পরিকল্পনার অসুবিধা ও সীমাবদ্ধতা সমূহ । পরিকল্পনা অসুবিধা গুলো 

আমরা জানি পরিকল্পনা খুব গুরুত্বপূর্ণ একটি বিষয় একটি প্রতিষ্ঠানের জন্য। তবে এর যেমন সুবিধা রয়েছে তেমনই রয়েছে বেশ কিছু অসুবিধা। এখানে আলোচনা করা হবে পরিকল্পনার অসুবিধা গুলো সম্পর্কে। 

হ্যালো সবাইকে আমি সেলিম মাহামুদ বলছি Salim Speaking ব্লগ থেকে। এখানে আমার ব্যক্তিগত অর্জিত ধারনা থেকে বিভিন্ন ধরনের ব্যাখ্যা মূলক আলোচনার সমাধান দিয়ে থাকি সহজ বাংলা ভাষায়। তারই ধারাবাহিকতায় এবার থাকছে পরিকল্পনার অসুবিধা গুলো সম্পর্কে। 

প্রতিষ্ঠানের কার্যক্রম সুষ্ঠু ও সুশৃঙ্খভাবে পরিচালনা ও লক্ষ্য অর্জনের নিশ্চিতকরণে পরিকল্পনার বিশেষ সুবিধা রয়েছে। পাশাপাশি পরিকল্পনার অসুবিধা রয়েছে মনে পরিকল্পনা প্রণয়ন ও বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে যে সকল অসুবিধাগুলো সচারচর ঘটে থাকে সেগুলো নিয়ে আলোচনা করা হলো। 

পরিকল্পনার অসুবিধা বা সীমাবদ্ধতা সমূহ

১. সঠিক তথ্য ও ভবিষ্যৎ নির্ধারণের সমস্যা

পরিকল্পনা হলো ভবিষ্যতের কর্মসূচির নকশা কিন্তু ভবিষ্যত সর্বদাই অনিশ্চিত। যার কারণে পরিকল্পনা প্রণয়নে যে সকল তথ্য ও উপাত্ত সংগ্রহ করা হয় সেগুলো বাস্তবে তেমন কার্যকারী হয় না। বর্তমানে প্রতিযোগিতামূলক বাজারে কাঁচামাল শ্রম দ্রব্যের চাহিদা ও যোগান এবং দ্রব্যমূল্যের হ্রাস ও বৃদ্ধি প্রভৃতির প্রতিনিয়ত পরিবর্তন ঘটে চলছে। ফলে এসব ক্ষেত্রে প্রাপ্ত তথ্যাদি সবসময় সঠিক হয় না তাই পরিকল্পনা কার্যকর বাস্তবায়নে অচল অবস্থাযর সৃষ্টি হয়। সুতরাং পরিকল্পনার একটি অন্যতম অসুবিধা হচ্ছে সঠিক তথ্য ও ভবিষ্যৎ নির্ধারণ-করণের সমস্যা। 

২. পরিকল্পনা সর্বদা ব্যয়বহুল

পরিকল্পনা প্রণয়নের পর্যাপ্ত তথ্য সংগ্রহ বিশ্লেষণ এবং সেগুলোর যথাযথ সংরক্ষণে প্রচুর অর্থ ব্যয় করতে হয়। তাছাড়া এই কাজের জন্য প্রতিষ্ঠানে পৃথক পরিকল্পনা বিভাগ স্থাপন করতে হয়। এতে পরিকল্পনার ব্যয়বহুল্য হয়ে পড়ে অর্থাৎ পরিকল্পনা থেকে অর্জিত ফলাফলের চেয়ে ব্যয়ের পরিমাণ অধিকার থাকে। 

৩. পরিকল্পনা একটি সময় সাপেক্ষ কাজ

আধুনিক বিশ্বে যে সকল প্রতিষ্ঠানগুলো রয়েছে সেগুলোর পরিকল্পনা প্রণয় পর্যাপ্ত তথ্য ও উপাত্ত সংগ্রহ বিশ্লেষণ ও সংগ্রহীত তত্ত্বের যথাযথ ব্যবহারে ব্যাপক সময় ব্যয় করতে হয়। তাছাড়া পরিবর্তিত পরিস্থিতিতে পরিকল্পনার প্রয়োজনীয় পরিবর্তন পরিকল্পনা প্রণয়নে পর্যাপ্ত সময় প্রয়োজন হয়। আর এই সকল কারণে পরিকল্পনাকে সর্বদা সবার সাপেক্ষ কাজ হিসেবে ধরা হয়। 

৪. মনস্তাত্ত্বিক বাধা সৃষ্টি

মানুষের সহযাত প্রবৃত্তি হলো ও প্রচলিত ধ্যান ধারণা ও রীতি নীতিকে আঁকড়ে থাকা তাই প্রতিষ্ঠানের নিয়োজিত শ্রমিক কর্মীরাও গৃহীত পরিকল্পনার অধীনে কাজ করতে বেশি আগ্রহ প্রকাশ করে। কিন্তু সময়ের সাথে পরিবর্তিত পরিস্থিতিতে পরিকল্পনার বস্তু বিষয় পরিবর্তনের প্রয়োজন হয়। কিন্তু গৃহীত পরিকল্পনার পরিবর্তনের মধ্য দিয়ে নতুন পরিকল্পনা প্রকাশ করে। তার পরিকল্পনার একটি গুরুত্বপূর্ণ সমস্যা যাকে না একটি প্রতিষ্ঠানের কর্মী পাস শ্রমিকরা সর্বদা সম্মুখীন করে। 

৫. আমিতো সিদ্ধান্ত গ্রহণে সমস্যা

পরিকল্পনা প্রণয়নের ক্ষেত্রে পর্যাপ্ত তথ্য সংগ্রহ ও বিশ্লেষণের প্রয়োজন হয় তাছাড়া পরিকল্পনার কতগুলো ধারাবাহিক প্রক্রিয়া অনুসরণ করা হয়। ফলে পরিবর্তিত পরিস্থিতিতে পরিকল্পনার অদ বোতলের ক্ষেত্রে দ্রুত সিদ্ধান্ত গ্রহণের মত জটিল সমস্যার সম্মুখীন হতে হয়। যেহেতু একটি সুস্র পরিকল্পনার উপর নির্ভর করে একটি প্রতিষ্ঠানের সকল কার্যক্রম সাজানো হয় সেই সুবাদে দ্রুত সিদ্ধান্ত গ্রহন পরিকল্পনার ক্ষেত্রে একটি বড় সমস্যা। 

৬. প্রয়োগিক বাস্তবতা

একটি প্রতিষ্ঠানের জন্য যে পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয় সেগুলোকে বাস্তবে প্রয়োগ করার উপরই একটি প্রতিষ্ঠানের সফলতা ও ব্যর্থতা অনেকাংশে নির্ভরশীল। পরিকল্পনা শুধু তাত্ত্বিক নয় বরং একটি বাস্তব প্রয়োগের গুরুত্ব রয়েছে কোন কোন সময় গৃহীত পরিকল্পনা অনুযায়ী কার্যক্রম পরিচালনা করা অসম্ভব হয়ে পড়ে। যেমন যান্ত্রিক ত্রুটি দুর্ঘটনা ও আরো অন্যান্য কারণে পরিকল্পিত উপায়ে কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়া অনেক সময় সম্ভব হয়ে ওঠেনা ফলে পরিকল্পনার প্রয়গিক বাস্তবতা অর্জনে ব্যর্থ হয় এতে করে পরিকল্পনার উপর নির্ভর করে প্রতিষ্ঠানের যে লক্ষ্য অর্জনের উদ্দেশ্য থাকে সেটা ব্যাহত হয়। 

৭. বাহ্যিক সমস্যা

পরিকল্পনা অনুমানের ওপর ভিত্তি করে প্রমাণ করা হয় কিন্তু অনুমান যেসব সময় ঠিক হবে এমন কোন নিশ্চয়তা নেই। তাছাড়া পরিকল্পনা ও বাস্তবায়ন প্রতিষ্ঠানের অভ্যন্তর ও বাহ্যিক বিভিন্ন বিষয় দ্বারা প্রভাবিত হয়। এক্ষেত্রে অভ্যন্তরীণ সমস্যা অনেক সময় মোকাবিলা করা সম্ভব হলেও বাহ্যিক যে সমস্যাগুলো রয়েছে যেমন শিল্পনীতি বাণিজ্য নীতি রাজস্ব ও আর্থিক নীতি ও রাজনৈতিক পরিস্থিতি প্রভৃতি সবসময় নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব হয় না। 

৮. উদ্যোগ গ্রহণের সমস্যা

প্রতিষ্ঠানের কার্যক্রম সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনা অনুযায়ী পরিচালিত হয় এতে দায়িত্বপ্রাপ্ত ব্যবস্থাপক গন্ধের পক্ষের স্বাধীনভাবে কাজ করা সম্ভব হয় না এক্ষেত্রে তাদের ব্যক্তিগত উদ্যোগ এবং উৎসাহ ও উদ্দীপনা অনেকাংশেই হ্রাস পায়। 

৯. পরিবর্তিত পরিস্থিতি মোকাবিলার সমস্যা

সাধারণ প্রতিষ্ঠানের কার্যক্রম কিহিত পরিকল্পনা অনুযায়ী পরিচালিত হয়। কিন্তু বাণিজ্যের দুষ্ট চক্র আমদানি রপ্তানি বাণিজ্য ভারভারসাম্যতা অথবা অন্য কোন কারণে দেশে অর্থনৈতিক মন্দ অবস্থা বিরাজ করলে পরিকল্পনার দ্রুত পরিবর্তন প্রয়োজন হয় কিন্তু পরিকল্পনা একটি দীর্ঘ মেয়াদী ব্যবস্থা বিদায় পরিবর্তিত পরিস্থিতিতে এর দ্রুত পরিবর্তন করা অনেক সময় সম্ভব হয়ে ওঠে না। 

১০. ভুল সংশোধন করার ক্ষেত্রে সমস্যা 

সুষ্ঠু পরিকল্পনা প্রণয়নের জন্য গতিপায় বিশেষজ্ঞ লোকদের প্রয়োজন হয় অন্যথায় গৃহীত পরিকল্পনা বাস্তবায়নকালে নানা ত্রুটি পরিলক্ষিত হয়। এমন অবস্থায় পরিকল্পনার প্রয়োজন সংশোধন অত্যন্ত কষ্টকর এক্ষেত্রে পরিকল্পনা করন ও প্রয়োজনীয় সংশোধনের কোন ব্যবস্থা গ্রহণ করলে প্রতিষ্ঠানের কার্যক্রমের নিয়ম তান্ত্রিক প্রক্রিয়া ব্যাহত হয় যা কখনোই কাম্য নয়। 

পরিশেষে বলা যায়, উল্লেখিত সমস্যা সমূহ ব্যবস্থাপনার অযোগ্যতা অধক্ষ্যতা শ্রমিক সংঘের অভাব রাজনৈতিক পরিস্থিতি পরিকল্পনার উপর অতি নির্ভরশীলতা নির্বাহীদের ভ্রান্ত নিরাপত্তা ভোট ইত্যাদি পরিকল্পনার কার্যকর বাস্তবায়নে অচল অবস্থায় সৃষ্টি করে। তবে পরিকল্পনার এইসব সমস্যা দিয়ে দূর করার জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করে পরিকল্পনার কার্যকারিতা বৃদ্ধি করা যেতে পারে। আপনি যদি পরিকল্পনার অন্যান্য বিষয় গুলো সম্পর্কে জানতে চান তবে এই ব্লগের পরিকল্পনা ক্যাটাগরি অনুসরণ করুন। 

Leave a Comment