পরিকল্পনার সুবিধাসমূহ । পরিকল্পনা করলে যে ক্ষেত্রে সুবিধা পাওয়া যাবে

এই পর্যায়ে জানাবো পরিকল্পনার করার ক্ষেত্রে যে সকল সুবিধা গুলো ভোগ করা যায়, মানে পরিকল্পনার সুবিধাসমূহ যা একটি সুষ্ঠ পরিকল্পনা প্রণয়নের পাশাপাশি অবশ্যই জানা উচিৎ পরিকল্পনার সুবিধা গুলো।

পরিকল্পনা ব্যবস্থাপনার একটি মৌলিক ও প্রাথমিক কাজ। এজন্যে যেকোন প্রতিষ্ঠানের সকল স্তরে সফল ব্যবস্থাপকগণ পরিকল্পনা প্রণয়নের উপর অধিক গুরুত্বারোপ করে থাকেন। পরিকল্পনার সুবিধাসমূহ নিম্নে আলোচনা করা হলো: 

পরিকল্পনার সুবিধাসমূহ গুলো নিম্মে উল্লেখ্য করা হলো 

উদ্দেশ্য সুনির্দিষ্টকরণ (Specifying objective)

উদ্দেশ্যকে সামনে রেখে প্রতিষ্ঠানের সমুদয় কার্যাবলি পরিচালিত হয়। তাই পরিকল্পনার প্রাথমিক ও গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হলো উদ্দেশ্য নির্ধারণ করা। ফলে উদ্দেশ্য সুনির্দিষ্টকরণে পরিকল্পনা অত্যন্ত সহায়ক ভূমিকা পালন করে।

অনিশ্চিত পরিস্থিতি মোকাবিলা (To face uncertain condition) 

পরিকল্পনা ব্যবস্থাপকদেরকে ভবিষ্যতে কি ঘটতে পারে সে সম্পর্কে সম্ভাব্য ধারণা ও প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের ইঙ্গিত দিয়ে থাকে। এতে ভবিষ্যতের অনিশ্চিত পরিস্থিতি মোকাবিলা করা সহজতর হয়।

নিয়ন্ত্রণে সহায়তা (Aid to control) 

ব্যবস্থাপনার সকল স্তরে নিয়ন্ত্রণ প্রক্রিয়ার অস্তিত্ব রয়েছে। কিন্তু পরিকল্পনা ছাড়া নিয়ন্ত্রণের প্রশ্নই উঠে না। কারণ পরিকল্পনা প্রাতিষ্ঠানিক লক্ষ্য অর্জনে কার্যকর নিয়ন্ত্রণ মান নির্ধারণ করে। ফলে ব্যবস্থাপকগণের পক্ষে নির্ধারিত মান অনুযায়ী কাজ হচ্ছে কিনা তা পর্যবেক্ষণ ও প্রয়োজনীয় সংশোধনমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করা সম্ভব হয়।

উৎসাহ বৃদ্ধি (Increasing interest)

পরিকল্পনার মাধ্যমে প্রতিষ্ঠানের সুনির্দিষ্ট লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়। নির্ধারিত লক্ষ্য অর্জনে প্রতিষ্ঠানে নিয়োজিত শ্রমিক ও নির্বাহীগণ সক্রিয়ভাবে কার্যক্রম পরিচালনা করে। এতে কর্মীদের দক্ষতা ও উৎপাদনশীলতা বৃদ্ধি পায় । তাছাড়া সঠিক পরিকল্পনার অধীনে কাজ করতে শ্রমিক কর্মীরা অধিক উৎসাহ বোধ করে। 

সম্পদের কাম্য ব্যবহার (Optimum utilization of resources) 

সুষ্ঠু পরিকল্পনা প্রতিষ্ঠানের প্রাপ্ত সম্পদাদির কাম্য ব্যবহার নিশ্চিত করে। এক্ষেত্রে পরিকল্পনা প্রতিষ্ঠানের জনবল, অর্থ ও অন্যান্য সম্পদাদির সর্বোত্তম ব্যবহারের নিশ্চয়তা বিধান করে। এতে প্রতিষ্ঠানের উদ্দেশ্য ও উন্নয়ন উভয়ই অর্জিত হয়। 

দক্ষতা বৃদ্ধি (Increasing efficiency)

সুষ্ঠু পরিকল্পনা শ্রমিক কর্মী ও নির্বাহীদের কার্য দক্ষতা বৃদ্ধি করে। পরিকল্পনার মাধ্যমে প্রতিষ্ঠানের লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়। এরূপ নির্ধারিত লক্ষ্য অর্জনে উপযুক্ত কার্য পদ্ধতি অনুসরণ করা যায়। এতে শ্রমিক কর্মী ও নির্বাহীগণের পক্ষে দক্ষতার সাথে কার্য সম্পাদন করা সম্ভব হয়।

সমন্বয় সাধন (Achieving co-ordination)

প্রতিষ্ঠানের উন্নয়নের স্বার্থে বিভিন্ন বিভাগ, ব্যক্তি ও কাজের মধ্যে সুসমন্বয় বজায় রাখতে হয়। এক্ষেত্রে পরিকল্পনা বিশেষভাবে সহায়তা করে থাকে। অর্থাৎ পরিকল্পনার মাধ্যমে প্রতিষ্ঠানের সার্বিক কার্যক্রমে সুসমন্বয় প্রতিষ্ঠা করা হয়। অন্যথায় প্রাতিষ্ঠানিক কার্যক্রমে বিশৃঙ্খলা ও অসামঞ্জস্যতা বিরাজ করে।

মিতব্যয়িতা অর্জন (Achieving economy)

পরিকল্পনা প্রতিষ্ঠানের সম্পদাদির কাম্য ব্যবহারের নিশ্চয়তা প্রদানে বিশেষভাবে সহায়তা করে থাকে। পরিকল্পনার মাধ্যমে অল্প শ্রমে স্বল্প ব্যয়ে ও উপযুক্ত সময়ে প্রতিষ্ঠানের সম্পদাদির ব্যবহার করা সম্ভব হয়। এতে মিতব্যয়িতা অর্জনের মাধ্যমে প্রতিষ্ঠানের লক্ষ্যার্জন সম্ভব হয়।

শৃঙ্খলা প্রতিষ্ঠা (Establishment of discipline) 

প্রতিষ্ঠানের সার্বিক কার্যক্রম নিয়মতান্ত্রিক উপায়ে ও সুশৃঙ্খলভাবে পরিচালনার জন্য পরিকল্পনা প্রণয়ন করা হয়। এ ব্যবস্থায় প্রতিষ্ঠানে নিয়োজিত শ্রমিক কর্মী ও নির্বাহীদের দায়িত্ব ও কার্য এবং প্রাপ্ত সম্পদাদির যথাযথ ব্যবহার সম্ভব হয়। ফলে প্রতিষ্ঠানের বিভিন্ন বিভাগ, উপ-বিভাগ ও ব্যক্তিদের মধ্যে পারস্পরিক সহযোগিতা, সমঝোতা ও সুষ্ঠু যোগাযোগের পথ সুগম হয়। এতে প্রতিষ্ঠানের সকল ক্ষেত্রে শৃঙ্খলা প্রতিষ্ঠিত হয়।

সুষ্ঠু নিয়ন্ত্রণ (Proper control)

প্রতিষ্ঠানের সার্বিক কার্যক্রমে নিয়ন্ত্রণের বিশেষ গুরুত্ব রয়েছে। কিন্তু পরিকল্পনা ব্যতীত নিয়ন্ত্রণের প্রশ্নই উঠে না। পরিকল্পনা নিয়ন্ত্রণের একটি আদর্শ মান প্রতিষ্ঠায় সহায়তা করে। এ আদর্শ মানের ভিত্তিতে নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠানের কার্যক্রমের ভুল-ত্রুটি নির্ধারণ ও প্রয়োজনীয় সংশোধনমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করে থাকে। তাই সুষ্ঠু নিয়ন্ত্রণ ও প্রাতিষ্ঠানিক লক্ষ্যার্জনে পরিকল্পনার ব্যবহার অত্যন্ত ফলপ্রসূ।

সুতরাং এই ছিলো পরিকল্পনার সুবিধাসমূহ। মূলত পরিকল্পনা ব্যবস্থাপনার প্রথম ও গুরুত্বপূর্ণ কাজ। কারণ পরিকল্পনা ব্যতীত ব্যবস্থাপনার অন্যান্য কাজ সুষ্ঠুভাবে সম্পাদন করা সম্ভব নয়। তাই প্রতিষ্ঠানের লক্ষ্যার্জন নিশ্চিতকরণে পরিকল্পনা একটি ফলপ্রদ উপায় হিসেবে বিবেচিত।

Leave a Comment