পরিকল্পনা কি? পরিকল্পনার সংজ্ঞা ও বিশেষজ্ঞদের মতে পরিকল্পনা কাকে বলে?

পরিকল্পনা কি? পরিকল্পনা হলো সুনির্দিষ্ট লক্ষ্য অর্জনে ভবিষ্যৎ কার্যক্রমের অগ্রিম নকশা প্রণয়ন ও সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা। ব্যবস্থাপনার প্রাথমিক ও গুরুত্বপূর্ণ কাজ হলো পরিকল্পনা।

যে কোন প্রতিষ্ঠানের অস্তিত্ব রক্ষা ও উন্নয়নের জন্য পরিকল্পনার বিশেষ তাৎপর্য রয়েছে। পরিকল্পনা ভবিষ্যতের সাথে সম্পৃক্ত। অর্থাৎ এটি এমন একটি প্রক্রিয়া যা প্রতিষ্ঠানের উদ্দেশ্য নির্ধারণ ও বাস্তবায়নে কি করতে হবে, কিভাবে করতে হবে, কাকে করতে হবে এবং কখন করতে হবে প্রভৃতি বিষয় পূর্বেই নির্ধারণ করা হয়।

পরিকল্পনা শুধু প্রাতিষ্ঠানিক উদ্দেশ্যসমূহই প্রতিষ্ঠা করে না বরং প্রতিষ্ঠানের প্রাপ্ত সম্পদাদির কার্যকর ব্যবহারের মাধ্যমে ঐ সকল উদ্দেশ্য লাভজনকভাবে বাস্তবায়ন করে থাকে। নিয়ে পরিকল্পনার কতিপয় উল্লেখযোগ্য সংজ্ঞা উপস্থাপন করা হলো :

বিশেষজ্ঞদের মতে পরিকল্পনা কাকে বলে?

আধুনিক ব্যবস্থাপনার জনক Henri Fayol বলেন, “The plan of action is, at one and the same time, the result envisaged, the line of action to be followed, the stages to go through and the methods to use.”

অর্থাৎ, যে কর্মপন্থা গৃহীত হবে তা, যে সকল পর্যায়ের মধ্য দিয়ে সেটা চলবে তা এবং যে পদ্ধতি অনুসরণ করা হবে তা নির্ধারণ করা এবং ঐ একই সময়ে ফলাফল বিচার করা।

Prof. R. W. Griffin এর ভাষায়, “Planning means setting an organisation’s goals and deciding how best to achieve them.”

অর্থাৎ, পরিকল্পনা অর্থ হচ্ছে প্রতিষ্ঠানের লক্ষ্য নির্ধারণ এবং তা কত উত্তমভাবে অর্জন করা যায় সে সম্পর্কিত সিদ্ধান্ত গ্রহণ প্রক্রিয়া।

Kreitner এর মতে , “Planning is the process of coping with uncertainty by formulating courses of action to achieve specified results.”

অর্থাৎ, সুনির্দিষ্ট ফলাফল অর্জনের কর্মপন্থা প্রণয়নের মাধ্যমে ভবিষ্যৎ অনিশ্চয়তার সাথে সামঞ্জস্য বিধানের প্রক্রিয়াকে পরিকল্পনা বলে।

S. P. Robbins & M. Coulter এর মতে, “Planning involves defining the organisation’s objectives or goals, establishing an overall strategy for achieving these goals and developing a comprehensive hierarchy of plans to integrate and co-ordinate activities.”

অর্থাৎ, সংগঠনের উদ্দেশ্য ও লক্ষ্যসমূহ নির্ধারণ, ঐ লক্ষ্যসমূহ অর্জনের সঠিক কৌশল প্রতিষ্ঠা এবং কার্যক্রমসমূহের মধ্যে সংহতি ও সমন্বয় বিধানের জন্য একটি সামগ্রিক পরিকল্পনার সোপান উন্নয়ন করার সাথে পরিকল্পনা সম্পৃক্ত।

G. R. Terry এর মতে, “Planning is selecting information and making assumptions regarding the future to formulate activities necessary to achieve organisational objectives.”

অর্থাৎ, পরিকল্পনা হলো প্রাতিষ্ঠানিক উদ্দেশ্যাবলি অর্জনে ভবিষ্যৎ প্রয়োজনীয় কার্যক্রম প্রণয়ন সম্পর্কে ধারণা তৈরি ও বিষয়বস্তু নির্দিষ্ট করা।

Prof. Weihrich & Koontz বলেন, “Planning involves selecting missions and objectives and the actions to achieve them; it requires decision making, that is choosing from among alternative future courses of action it.”

অর্থাৎ, লক্ষ্য ও উদ্দেশ্যাবলি নির্বাচন এবং তা অর্জনের কর্মপন্থা গ্রহণের সাথে পরিকল্পনা সম্পৃক্ত; এজন্য প্রয়োজন সিদ্ধান্ত গ্রহণ অর্থাৎ ভবিষ্যতে করণীয় বিকল্প কর্মপন্থাগুলোর মধ্যে থেকে উত্তমটি নির্বাচন করা।

Prof. W. H. Newman এর ভাষায়, “Planning is deciding in advance what is to be done; that is a plan is a projected course of action.”

অর্থাৎ, ভবিষ্যতে কি করতে হবে তার অগ্রিম সিদ্ধান্ত গ্রহণ করাই হলো পরিকল্পনা। অর্থাৎ পরিকল্পনা হচ্ছে একটি অভিক্ষেপিত কর্মসূচি।

উল্লিখিত সংজ্ঞাগুলো বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, পরিকল্পনা হলো এমন একটি প্রক্রিয়া যা সুনির্দিষ্ট লক্ষ্য অর্জনের জন্য ভবিষ্যতের করণীয় সম্পর্কে অগ্রিম সিদ্ধান্ত গ্রহণ করে।

Leave a Comment