বিকাশ লোন কি? কিভাবে বিকাশ থেকে লোন পাওয়া যায়? বিকাশে লোন নেয়ার নিয়ম বিস্তারিত

ডিজিটাল বাংলাদেশ গড়ার লক্ষে ডিজিটাল লোন ব্যবস্থা চালু করতে যাচ্ছে Bkash ও সিটি ব্যাংক সমন্বিত হয়ে। পাওয়া যাচ্ছে বিকাশ লোন।

নতুন এক পাইলট প্রকল্প নামকরণে বিকাশ শুরু করেছে ডিজিটাল লোন ব্যবস্থা। ডিজিটাল বিকাশ লোন ব্যবস্থায় পাওয়া যাচ্ছে বিনা জামানতে ঋন

মূলত লোন বা ঋন এর টাকা বিকাশ বহন করবে না, লোন দেয়া থেকে নেয়া অব্দি সকল কাজ করবে সিটি ব্যাংক। মাঝে বিকাশ ইউজার ম্যানেজমেন্ট এর দ্বায়িত্বে থাকবে বলে জানা গেছে।

বিকাশ লোন নেয়া অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠান থেকে লোন নেয়ার চেয়ে অনেক সহজ হতে যাচ্ছে। এখানে ঋন গ্রহিতাকে রাখতে হচ্ছে না কোনো প্রকার জামানত।

কত টাকা লোন নেয়া যাবে?

প্রাথমিক তথ্য অনুযায়ী লোন দান শুরুর পর থেকে, সর্বনিম্ন ৫০০ টাকা থেকে শুরু করে সর্বোচ্চ ১০,০০০ টাকা পর্যন্ত বিকাশ লোন গ্রহন করা যাবে

এক্ষেত্রে কাকে কত টাকা লোন দিবে তা বিকাশ কর্তৃপক্ষ দ্বারা সিদ্ধান্ত গ্রহন করা হবে। এছাড়া ক্ষেত্রে বিশেষে লোনের পরিমান বেশি ও কম হতে পারে।

তবে বর্তমানে সর্বনিম্ন ৫০০ টাকা থেকে সর্বোচ্চ ১০ হাজার টাকা অব্দি বিকাশ লোন নেয়া যাবে।

বিকাশ লোন : সুদের হার

বাংলাদেশের ঋন গ্রহনের নীতিমালা অনুযায়ী, ব্যাংক থেকে ঋন বা লোন গ্রহনের ক্ষেত্রে ৯% সুদ দেয়ার বিধান রয়েছে।

Bkash তার বিপরীতে নয়। এছাড়া যেহেতু অর্থ মূলত বিকাশ না, সিটি ব্যাংক দিচ্ছে তাই অন্যান্য ব্যাংক অনুবাদ অনুযায়ী ৯% সুদ দিতে হবে।

তাই উত্তর সহজ, Bkash Loan নিলে আপনাকে ৯% বার্ষিক সুদের হারে সুদ প্রদান করতে হবে।

কারা পাচ্ছে বিকাশ লোন

এটি খুব গুরুত্বপূর্ণ একটা প্রশ্ন। কারন Bkash Loan দিচ্ছে এটা শোনার পর থেকে সবাই প্রয়োজনে চেষ্টা করবে বিকাশ থেকে লোন নেয়ার জন্য।

এর অন্যতম কারন হচ্ছে এক্ষেত্রে আপনাকে কোনো কিছু জামানত রাখতে হচ্ছে না, এবং খুব সহজ প্রসেসে ইন্সট্যান্ট লোন পাওয়া যাবে।

তো তাদের প্রতিবেদন অনুযায়ী এটুকু জানা যায় যে, এখন কেবল সিলেক্টেড কয়েক হাজার বিকাশ ইউজারই বিকাশ থেকে লোন নিতে পারবে।

পরবর্তীতে ধিরে ধিরে এর পরিমান বাড়াবে বলে জানিয়েছে বিকাশ কর্তৃপক্ষ। এবার আপনি তাদের সিলেক্টেড লিস্টে আছেন কি না সেটা জানতে ভিজিট করতে হবে Bkash App ও সেখানে হাইলাইট করা লোন অপশনটিতে ক্লিক করে জামতে পারবেন আপনাকে Bkash বর্তমানে লোন দিচ্ছে কি না।

বিকাশ লোন পাওয়ার উপায়

যেহেতু Bkash Loan দিচ্ছে, তো Bkash থেকে লোন পাওয়ার উপায় সম্পর্কে জানতে অবশ্যই হবে। এক্ষেত্রে প্রথনেই আপনাকে Bkash অ্যাপ ইউজার হতে হবে।

Bkash অ্যাপ ছাড়া বর্তমানে লোনের জন্য আবেদন করার অপশন নেই। এর পর Bkash অ্যাপ এর ড্যাশবোর্ড থেকে Loan অপশনে ক্লিক করতে হবে।

Bkash যদি আপনাকে বা আপনার একাউন্টকে লোন দেয়ার জন্য উপযুক্ত মনে করে তাহলে পরবর্তী প্রসেস কি করতে হবে তা Bkash নিজেই গাইড করবে আপনাকে।

এক্ষেত্রে কিছু স্টেপ আছে যা নিম্মে বলে দিচ্ছি

১. প্রথমত, অ্যাপ থেকে Loan অপশনে ক্লিক করতে হবে।

২. এরপর একটা ফ্রম আসবে, E KYC from যার নাম। এখানে চাওয়া প্রতিটা ডিটেইলস খুব খেয়াল করে পূরন করে জমা দিতে হবে।

৩. এই পর্যায়ে আপনার ইনফরমেশন চেক করা হবে। আপনি যদি লোনের জন্য যোগ্য হয়ে থাকেন তাহলে টাকা আপনার Bkash একাউন্ট সাথে সাথে যুক্ত হয়ে যাবে।

৪. টাকার সাথে একটা পিন নাম্বার দেয়া হবে। যেই পিন ব্যবহার করে টাকা তোলা যাবে যেকোনো সময়।

৫. আপনি যদি লোনের জন্য যোগ্য না হয়ে থাকেন তাহলে অপশনে আসলেও লোন দেয়া হবে না।

বিঃদ্রঃ Bkash Loan এর যোগ্য হওয়ার জন্য আপনার বিকাশ একাউন্ট এর ৮৫ পয়েন্ট রিওয়ার্ড থাকতে হবে গত মাসের লেনদেনে।

বিকাশ লোন পরিশোনের মাধ্যম

লোনের জন্য Bkash অ্যাপ বা বিকাশের একাউন্ট থেকেই দিচ্ছে, যদিও মূলত দিচ্ছে সিটি ব্যাংক তবে আপনাকে ঋন বা লোনের টাকা পরিশোধ করতে সিটি ব্যাংক এ যেতে হবে না।

নিদিষ্ট সময়ে, নিদিষ্ট পরিমানের টাকা (আসল ও সুদ) বিকাশ অ্যাপ এর মাধ্যমেই দিতে পারবেন।

মূলত ৩টি মাসিক কিস্তির মাধ্যমে বিকাশ লোনের টাকা পরিশোধ করতে হবে বিকাশ অ্যাপ থেকে।

বিকাশের লোন পাওয়ার জন্য নিয়ম

১. সব কিছুরই একটা নিয়ম আছে। হোক সেটা ব্যাংকে বা বিকাশ। বিকাশ লোনের জন্য প্রথমেই আপনাকে বিকাশের রেগুলার ইউজার হতে হবে।

ইউজার বলতে একাউন্ট খোলা আর ইউজার হয়ে যাওয়া না। মূলত রেগুলার বিকাশে লেনদেনের প্রমান দিতে হবে।

অবশ্য নতুন ইউজার অথবা একাউন্ট খোলার পুর ৩ মাস হয়নি এমন ইউজারকে বিকাশের লোন দেয়া হবে না। তো মোট কথা এই যে, বিকাশের অ্যাপ এ যান, লোন অপশনে ক্লিক করুন আর দেখুন।

২. এরপর যে শর্ত আসবে তা হলো বাংলাদেশ ব্যাংকের ঋন গ্রহন পলিসি অনুযায়ী লেনদেন করতে হবে।

৩. এছাড়া সিটি ব্যাংক কর্তৃক কিছু শর্ত ও বিকাশ কর্তৃক কিছু শর্ত নিদিষ্ট করা থাকবে যা আপনার দ্বারা সক্ষম হলে আপনাকে ঋন দেয়া হবে।

কোন ক্ষেত্রে লোন পাওয়া যাবে?

আপাতত কিছু কিছু ক্ষেত্রে ঋনের সুযোগ রেখেছে বিকাশ। তবে ধিরে ধিরে এর প্রসার হবে। এখন যে কয়টি ক্ষেত্রে ঋন দিচ্ছে তা হলো

১. চিকিৎসা
২. প্রাকৃতিক দুর্যোগ
৩. কৃষি কাজ
৪. ব্যবসা
৫. অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ বিষয়

আপনি যেকোনো একটা প্রয়োজনে সর্বোচ্চ ১০ হাজার টাকা অব্দি Bkash থেকে Loan গ্রহন করতে পারবেন কোনো প্রকার জামানত ছাড়া।

ইতিকথা

বিকাশ ও সিটি ব্যাংক সমন্বিত এই সিদ্ধান্ত আসলেই প্রশংসার দাবিদার। অন্যান্য দেশে এরুপ ডিজিটাল লোনের ব্যবস্থা থাকলেও বাংলাদেশে ছিলো না। প্রথমবারের মত ডিজিটাল লোনের সুবিধা নিন এবং বিপদ ও প্রয়োজন পূরন করুন।

 

 

2 thoughts on “বিকাশ লোন কি? কিভাবে বিকাশ থেকে লোন পাওয়া যায়? বিকাশে লোন নেয়ার নিয়ম বিস্তারিত”

Leave a Comment