নেতৃত্বের গুরুত্ব ও প্রয়ােজনীয়তা | ব্যবস্থাপনায় নেতৃত্বের গুরুত্ব | Importance of Leadership

প্রতিটি প্রতিষ্ঠানের ক্ষেত্রে সফলতা অর্জনের জন্য প্রয়োজন দক্ষ ব্যবস্থাপনা উক্ত কাজে সর্বোচ্চ সাহায্য করে নেতৃত্বদান। নেতৃত্বের গুরুত্ব ও প্রয়ােজনীয়তা অকল্পনীয় প্রভাব বিস্তার করে একটি প্রতিষ্ঠানের ক্ষেত্রে। 

আজ বলবো নেতৃত্বের গুরুত্বপূর্ণ ও প্রয়োজনীয়তা সম্পর্কে এবং ব্যাখ্যা করার চেষ্টা করব কেন নেতৃত্ব এত গুরুত্বপূর্ণ একটি প্রতিষ্ঠানের জন্য।

[💡Note: আপনি যদি নেতৃত্ব কি এবং নেতৃত্ব কাকে বলে সে সম্পর্কে অবগত না থাকেন তাহলে এই আর্টিকেলটি পড়ে আসার জন্য বলা হচ্ছে কারন সে বিষয়ে না জানলে এই আর্টিকেলটি মূল বিষয়বস্তু বোধগম্য হবে না। আর ইতিমধ্যেই যদি নেতৃত্বের সম্পর্কে অবগত থাকেন তাহলে পরবর্তী লেখাগুলো পড়ার আমন্ত্রণ জানাচ্ছি ]

প্রাতিষ্ঠানিক লক্ষ্যার্জন নিশ্চিতকরণে নেতৃত্ব বিশেষ ভূমিকা পালন করে। কেননা, নেতৃত্বের তত্ত্বাবধানে দলীয় সদস্যরা লক্ষ্যার্জনে অগ্রসর হয়। কার্যকর নেতৃত্বের অভাবে প্রতিষ্ঠানের সার্বিক কর্মকাণ্ডে বিশৃঙ্খলার সৃষ্টি হয়। 

এতে উৎপাদন উপকরণ অলসভাবে পড়ে থাকে। তাই বলা যায়, সঠিক নেতৃত্বের উপর প্রতিষ্ঠানের সাফল্য অনেকাংশে নির্ভরশীল। নিম্নে নেতৃত্বের গুরুত্ব ও প্রয়ােজনীয়তা আলােচনা করা হলাে :

নেতৃত্বের গুরুত্ব ও প্রয়ােজনীয়তা সমূহ

পিত্তের গুরুত্ব ও প্রয়োজনীয়তা বিষয়ক প্রতিটি বিষয়ে শিরোনাম এবং সেই শিরোনামের সহজ কিছু ব্যাখ্যা প্রদানের মাধ্যমে বিষয়গুলো বোধগম্য করার চেষ্টা করছি। শুরু করা যাক..

১. উৎপাদন উপকরণের কাম্য ব্যবহার (Optimum utilization of factors of production)

উৎপাদনী সংস্থায় উৎপাদন উপকরণের উপস্থিতিই যথেষ্ট নয়। বাস্তবে এদের যথাযথ প্রয়ােগের উপর প্রতিষ্ঠানের সাফল্য অনেকাংশে

নির্ভর করে। একমাত্র সঠিক নেতৃত্বের মাধ্যমেই প্রতিষ্ঠানের বিভিন্ন উপায় উপকরণের কাম্য ব্যবহারের নিশ্চয়তা বিধান করা যায়। এতে ন্যূনতম ব্যয়ে সর্বাধিক উৎপাদন করা সম্ভব হয়।

২. কর্মীদের প্রেষণা দান (Motivation to workers) 

কার্যকর নেতৃত্ব কর্মীদের প্রেষণা দানে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। এক্ষেত্রে একজন আদর্শ নেতা কর্মীদেরকে উৎসাহ ও অনুপ্রেরণা দিয়ে, বিভিন্ন আর্থিক ও অনার্থিক সুবিধাদি প্রদান করে কাজে অধিক মনােযােগী করতে পারে।এতে কাজের মান ও কার্যদক্ষতা উভয়ই বৃদ্ধি পায়।

৩. সমন্বয় সাধন (Coordination) 

সমন্বয় ব্যবস্থাপনার একটি গুরুত্বপূর্ণ কাজ। একজন নেতা প্রতিষ্ঠানের বিভিন্ন বিভাগ, উপ-বিভাগ, ব্যক্তি ও কার্যের মধ্যে সুসমন্বয় সাধনে অগ্রণী ভূমিকা পালন করে থাকে। এতে প্রতিষ্ঠানের দলীয় প্রচেষ্টা জোরদার হয়।

৪. সামাজিক দায়িত্ব (Social responsibility) 

আধুনিক কারবারি প্রতিষ্ঠানগুলােকে মুনাফা অর্জনের পাশাপাশি সামাজিক দায়িত্বও পালন করতে হয়। এক্ষেত্রে একজন আদর্শ নেতাকে প্রতিষ্ঠানে নিয়ােজিত সকল কর্মীদের অভাব অভিযােগ, সুখ-দুঃখ, আবেগ-অনুভূতি ও সমস্যা অত্যন্ত গুরুত্বের সাথে অনুধাবন ও প্রয়ােজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হয়। 

এতে কর্মীদের কার্য সন্তুষ্টি বৃদ্ধি পায়। ফলে ন্যূনতম ব্যয়ে সর্বাধিক উৎপাদন করা সম্ভব হয় এবং সল্পমূল্যে ভােক্তাদের নিকট পণ্যের সরবরাহ নিশ্চিত করা যায়।

৫. উত্তম শ্রম-ব্যবস্থাপনা সম্পর্ক প্রতিষ্ঠা (Establishing good labour-management relationship)

উৎপাদনের যেসব উপাদান রয়েছে তার মধ্যে মানব সম্পদ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। একজন আদর্শ নেতা প্রতিষ্ঠানের আনুষ্ঠানিক সম্পর্কের পাশাপাশি অনানুষ্ঠানিক সম্পর্কের উন্নয়নে সহায়তা করে থাকে। এতে প্রতিষ্ঠানে উত্তম শ্রমব্যবস্থাপনা সম্পর্ক বিরাজ করে। এমতাবস্থায় প্রতিষ্ঠানে নিয়ােজিত সর্বস্তরের কর্মী নিজ নিজ কর্ম সম্পাদনের মাধ্যমে লক্ষ্যার্জনে সচেষ্ট হয়।

৬. সহযােগিতা (Co-operation) 

কার্যকর নেতৃত্বই অনুসারীদের সহযােগিতার ভিত্তি হিসেবে কাজ করে। নিরপেক্ষতা ও ন্যায়নীতি প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে কর্মীদেরকে অনুপ্রাণিত করে কার্যক্ষেত্রে ঐক্য ও সহযােগিতার ক্ষেত্র সৃষ্টিতে নেতার ভূমিকা অপরিসীম। কর্মীদের অভাব- অভিযােগ পূরণে এবং স্বতঃস্ফূর্ততা আনয়নে নেতা সকল প্রকার সহযােগিতা দান করেন।

৭.উত্তম কার্য সম্পাদন (Better performance)

অনুসারীদের যথাযথ নির্দেশনা, পরিচালনা ও নেতৃত্ব দানের মাধ্যমে কর্মীদের কার্যে অনুপ্রাণিত করে অভীষ্ট লক্ষ্য অর্জনে নেতা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন। নেতার পরামর্শ ও সহযােগিতা দান কর্মীদের উত্তম কার্য সম্পাদনের সহায়ক।

৮. মনােবল উন্নয়ন (Building up morale) 

কর্মীর উচ্চ মনােবল অর্জনে নেতৃত্বের ভূমিকা অপরিসীম। প্রতিষ্ঠানে কার্যের দক্ষতা ও গতিশীলতা আনয়ন করে উৎপাদিত পণ্যের মান ও উৎপাদনশীলতা বৃদ্ধিতে উচচ মনােবল অত্যন্ত প্রয়ােজন। প্রতিষ্ঠানে কার্যকর নেতৃত্ব প্রদান করে কর্মীদের মনােবলের উন্নয়ন ঘটানাে সম্ভব।

৯ আস্থা সৃষ্টি (Creating confidence) 

একজন উত্তম নেতা তার অনুসারীদের নির্দেশনা দিয়ে, পরামর্শ দিয়ে এবং প্রতিষ্ঠানে উওম ফলাফল আনয়নের মাধ্যমে নিজের প্রতি আস্থা সৃষ্টি করতে পারেন। অধস্তনদেরকে দিয়ে সঠিকভাবে। কাজ করিয়ে লক্ষ্য অর্জন এবং নিজেদের প্রতি বিশ্বস্ততা সৃষ্টি করার কৌশল নেতাকে অবশ্যই জানতে হবে।

১০. দলীয় প্রচেষ্টাকে সমুন্নত করা (Developing group efforts) 

প্রতিষ্ঠানের কর্মীদের মাঝে দলীয় সমঝােতা সৃষ্টি করে সহযােগিতার উন্নয়ন সাধন করা নেতার অন্যতম দায়িত্ব। নেতা তার অনুসারীদের মত ও কর্মে শৃঙ্খলা ও ঐক্য প্রতিষ্ঠা করে দলীয় সংহতি আনয়ন করেন। এর ফলে প্রাতিষ্ঠানিক লক্ষ্যার্জন সহজতর হয়।

১১. প্রাতিষ্ঠানিক ফলপ্রসূতার উন্নয়ন (Developing effectiveness) 

উত্তম নেতৃত্ব প্রতিষ্ঠানের ফলপ্রদতা বৃদ্ধির সহায়ক। কার্যকর নেতৃত্ব কর্মীদের মধ্যে পারস্পরিক সম্পর্ক উন্নয়নের মাধ্যমে প্রাতিষ্ঠানিক লক্ষ্যার্জনে নিয়ােজিত করে। প্রকৃতপক্ষে ব্যবস্থাপনার সাফল্য সঠিক নেতৃত্বের উপর অনেকাংশে নির্ভরশীল ।

১২. সামাজিক সম্পৃক্ততা (Social involvement) 

সঠিক ও কার্যকর নেতৃত্ব তার অনুসারীদের সামাজিক প্রক্রিয়ায় উদ্বুদ্ধ করে তাদের উৎসাহ ও দৃষ্টিভঙ্গিকে সমন্বিত করে। কর্মীদের মনােভাবের পরিবর্তন সাধন করে তাদের সামাজিক কল্যাণে নিয়ােজিতকরণে উজ্জীবিত করে তােলে। 

সুতরাং বলা যায়, উৎপাদন ও অনুৎপাদনশীল এবং সেবামূলক কর্মকাণ্ডের সুষ্ঠু পরিচালনা ও নিয়ন্ত্রণে ব্যবস্থাপনায় নেতৃত্বের গুরুত্ব ও প্রয়ােজনীয়তা অপরিসীম।

 

Leave a Comment