবহার 

প্রতিষ্ঠানের প্রাপ্ত উপকরণের সর্বোত্তম ব্যবহারের নিশ্চয়তা বিধান করা ব্যবস্থাপনার একটি অন্যতম উদ্দেশ্য। এজন্যে ব্যবস্থাপনাকে উন্নত মানসম্পন্ন কাঁচামাল ও যন্ত্রপাতির পরিপূর্ণ ব্যবহার এবং এতে কোনরূপ ত্রুটি-বিচ্যুতি পরিলক্ষিত হলে প্রয়ােজনীয় সংশােধনমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হয়।

মানব সম্পদের উন্নয়ন 

উৎপাদনের একটি অপরিহার্য উপাদান হলাে দক্ষ মানব সম্পদ। তাই প্রতিষ্ঠানে নিয়ােজিত মানব সম্পদের উন্নয়ন সাধন করা ব্যবস্থাপনার একটি গুরুত্বপূর্ণ উদ্দেশ্য। এজন্যে ব্যবস্থাপনাকে উপযুক্ত কর্মী সংগ্রহ ও নির্বাচন করে যথাযথ প্রশিক্ষণ দিয়ে দক্ষ কর্মী বাহিনী গড়ে তুলতে হয়। এর ফলে কাজের দক্ষতা ও মান বৃদ্ধি পাওয়ার পাশাপাশি অপচয় হ্রাস হয়ে থাকে। 

আধুনিক পদ্ধতি প্রয়ােগ 

বর্তমানে বিশ্বে আধুনিক প্রযুক্তি ও কলা-কৌশল উদ্ভাবন হচ্ছে। প্রতিষ্ঠানের কার্যসম্পাদনে এসব আধুনিক পদ্ধতি ও কলা-কৌশল দক্ষতার ও ফলপ্রসূতার সঙ্গে প্রয়ােগ করা ব্যবস্থাপনার একটি অন্যতম উদ্দেশ্য। এসবের কার্যকর ব্যবহার প্রাতিষ্ঠানিক দক্ষতা বৃদ্ধি করে। 

শ্ৰম-ব্যবস্থাপনা সম্পর্কের উন্নয়ন 

উত্তম শ্রম-ব্যবস্থাপনা সম্পর্কের উপর প্রতিষ্ঠানের উন্নতি বহুলাংশে নির্ভর করে। তাই ব্যবস্থাপনার একটি উল্লেখযােগ্য উদ্দেশ্য হলাে – মধুর শ্রম-ব্যবস্থাপনা সম্পর্ক সৃষ্টি করা। এজন্যে ব্যবস্থাপনা শ্রমিক কর্মীদের ন্যায়সঙ্গত দাবি-দাওয়া পূরণ করতে হয়। ফলে শ্রমিকদের কার্য সন্তুষ্টি অর্জনের মাধ্যমে শ্রম-ব্যবস্থাপনা সম্পর্কের উন্নয়ন সাধন করা হয়।

কার্যকর নিয়ন্ত্রণ 

প্রতিষ্ঠানে নিয়ােজিত শ্রমিক কর্মীদের সুষ্ঠু পরিচালনা ও নিয়ন্ত্রণ করা ব্যবস্থাপনার একটি অন্যতম উদ্দেশ্য। এক্ষেত্রে ব্যবস্থাপনা প্রতিষ্ঠানের সর্বস্তরে সুষ্ঠু পরিচালনা ও নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থার দক্ষতা নিশ্চিত করে।

ব্যবসায়ের গতিশীলতা বজায় রাখা 

পরিবর্তনশীলতার এ যুগে ব্যবসায়ের গতিশীলতা বজায় রাখা ব্যবস্থাপনার একটি অন্যতম উদ্দেশ্য। এজন্যে ব্যবস্থাপনাকে প্রতিনিয়ম আধুনিক পদ্ধতি ও কলা-কৌশলের সাথে সঙ্গতি রেখে প্রতিষ্ঠানের কার্য পদ্ধতি ও কার্য প্রক্রিয়ার প্রয়ােজনীয় পরিবর্তন করতে হয়। এতে কারবারের সর্বস্তরে গতিশীলতা ও উন্নয়ন অব্যাহত থাকে।

কার্যকর নীতিমালা প্রণয়ন ও বাস্তবায়ন  

উন্নয়নের স্বার্থে প্রতিষ্ঠানের সার্বিক কর্মকাণ্ডে শৃঙ্খলা ও ধারাবাহিকতা বজায় রাখা জরুরি। এজন্যে ব্যবস্থাপনার একটি উল্লেখযােগ্য উদ্দেশ্য হলাে শক্তিশালী ও কার্যকর নীতি প্রণয়ন ও বাস্তবায়ন করা। ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষ কর্তৃক প্রণীত নীতির যথাযথ প্রয়ােগ করা হলে প্রতিষ্ঠানের উন্নয়ন ত্বরান্বিত হবে।

সামাজিক কল্যাণ নিশ্চিতকরণ 

ব্যবস্থাপনা একটি সামাজিক কার্যক্রম। তাই ব্যবস্থাপনার একটি গুরুত্বপূর্ণ উদ্দেশ্য হলাে সামাজিক কল্যাণ নিশ্চিত করা। এজন্যে, ব্যবস্থাপনাকে ন্যায্যমূল্যে পণ্য ও সেবাদি সরবরাহ, মানসম্পন্ন পণ্য উৎপাদন, শ্রমিকদের উপযুক্ত মজুরি প্রদান ও কারবারের সাথে সংশ্লিষ্ট সকলের স্বার্থ সংরক্ষণ ইত্যাদি সামাজিক দায়িত্ব পালন করতে হয়।

পরিশেষে কিছু কথা

অতঃপর উপরিউক্ত আলােচনার পরিপ্রেক্ষিতে বলা যায়, উল্লিখিত প্রাথমিক ও সহায়ক উদ্দেশ্যাবলি অর্জনের মাধ্যমে প্রতিষ্ঠানের সার্বিক কল্যাণের নিশ্চয়তা বিধান করা ব্যবস্থাপনার একটি গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব। ব্যবস্থাপনা সম্পর্কে অন্যান্য বিষয় গুলো জানতে উক্ত লিংক অথবা ক্যাটাগরি অনুসরণ করুন। 

Leave a Comment