নেতার কার্যাবলি কি? একজন নেতার ভূমিকা কতটুকু ও তার কাজ গুলো কি? 

নেতা সেই যে নেতৃত্ব দিয়ে থাকে। তবে সবাই কি নেতা হতে পারে? একটা নেতার কার্যাবলি গুলো কি কি? তাদের কাজের মধ্যে এমন কি থাকে যা অন্যদের থেকে চালিত করতে সক্ষম হয়? সেই সব বিষয় নিয়েই সাজানো উক্ত আর্টিকেল। তাছাড়া নেতৃত্ব সম্পর্কে আরো জানতে লিংকটি ফলো করুন।

নেতাকে প্রতিষ্ঠান পরিচালনায় নেতৃত্ব দিতে হয়। তাই বিভিন্ন পরিস্থিতিতে নেতাকে বিভিন্নমুখী সমস্যার মােকাবেলা কম হয় । নেতাকে তার ক্ষমতার সঙ্গে সঙ্গতি রেখে বিভিন্ন কার্য সম্পাদন করতে হয়। সাধারণভাবে নেতার কার্যাবলি নিম্নরূপ

একজন আদর্শ নেতার কার্যাবলি সমূহ 

১. সিদ্ধান্ত গ্রহণ (To take decision) : প্রতিষ্ঠানকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার জন্য নেতৃত্বকে সঠিক পরিকল্প। প্রণয়ন ও যথাযথ সিদ্ধান্ত গ্রহণ করতে হয়। পরিবর্তিত অবস্থায় কার্যকর সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা নেতার অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ কাজ। | যে কোন পরিস্থিতি মােকাবেলায় তাৎক্ষণিক সিদ্ধান্ত দিয়ে কর্মীদের সঠিক পথে পরিচালিত করা নেতার অন্যতম কর্তব্য।

২. উপযুক্ত সংগঠন প্রণয়ন (Designing sound organisation) : প্রতিষ্ঠানের নীতি, পরিকল্পনা ও লক্ষ্য বাস্ত। বায়নের উপযােগী একটি কার্যকর সংগঠন তৈরি করা নেতার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ কাজ। তাই নেতৃত্বকে কার্যোপযােগী একটি সঠিক সংগঠন কাঠামাে প্রণয়ন করতে হবে। 

৩, উদ্দেশ্য প্রতিষ্ঠা ও অবহিতকরণ (Determining communicative objective) : নেতাকে তার দলীয় উদ্দেশ্য নির্ধারণ করে তা অধস্তনদের সঠিকভাবে অবহিত করতে হবে। উদ্দেশ্যের কার্যকারণ ব্যাখ্যাপূর্বক তা অধস্তনদের সামনে তুলে ধরলে অধস্তনগণ উদ্দেশ্যের কার্যকারিতা উপলব্ধি করে উদ্দেশ্য বাস্তবায়নে তৎপর হয়ে ওঠবে। এজন্য উদ্দেশ্য। নির্ধারণে অধস্তনদের পরামর্শ গ্রহণ আবশ্যক।

৪. নির্দেশনা বা পরিচালনা (To guide or direct) : অধস্তনদের কার্যাবলি সঠিক পথে পরিচালিত করার লক্ষ্যে । নেতাকে সঠিক ও কার্যকর নির্দেশনা প্রদান করতে হবে। কারণ নির্দেশনার মাধ্যমে অধস্তনদের নিকট নেতার ক্ষমতায় বহিঃপ্রকাশ ঘটে। তাই সঠিক নির্দেশনা প্রদান নেতৃত্বের একটি প্রধান কাজ সুস্পষ্ট ব্যাখ্যাসহ সুনির্দিষ্ট ও সুৰণিত নির্দেশনা দানের মাধ্যমে নেতা তার অধস্তনদের কার্য সম্পাদনে পরােক্ষভাবে উৎসাহিত করে থাকেন।

৫, তদারকি ও নিয়ন্ত্রণ (Supervision and control) ; প্রতিষ্ঠানের লক্ষ্য অর্জনের পথে অধস্তনদেন করা নেতার দায়িত্ব। তাই নেতৃত্বকে অবশ্যই অধস্তনদের কাজ দেখাশুনা বা তদারক করা আবশ্যক।কার্যকর তত্তাবধান কমাকে সঠিক পথে পরিচালিত করতে সহায়তা করে এবং নিয়ন্ত্রণ কার্য পরিচালনায় সহায়ক ৩ করে। সুষ্ঠু তত্ত্বাবধান ও নিয়ন্ত্রণ দ্বারা অধস্তনদের কাজের ত্রুটি-বিচ্যুতি চিহ্নিত করে না সংশাধনের ব্যবস্থা গ্রহণ করা । 

৬ কর্মীদের মনােবল বৃদ্ধি (Development of morale) প্রতিষ্ঠনে উচ্চ উৎপাদনশীলতা বজায় র কমাদের মনােবলের উন্নয়ন করা নেতার অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ কাজ। কর্মীর অভাব – অভিযোগের প্রতি নেতার দৃষ্টি দেয়া আবশ্যক। এজন্য কর্মীদের উপযুক্ত মজুরি প্রদান সঠিক কার্য পরিবেশ সৃষ্ট যথাযথ মর্যাদা ও প্রতিপত্তি দানের ব্যবস্থা গ্রহণ করা বাঞ্ছনীয়।

নেতার কার্যাবলি – পার্ট ২ 

৭. অধস্তনদের মধ্যে আস্থা সৃষ্টি (Building confidence of the subordinates) : নেতার ব্যক্তিত্ব, সততা, মূল্যবােধ এবং কার্যক্ষেত্রে সহায়তা দানের মাধ্যমে নেতৃত্বের প্রতি অধস্তনদের আস্থা সৃষ্টি করা যায়। আদের মনে আস্থবােধ সৃষ্টি করা নেতৃতের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ কার্য। কার্য সম্পর্কিত বিভিন্ন তথ্য অবহিতকরণ, চাকরির নিরাপত্তা, কাযকর তত্ত্বাবধান, ব্যক্তিগত উৎসাহ, সহযােগিতা ও পরামর্শ দান ইত্যাদির মাধ্যমেও অধস্তনদের মনে আস্থাবােধ জাগিয়ে তােলা সম্ভব। আস্থাবােধ সৃষ্টি ও জাগিয়ে তােলার মাধ্যমে কর্মরি মনােবল উন্নত করা যায় এবং প্রতিষ্ঠানে কাজের গতিশীলতা আনয়ন করা যায়।

৮. নিরাপত্তা বিধান (Providing security) : কার্যক্ষেত্রে কর্মীর সার্বিক নিরাপত্তা বিধান করা নেতার আবশ্যকীয়। বিভিন্ন প্রকার সুযােগ-সুবিধা দান, বিপদ-আপদে সহায়তা নিয়ে পাশে দাঁড়ানাে এবং অনিশ্চিত পরিস্থিতিতে নিরাপত্তা ব্যবস্থা সুনিশ্চিত করে নেতা তার অধস্তনদের মন জয় করতে পারেন। নিরাপত্তাবােধ কর্মীদের কাজে আত্মনিয়ােগের মাত্রা বাড়িয়ে তােলে।

৯. সংহতি ও সমন্বয় (Integration and coordination) : অধস্তন কর্মীদের মধ্যে সহযােগিতার মনােভাব গড়ে তুলে সমঝােতা সৃষ্টি করা এবং কার্যক্ষেত্রে বিভিন্ন ব্যক্তি ও বিভাগের কাজের মধ্যে সমন্বয় বিধান করে প্রতিষ্ঠানে কার্যের সংহতিকরণ নেতার অন্যতম দায়িত্ব ও কর্তব্য।

১০. মূল্যায়ন ও পুরস্কার প্রদান (Evaluation & Rewarding) : কর্মীদের কাজের মূল্যায়ন করে, উত্তম কার্যের প্রশংসা ও স্বীকৃতি দান এবং উপযুক্ত ক্ষেত্রে পুরস্কার অথবা শাস্তির বিধান করা নেতার অন্যতম কাজ। এর ফলে কর্মীদের মধ্যে কাজের উৎসাহ বৃদ্ধি পাবে।

১১. বিরোধ নিষ্পত্তি (T) settle dispute) : অধস্তনদের মতবিরোধ নিষ্পত্তিতেও নেতা মধ্যস্থকারীর ভূমিকা পালন করেন। যে কোন বিষয়ে অধস্তন কর্মীদের মধ্যে মতপার্থক্য দেখা দিলে নেতা বিরােধ নিষ্পত্তির দায়িত পালন করেন এবং সকলের নিকট গ্রহণযােগ্য সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেন।

১২. উন্নত যােগাযােগ স্থাপন (Establishment of communication) : প্রতিষ্ঠানের বিভিন্ন বিভাগ ও কর্মীর গপা সঠিক ও কার্যকর যােগাযােগ ব্যবস্থা প্রবর্তন করে নেতা তার নির্দেশাবলি সঠিকভাবে কর্মীর কাছে পৌছে দিতে সক্ষম। হন। ফলে প্রতিষ্ঠানে ভুলবুঝাবুঝির নিরসন সম্ভব হয়।  

অন্যান্য দায়িত্ব পালন (Other responsibilities and duties) 

কর্মীদের সঙ্গে একাত্মতার অনভূতি সৃষ্টি করা অধস্তনদের কতব্য সম্পাদনে গতি সঞ্চালনের জন্য প্রয়ােজনীয় শক্তির যােগান দেয়, কর্মীদের যথেষ্ট প্রেষণা ও উৎসাহ-উদ্দীপনা যােগান, প্রয়ােজনীয় প্রশিক্ষণ দান, দল বা সংগঠনের প্রতিনিধি হিসেবে দায়িত্ব পালন ইত্যাদি কার্যসমূহ সুচারুরূপে সম্পাদনের মাধ্যমে অধস্তন বা অনুসারীদের মধ্যে নেতা তার স্থায়ী আসন গড়ে তােলেন।

পরিশেষে, এই ছিলো নেতার কার্যাবলি কি কি সেই সংক্রান্ত আর্টিকেল যেখানে একজন আদর্শ নেতার যা যা করনীয় বা করে থাকে সেই সকল তথ্য দেয়া হয়েছে। 

Leave a Comment