পরিকল্পনার গুরুত্ব ও প্রয়োজনীয়তা । পরিকল্পনা – ব্যবস্থাপনা । বিবিএ 

পরিকল্পনার গুরুত্ব ও প্রয়োজনীয়তা অনেক বেশিই কারন একটি প্রতিষ্ঠান গঠিত হয়ই পরিকল্পনার দ্বারা। তাছাড়া পরিকল্পনার আরো বেশ কিছু প্রয়োজনীয়তা রয়েছে যা বিস্তারিত জানানো হবে আর্টিকেলে। 

হ্যালো সবাইকে, আমি সেলিম মাহামুদ বলছি আমার একক ব্লগ Salim Speaking থেকে। এডুকেশন সেক্টরের বিবিএ এর সকল বিষয় গুলো ধিরে ধিরে তুলে ধরাই আমার উদ্দেশ্য। তারই ধারাবাহিকতায় এই আর্টিকেলে থাকছে ব্যবস্থাপনার পরিকল্পনা অধ্যায় থেকে “পরিকল্পনার গুরুত্ব ও প্রয়োজনীয়তা”

পরিকল্পনা ব্যবস্থাপনার প্রাথমিক কাজ । আধুনিক বৃহদায়তন ও জটিল কারবারি যুগে পরিকল্পনার গুরুত্ব উন্নত ও উন্নয়নশীল দেশে পরিকল্পনার যথাযথ প্রয়োগে অধিকাংশ ক্ষেত্রেই সাফল্য অর্জন করেছে। পরিকল্পনা শুধু ব্যবসার ক্ষত্রেই নয় বরং জাতীয় জীবনের সকল স্তরে পরিকল্পনার প্রয়োজনীয়তা অনস্বীকার্য । অর্থাৎ পরিকল্পনা ব্যতীত কোন কার্যই সুশৃঙ্খলভাবে সম্পাদন সম্ভব নয়। 

পরিকল্পনার গুরুত্ব ও প্রয়োজনীয়তা আলোচনা 

১. উদ্দেশ্য অর্জনে সহায়তা (Aid to attainment of objectives) : প্রতিটি প্রতিষ্ঠানই একটি সুনির্দিষ্ট উদ্দেশ্যকে সামনে রেখে প্রতিষ্ঠা করা হয়। পরিকল্পনার প্রধান কাজ হলো প্রতিষ্ঠানের এ উদ্দেশ্য অর্জনে সহায়তা করা। পরিকল্পনা বর্তমান প্রতিযোগিতামূলক বাজারে ব্যবসায়ের ঝুঁকি ও অনিশ্চয়তা মোকাবিলা করে প্রতিষ্ঠানের কাঙ্ক্ষিত লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য অর্জনে সদা সচেষ্ট থাকে। পরিকল্পনা বাস্তবায়নের মাধ্যমে ব্যবসায়ের উদ্দেশ্য অর্জন সহজতর হয়। তাই পরিকল্পনাকে উদ্দেশ্য অর্জনের হাতিয়ার বলা হয় ।

২. প্রতিষ্ঠানের উন্নয়ন (Development of organization) : উন্নয়নের জন্য প্রয়োজন একটি সুশৃঙ্খলা ও নিয়মতান্ত্রিক পদ্ধতি। সুষ্ঠু পরিকল্পনা প্রণয়নের মাধ্যমেই প্রতিষ্ঠানের কার্যক্রমে গতিশীলতা ও শৃঙ্খলা বজায় রাখা সম্ভব। প্রতিষ্ঠানে নিয়োজিত শ্রমিক-কর্মীদের যথাযথ দায়িত্ব পালন, উৎপাদন উপকরণের সুষ্ঠু ব্যবহার ও সর্বোত্তম কার্য পদ্ধতি প্রয়োগ প্রভৃতি ক্ষেত্রে পরিকল্পনা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে থাকে। এতে প্রতিষ্ঠানের উন্নয়ন ত্বরান্বিত হয়।

৩. উৎপাদন উপকরণের কাম্য ব্যবহার (Optimum utilization of factors of production) : শিল্প প্রতিষ্ঠানের সাফল্য অনেকাংশে উৎপাদন উপকরণের সর্বোত্তম ব্যবহারের উপর নির্ভরশীল। পরিকল্পনা প্রণয়নের মাধ্যমে প্রতিষ্ঠানের প্রাপ্ত সম্পদাদির যথাযথ ব্যবহারের নিশ্চয়তা বিধান করা হয়। অর্থাৎ পরিকল্পিত উপায়ে উৎপাদন উপকরণ, যেমন-শ্রমিক, অর্থ ও অন্যান্য সম্পদের যথাযথ ব্যবহারের মাধ্যমে সর্বাধিক উৎপাদনের নিশ্চয়তা বিধান করা সম্ভব হয়।

৪. ব্যয় হ্রাস (Reducing of cost) : ন্যূনতম ব্যয়ে প্রতিষ্ঠানের সর্বাধিক কার্যক্রম পরিচালিত হলে সর্বাধিক মুনাফা অর্জন সম্ভব হয়। একমাত্র সুষ্ঠু পরিকল্পনা প্রণয়নের মাধ্যমেই এ ব্যবস্থার কার্যকর বাস্তবায়ন ঘটে। অর্থাৎ পরিকল্পিত উপায়ে প্রতিষ্ঠানের শ্রম ও অন্যান্য সম্পদাদি ব্যবহার করা হলে ন্যূনতম ব্যয়ে উৎপাদন কার্যক্রম পরিচালনা করা সম্ভব। এতে প্রতিষ্ঠানের মোট ব্যয় হ্রাস পায়।

৪. ব্যয় হ্রাস (Reducing of cost) : ন্যূনতম ব্যয়ে প্রতিষ্ঠানের সর্বাধিক অর্জন সম্ভব হয়। মাধ্যমেই এ ব্যবস্থার কার্যকর বাস্তবায়ন ঘটে। অর্থাৎ উপায়ে প্রতিষ্ঠানের শ্রম ও অন্যান্য সম্পদাদি ব্যবহার করা হলে ন্যূনতম ব্যয়ে উৎপাদন কার্যক্রম পরিচালনা করা সম্ভব। একমাত্র সুষ্ঠু পরিকল্পনা প্রণয়নের এতে প্রতিষ্ঠানের মোট ব্যয় হ্রাস পায়।

আরো কিছু গুরুত্ব ও প্রয়োজনীয়তা

৫. দক্ষতা অর্জন (Achieving efficiency) : প্রতিষ্ঠানের সার্বিক কার্যক্রমে দক্ষতা অর্জন করা হলে প্রতিষ্ঠানের উন্নয়ন ত্বরান্বিত হবে। এক্ষেত্রে পরিকল্পনা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে থাকে। পরিকল্পিত প্রতিষ্ঠানে নিয়োজিত প্রতিটি উপায় উপকরণের কার্যকর ব্যবহার নিশ্চিত করা হলে এগুলোর কার্য দক্ষতা বৃদ্ধি পাবে। এতে প্রতিষ্ঠানের লক্ষ্যার্জন সম্ভব হয় ।

৬. সমস্যার সঠিক সমাধান (Proper solution of problems) : আধুনিক বৃহদায়তন ও জটিল কারবারি যুগে অভ্যন্তরীণ ও বাহ্যিক কারণে প্রতিষ্ঠানের কার্যাবলিতে নানাবিধ সমস্যার সৃষ্টি হয়। এসব সমস্যার সমাধানের লক্ষ্যে পরিকল্পনা প্রণেতাগণ আগাম কর্মসূচি প্রণয়ন করে থাকে। এতে প্রতিষ্ঠানের কার্যাবলিতে কোনরূপ বিঘ্ন ঘটে না বরং নিয়মতান্ত্রিক উপায়ে কার্যক্রম পরিচালিত হয়।

৭. ভবিষ্যৎ সম্পর্কে ধারণা (Forecasting) : পরিকল্পনার মাধ্যমে কোন প্রতিষ্ঠানের ভবিষ্যৎ কর্মসূচি নির্ধারণ করা হয়। তাছাড়া ঐসব কর্মসূচি বাস্তবায়নকালে কি ধরনের সমস্যা সৃষ্টি হতে পারে সে সম্পর্কেও পরিকল্পনার মাধ্যমে আগাম ধারণা নেয়া ও প্রয়োজনীয় সংশোধনমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়। এতে উদ্ভূত সমস্যার দ্রুত সমাধান সম্ভব হয়।

৮. নিয়ন্ত্রণে সহায়তা (Aid to control) : প্রতিষ্ঠানের কার্যক্রম সুষ্ঠু ও সুশৃঙ্খলভাবে সম্পাদনে নিয়ন্ত্রণের গুরুত্ব অত্যধিক। পরিকল্পনাকে নিয়ন্ত্রণের ভিত্তি বলা হয়। পরিকল্পনা ব্যতীত কার্যকর নিয়ন্ত্রণ সহজসাধ্য নয়। সুতরাং নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থার কার্যকর বাস্তবায়নে পরিকল্পনার প্রয়োজনীয়তা অপরিসীম।

৯. সিদ্ধান্ত গ্রহণ (Decision making) : প্রাতিষ্ঠানিক লক্ষ্য অর্জনে একাধিক বিকল্প পন্থা অনুসরণ করা যেতে পারে। তবে এসব বিকল্প পন্থা হতে সর্বোত্তম পন্থাটি বাছাই করা হয় পরিকল্পনার মাধ্যমে। এ দৃষ্টিকোণ থেকে বলা যায়, পরিকল্পনা সিদ্ধান্ত গ্রহণের সাথে নিবিড়ভাবে সম্পৃক্ত। সুতরাং সিদ্ধান্ত গ্রহণের ক্ষেত্রেও পরিকল্পনার বিশেষ তাৎপর্য রয়েছে।

১০. সহজ সমন্বয়: প্রতিষ্ঠানের মূল পরিকল্পনার ভিত্তিতে বিভিন্ন বিভাগ ও উপবিভাগ কর্তৃ ক পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়। বই পরিকল্পনার ভিত্তিতে এর বাস্তবায়ন করা হয় বলে প্রতিষ্ঠানের সকল কাজের সমন্বয় ঘটানো সহজতর হয়। একই পরিকল্পনার আওতায় নির্ধারিত উদ্দেশ্যে অর্জনের জন্য কার্যক্রমের বাস্তবায়নও সহজ হয়। 

১১. অপচয়ের হ্রাস : সুষ্ঠু পরিকল্পনা অনুযায়ী কার্যক্রম পরিচালনার ফলে প্রতিষ্ঠানের যাবতীয় সম্পদের অপচয় হ্রাস পায় এর ফলে সময় এবং আর্থিক অপচয় হ্রাস করা সম্ভব হয়।

আর্টিকেল থেকে যা শিখলেন

উপরোক্ত আলোচনায় প্রতিমান হয় যে, প্রতিষ্ঠানিক উদ্দেশ্য অর্জনে পরিকল্পনার বিকল্প নেই। পারিবারিক জীবন থেকে শুরু করে রাষ্ট্রের সর্বোচ্চ পর্যায়ে পর্যন্ত সকল ক্ষেত্রে কাঙ্খিত রক্ষার জন্য পরিকল্পনা গুরুত্ব ও প্রয়োজনীয়তা অপরিসীম। পরিকল্পনা বিষয়ক আরো বিষয় জানতে নিচের ফিচার্স গুলো দেখুন। 

Leave a Comment