ডিজিটাল মার্কেটিং কি, কেন ও কিভাবে শিখব? ডিজিটাল মার্কেটিং শেখার উপায়

মার্কেটিং এর বর্তমান দুনিয়ায় ডিজিটাল মার্কেটিং খুব জনপ্রিয় একটি টার্ম। আসুন জানি ডিজিটাল মার্কেটিং কি, কেন ও কিভাবে শিখব। তবে প্রথমেই আসুন জানি মার্কেটিং সম্পর্কে।

মার্কেটিং বলতে কি বুঝায়?

ব্যবহারিক অর্থে ও টার্ম মোতাবেক ইংরেজি শব্দ মার্কেটিং ( Marketing ) এর অর্থ বিপনন। প্রস্তুতকারীর কাছ থেকে নিয়ে ভোক্তার নিকট পৌঁছে দেয়ার সকল প্রসেসকে মার্কেটিং বলা হয়। ভার্চুয়ালি মার্কেটিং বলতে প্রচার প্রচারণা বুঝায়। আর তখনই ডিজিটাল মার্কেটিং নামটি উঠে আসে।

মূলত ডিজিটাল মার্কেটিং কি?

Digital Marketing হলো আধুনিক বিপনন বা প্রচারের পদ্ধতি। বর্তমান যুগের সাথে তাল মিলিয়ে প্রচারের বিষয়কে অনলাইন ভিত্তিক করে নিলে সেটাকে ডিজিটাল মার্কেটিং বলা যায়। ডিজিটাল মার্কেটিং হয়ে থাকে পন্য, দ্রব্য, সেবাকে কেন্দ্র করে। এগুলো প্রচারণা মূলক কাজ করা ডিজিটাল ডিভাইজগুলো ব্যবহার করে।

সহজে বুঝার ক্ষেত্রে বলা যায়, ডিজিটাল মার্কেটিং হলো ডিজিটাল ভিভাইজ ( মোবাইল, কম্পিউটার, ল্যাপটপ ) ব্যবহার করে বিভিন্ন পন্য, সেবা, ব্যক্তি বা কোম্পানির অনলাইন ভিত্তিক প্রচারণা করা।

ডিজিটাল মার্কেটিং এর প্রকারভেদ

সাধারণত ডিজিটাল মার্কেটিং করা হয়ে থাকে দুই ভাবে। অনলাইন ভিত্তিক ও অফলাইন ভিত্তিক। এগুলো চ্যানেল (channels) নামেও পরিচিত। খুলে বলছি প্রথমটি হলো ইন্টারনেট ব্যবহার করে মার্কেটিং করা, এটাকে ইংরেজিতে Online Marketing Channels বলে। আর অন্যটি হলো Offline Marketing Channels এই পদ্ধতির উপায়সমূহে মার্কেটিং বা প্রচারণা চালাতে ইন্টারনেট ব্যবহার করতে হয় না। নিম্মে এই দুইটা বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা করছি..

Online Marketing Channels

যেমনটা বলেছিলাম, ডিজিটাল ডিভাইস ব্যবহার করে অনলাইনে মার্কেটিং করার ক্ষেত্রে এই পদ্ধতি ব্যবহার করা হয়। এই পদ্ধতিতে কাজ করার অনেক গুলো সেক্টর আছে। সব গুলোই ব্যবহার হয় প্রচারণা চালাতে। সে সব বিষয়ে থাকবে বিস্তারিত টিউটোরিয়াল। আশা করি এখানে এই টিউটোরিয়াল এর ধারাবাহিক আর্টিকেল গুলো পড়লে ডিজিটাল মার্কেটিং এর সকল বিষয় আয়ত্তে এসে পড়বে। এক নজরে দেখে নেয়া যাক অনলাইন মার্কেটিং চ্যানেলের আন্ডারে কোন উপায়ে মার্কেটিং কাজ করার সুযোগ রয়েছে।

Website Marketing

আপনি একটি আর্টিকেল পড়ছেন। উপরে নিচে ডানে বামে যেকোনো জায়গায় একটা ছবি বা ভিডিও বা টেক্সট এমন থাকে যেটা কোনো ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠান, পন্য, সেবাকে ইন্ডিকেট করছে। হ্যা সেটাই মার্কেটিং, ওয়েবসাইট মার্কেটিং। বলা যায় এমন সব প্রচারণা যেগুলো আপনার পন্য ভিত্তিক টপিকের ওয়েবসাইটের মধ্যে প্রকাশ করা হয় তাই Websites Marketing আর এই কাজে জনপ্রিয় প্লাটফর্ম হলো Google Ads [ ওয়েবসাইট মার্কেটিং নিয়ে আরো বিস্তারিত জানুন ]

SEO

ধরুন আপনি গুগলে সার্চ করলেন বাংলাদেশের সবচেয়ে ধনী ব্যক্তি কে। সেখানে আপনার বন্ধুর নাম ও ছবি দেখে চমকে গিয়ে আপনি তার কাছে জিজ্ঞেস করলে সে জানাবে এটা SEO এর মাধ্যমে সম্ভব হয়েছে। হাহাহা যদিও উদাহরণটা একটু হাস্যকর হয়েছে তবে সত্যি এটাই। খুলে বলছি, SEO হলো Search Engine Optimization যার মাধ্যমে গুগলে সার্চ করা কিওয়ার্ড গুলো Optimize করার মাধ্যমে আপনার ওয়েবসাইট বা পন্য বা সেবাকে গুগল সার্চের টপ পজিশনে নিয়ে আসতে সাহায্য করে।

আপনি অবশ্যই যেকোনো কিছু সার্চ করলে প্রথম ১০ বা ১৫ টি রেজাল্ট এর মধ্য থেকেই কোনো একটি ওয়েবসাইটে ঢুকে আপনার কাঙ্ক্ষিত চাহিদাটি পূরন করেন। আসলে সকলেই এমন। গুগল তার সার্চ ইঞ্জিনে সব কিছু সাবমিট তো করে দেয় তবে ৮০% মানুষই প্রথম ২ পেজে আসা রেজাল্ট গুলোর উপরেই বেশি ফোকাস করে। তাই  SEO or Search Engine Optimization খুবই গুরুত্বপূর্ণ ডিজিটাল মার্কেটিং এর জন্য। [ SEO নিয়ে বিস্তারিত জানতে ও করতে এখানে দেখুন ]

Pay Per Click Advertising :

যখন ওয়েবসাইট মার্কেটিং এর কথা বলছিলাম তখন শেষে Google Ads এর কথাও উল্লেখ্য করেছিলাম। এখানে মূলত কি কাজ হয়? কোনো পাবলিশার তাদের পন্য বা ব্যান্ড এর প্রচারের জন্য গুগলকে বলে। গুগল বিভিন্ন ওয়েবসাইটে ওই পন্য বা ব্যান্ড এর বিজ্ঞাপন দিয়ে থাকে। এবার আসি Pay Per Click ব্যাপারটায়।

যখন কেউ একজন আপনার ads দেখে আপনার ব্যান্ড বা পন্য সম্পর্কে বিস্তারিত জানতে চাইবে, তখন কিন্তু সে ব্যক্তি অবশ্যই ads এর মধ্যে ক্লিক করবে। তখন গুগল এটাকে ১ টি ক্লিক হিসেবে গননা করবে। আর আপনার কাছ থেকে ১ টি ক্লিক বাবদ নিদিষ্ট খরচ চার্জ করবে। মূলত এভাবেই এই মার্কেটিং প্রসেসটি ঘটে থাকে। এই বিষয়ে বিস্তারিত থাকবে। কিভাবে Ads বানাবেন, পাবিলিস্ট করবেন, মার্কেটিং কন্টিনিউ করবেন সব কিছুই। ক্লিক করুন

Content Marketing :

প্রথমেই বলে রাখি এটা খুব ব্যাপক একটি সেক্টর৷  এটা মজাদার পাশাপাশি খুব ইম্পর্ট্যান্ট। কন্টেন্ট মার্কেটিং করা হয় বিভিন্ন কন্টেন্ট রাইটিং এর মাধ্যমে। সহজে বলা যায়, লেখালেখির মাধ্যমে কোনো পন্য বা ব্যান্ড বা সেবার প্রচারণা করাই হলো কন্টেন্ট মার্কেটিং। বেশ কিছু উপায়ে কন্টেন্ট মার্কেটিং করা হয় যেমন :

  • আর্টিকেল রাইটিং মাধ্যমে 
  • নিউজ রিপোর্টের মাধ্যমে
  • বিলবোর্ডে লিখা মাধ্যমে
  • Influancer দের মাধ্যমে

কন্টেন্ট মার্কেটিং এর সম্পুর্ন খুটিনাটি আলোচনা করা হয়েছে কন্টেন্ট মার্কেটিং বিষয়ক একক প্রতিবেদনে। সেটি দেখতে ক্লিক করুন এখানে।

Email Marketing

ইমেইল – নাম তো শুনেছেনই। বিষয়টা হচ্ছে এখানে মার্কেটিং কিভাবে? বলছি, খেয়াল করে দেখুন তো, আপনি যখনই কোনো ওয়েবসাইটে ভিজিট করেন তখন উপর বা নিচ থেকে একটি পপ আপ আসে। সেখানে বলা হয় সাবস্ক্রাইব করার জন্য। আপনি হয়তো আমার ব্লগেও সেটা লক্ষ্য করেছেন। যখনই আপনি সাবস্ক্রাইব করে ফেলেন তার পর থেকেই আপনার ইমেইল এড্রেসে একের পর এক সেই ওয়েবসাইট থেকে নোটিফিকেশন যেতে থাকে। এখন যদি ওয়েবসাইটি হয় কোনো পন্য বা ব্যান্ড বিষয়ক?  তাহলে নোটিফিকেশনে যেই লিখা বা আর্টিকেল আপনার ইমেইলে পাঠানো হবে সেটা অবশ্যই সেই পন্য বা ব্যান্ড সংক্রান্ত বিষয়ক !! জী এটাই প্রচারনা।

প্রতিটি প্রোফেশোনাল লোকেই ডেইলি একবার হলেও তার ইমেইল চেক করে থাকে। আপনি ইমেইলের মাধ্যমে আপনার মার্কেটিং প্রসেস চালিয়ে যেতে পারবেন আর এটাতে খুব অল্প খরচে বেশি সুযোগ থাকে আপনার পন্যের প্রচারণা চালানোর কাজে। দেখে নিন [ ইমেইল মার্কেটিং কিভাবে করবেন ] খুব সহজেই।

Social Media Marketing

বর্তমান যুগে মানুষ তার অধিকাংশ সময় ব্যয় করে বিভিন্ন সোসাল মিডিয়াতে। লোকের আনাগোনা যেখানে বেশি, প্রচার প্রচারণার কাজ সেখানে বেশি। আর তারই পেক্ষিতে ডিজিটাল মার্কেটিং এর জন্য সোসাল মিডিয়া খুবই কার্যকর ও ইম্পর্ট্যান্ট একটা প্লেস। Social Media, হতে পারে Facebook, Twitter, Instagram, LinkedIn, Quora, Medium সহ অনেক অনেক অনেক প্লেস। এখান থেকে আপনি ভালো পরিমানের একটা ট্রাফিক পেতে পারবেন যদি যথাযথ ভাবে মার্কেট করতে পারেন। দেখুন [ কিভাবে সোসাল মিডিয়া মার্কেট করবেন ]

Affiliated Marketing

আপনার বিপনন মূলক কাজ করতে ভালো লাগে। এটাকে ক্যারিয়ার হিসেবে তৈরি করতে চাচ্ছেন তবে সেভাবে শুরু করার জন্য প্রয়োজনীয় বিষয়বস্তু আপনার কাছে নেই। আছে কেবল সুন্দর একটা আইডিয়া আর উদ্দীপনা। আমি বলবো এইটুকুই যথেষ্ট শুরু করার জন্য। কারন আপনাকে এই বিষয়ে হেল্প করতে আছে Affiliated Programme আরেকটু সহজে উপস্থাপন করছি

ধরুন আপনার পরিচিত এক বিজনেসম্যান বললো ” তুমি চাইলে আমার কোম্পানির পন্য গুলো বিক্রির কাজ করতে পারো। এতে তোমার কোনো ইনভেস্টমেন্ট করা লাগছে নাহ। তুমি ক্রেতা খুজে আমাকে ইনফরমেশন দিবে। পন্য তৈরি থেকে শুরু করে ক্রেতার হাতে পৌছানো অব্দি সকল কাজ আমি নিজেই করবো। আর তুমি কেবল আমাকে পন্য কিনবে এমন ক্রেতা এনে দিবে। এর জন্য তোমাকে বিক্রিত পন্যের উপর নিদিষ্ট পরিমানের কমিশন দিবো ” তাহলে কি আপনি কাজটি করতে চাইবেন না? যদি আপনি সত্যিই মার্কেটিং বিষয়ে দক্ষ হয়ে উঠেন তাহলে অবশ্যই চাইবেন। এখন কথা হলো, কিভাবে আপনি উক্ত প্রচারণা গুলো করবেন? সেটা নিয়েই ডিজিটাল মার্কেটিং এর কোর্স আর আফিলিয়েট প্রোগ্রাম কিভাবে পাবেন, কিভাবে করবেন সেটাও শিখতে পারবেন এখানে..

Mobile Marketing

বর্তমানে সবচেয়ে বেশি ব্যবহৃত ডিভাইস হচ্ছে মোবাইলফোন এখন ডিজিটাল ডিভাইস ব্যবহার করা প্রায় 90 শতাংশ মানুষই স্মার্টফোন ব্যবহার করে থাকে। তাতে খেতে মোবাইল ফোনের মাধ্যমে মার্কেটিং করা একটি ব্যাপক সুযোগ সৃষ্টি হয়ে থাকে আর মোবাইলের মাধ্যমে মার্কেটিং করার ক্ষেত্রে ব্যবহার হয় বিভিন্ন অ্যাপ এবং সফটওয়্যার। মোবাইলের OS সিস্টেমে থিম থেকে শুরু করে ফাইল ম্যানেজার অব্দি সকল কিছুতেই বিজ্ঞাপন লক্ষনীয়। এগুলোও মোবাইল মার্কেটিংয়ের  আওতায় পরে থাকে। এই বিষয়েও টিউটোরিয়াল থাকবে।

Video Marketing

বর্তমানে তথ্য খোজার ক্ষেত্রে প্রথমে গুগলের সার্চ ইঞ্জিন এরপর ইউটিউব ব্যবহার হয়ে থাকে। আর ইউটিউব সম্পুর্ন ভিডিও কন্টেন্ট যুক্ত একটা প্লাটফর্ম। তাই প্রচারণা চালাতে ভিডিও খুব বেশি কার্যকর হয়ে থাকে। কেবল যে ইউটিউবই তা ঠিক নয়, সোসাল মিডিয়াতেও ভিডিও খুব গ্রহনযোগ্য। একটা সার্ভেতে লক্ষনীয় হয়েছে যে মানুষ আজকাল ছবি বা লেখা পড়ার থেকে ডিভিও দেখে জানতে শিখতে বেশি পছন্দ করে। ডিজিটাল মার্কেটিং করার ক্ষেত্রে সবচেয়ে বেশি গুরুত্বপূর্ণ উপায় সিলেক্ট করতে বলা হলে প্রথমে থাকবে SEO আর এর পরেই থাকবে Video Marketing তাই এটি নিয়ে কাজ করাও খুব ইফেক্টিভ হবে আর শিখতে হলে দেখুন [ কিভাবে ভিডিও মার্কেটিং করতে হয় ]

Offline Marketing Channels

অনলাইন মার্কেটিং চ্যানেলে বা ইন্টারনেট মার্কেটিংয়ের পর অফলাইন মার্কেটিং চ্যানেল নিয়ে আলোচনার পালা। ইতিমধ্যে বুঝে গেছেন যে এইখানে মার্কেটিং হবে ইন্টারনেট মুক্ত। মানে এই মার্কেটিং করার ক্ষেত্রে বা যাদের ঘিরে মার্কেটিং করা হবে উভয় পক্ষের কারোই ইন্টারনেট প্রয়োজন হবে নাহ। বেশ কয়েকটি উপায় আছে। সাধারনত এই পদ্ধতি গুলো সেসব স্থানে ব্যবহার করা হয় যেখানে ইন্টারনেট সহজলভ্য নয় বা ইন্টারনেট সচারাচর ব্যবহার করে না এমন এড়য়ায়। তাহলে দেখে নেয়া যাক উপায়গুলো :

Tv Marketing

টেলিভিশনের মাধ্যমে প্রচারিত অ্যাডভার্টাইজই মূলত টিভি বা টেলিভেশন মার্কেটিং এর অন্তর্ভুক্ত। টেলিভিশন চ্যানেলে সম্প্রচারিত হওয়া বিভিন্ন প্রোগ্রামের মাঝে বিজ্ঞাপন দেখানোর মাধ্যমে উক্ত মার্কেটিং করা হয়ে থাকে। তবে কেবল মাত্র বিজ্ঞাপন দেখিয়েই মার্কেটিং করা হয় তা কিন্তু নয়। চ্যানেলের সম্প্রচার হওয়া বিভিন্ন প্রোগ্রামের স্পনসরশিপ গ্রহণ করা এবং নাটক-সিনেমায় টকশো ইত্যাদিতে পণ্যের ডিসপ্লে করার মাধ্যমেও মার্কেটিং করা হয়।

Radio Marketing

বাংলাদেশের পেক্ষাপটে রেডিও এক ব্যাপক জনপ্রিয়তা অর্জন করেছিলো। এখন হয়তো একটু কমে গেছে তবে সম্পুর্ন অকেজো হয়ে যায়নি। এখনও অনেক অনেক মানুষ রেডিও শুনে। তো কথা হচ্ছে এখানে মার্কেটিং কিভাবে?

এডভারটাইজ কিন্তু রেডিও এর মাধ্যমেও হয়। কেবল যে দেখার জন্যই বিজ্ঞাপন তৈরি হয় তা সঠিক নয়। রেডিওতে শোনার মাধ্যমেও বিজ্ঞাপন হয়। আর রেডিও এর বিজ্ঞাপন টেলিভিশনের তুলনায় কম খরচেই করা যায়।

SMS Marketing

এই বিষয়ের সাথে কম বেশি সবাই অবগত। স্মার্টফোন হোক বা ফিচার্স ফোন সিম ফোনেই কানেক্ট করতে হয়। আর সিম যেখানে আছে সেখানে SMS থাকবেনা সেটা ভাবা যায় না। এবার টার্গেটেড এড়িয়া ভিত্তিক, মানুষের চাহিদা মোতাবেক এস এম এস এর মাধ্যমে মানুষকে নিজেদের ব্যান্ড, পন্য, সার্ভিস সম্পর্কে জানতে SMS marketing করা হয়ে থাকে।

Billboard Marketing

রাস্তায়, গলিতে, ব্রিজে, দেয়ালে ঝুলন্ত হোক বা চিপকে লাগানো বিল্ডবোর্ড কমবেশি সব জায়গায় খুব জনপ্রিয়। সম্পুর্ন অফলাইনে ব্যবহৃত বিল্ডবোর্ড মার্কেটিং বাংলাদেশের পেক্ষাপটে খুবই জনপ্রিয়। সিনেমা থেকে শুরু করে ভোর্টের প্রচার পর্যন্ত বিজ্ঞাপন এর জন্য এই উপায় খুব জনপ্রিয়। সাধারণত বিল্ডবোর্ড তৈরিতে খরচ অন্য সব অফলাইন মার্কেটিংয়ের ক্ষেত্রে কম আর তুলনামূলক ভাবে বেশি কার্যকর কারন এটির সুফল দীর্ঘদিন যাবৎ পাওয়া যায়।

কেনো ডিজিটাল মার্কেটিং গুরুত্বপূর্ণ

এক যুগ ছিলো যখন ইন্টারনেট সহজলভ্য ছিলো না। মানুষ এর সাথে পরিচিত ছিলো না। মার্কেটিং সব সময় এক ধারায় চলবে এমনটা নয়। এটা পরিবর্তনশীল যুগের সাথে মানুষের চাহিদার সাথে মানুষের ইন্টারেস্ট এর সাথে। আগে মানুষ রেডিও খুব বেশি শুনতো এখনকার তুলনায় তাই সেই সময় রেডিওতে বিজ্ঞাপন দিলে সেটা ইফেক্টিভ হবে। আর এখন মানুষ সবচেয়ে বেশি সময় দিচ্ছে সোসাল মিডিয়ায় তাই এখন সোসাল মিডিয়াতে বিজ্ঞাপন দিলে বেশি মানুষের দৃষ্টি আকর্ষণ করবে। আসলে মার্কেটিং করা হয় কেনো সেটা বুজতে হবে। আপনি মার্কেটিং করছেন একটা পন্য, ব্যক্তি বা সার্ভিসের। তাহলে সেই পন্য অথবা সার্ভিসটি গ্রহন করার জন্য লোক যেখানে থাকবে সেখানেই তো মার্কেটিং করা হবে। আগে মানু্ষ অফলাইনে ফোকাস করতো, এখন অনলাইনে করছে। তাহলে আগে অফলাইনে মার্কেটিং করে থাকলে এখন অনলাইনে করতে হবে। আর অনলাইনে মার্কেটিং বা ইন্টারনেট মার্কেটিংই হলো ডিজিটাল মার্কেটিং।

ডিজিটাল মার্কেটিং এর ক্যারিয়ার

এবার সাভাবিক ভাবেই প্রশ্ন উঠে, ডিজিটাল মার্কেটিং ক্যারিয়ার গড়া যায় কিভাবে বা ডিজিটাল মার্কেটিংয়ে ক্যারিয়ার গড়ার কতটা যুক্তিক। দেখুন, এটা ভবিষ্যতের প্রযুক্তি কেন্দ্রিক ভবিষ্যতের স্মার্ট ওয়ার্ক। যত কোম্পানি ততই মার্কেটিং এর প্রয়োজন আছে। কেবল যে কোম্পানি তা কিন্তু নয়। আপনি আপনার আশেপাশে দেখুন, কোথায় নেই মার্কেটিং? যত পন্য যতই মার্কেটিং। ব্যবসায় যতদিন দুনিয়াতে থাকবে ততদিন মার্কেটিং এর চাহিদা থাকবে। তাহলে কোন কোন উপায়ে ক্যারিয়ার গড়া যাবে ডিজিটাল মার্কেটিং শিখে। চলুন দেখে নিই

Entrepreneur : আপনি নিজে উদ্যোগক্তা হতে পারেন। এক্ষেত্রে আপনার নিজের প্রতিষ্ঠানের পন্য, দ্রব্য বা সেবার জন্য আপনি মার্কেটিং করতে পারবেন। যেখানে আপনার পুর্নাঙ্গ জ্ঞান থাকবে যে কিভাবে আপনি আপনার কাঙ্ক্ষিত ফলাফল পেতে পারেন। আর সেই ভাবেই আগালে আপনার সফলতা অর্জনে অনেকটা উপকার করবে

Freelancer : আপনি নিজের প্রতিষ্ঠানের জন্য না হোক। অন্যের প্রতিষ্ঠানের হয়ে কাজ করেও আয় করতে পারবেন। ফ্রিল্যান্সিং এর মত মুক্ত পেশায় নিজেকে নিযুক্ত করে মন মত আয় করা সম্ভব। এক্ষেত্রে ডিজিটাল মার্কেটিং এর জন্য ফ্রিল্যান্সিং প্লাটফর্ম গুলোতে ব্যাপক চাহিদা রয়েছে।

Online Earning : এবার ধরুন আপনি ফ্রিল্যান্সিংও না করলেন। নিজের জন্য নিজের মত করে আয় করতে পারবেন অনলাইনে। ডিজিটাল মার্কেটিং এর সেক্টর যেমন SEO, Social media marketing, Video marketing সহ আরো বেশ কিছু বিষয়ে জ্ঞান অর্জন করে নিজের এজেন্সি তৈরি থেকে শুরু করে গুগলের এডসেন্স থেকে আয় করতে পারবেন। এসব বিষয়ে ধারাবাহিক আর্টিকেল গুলোতে আলোচনা করা হবে। ব্লগে চোখ রাখুন

Professional Job : Let’s be professional, অনলাইন বাদ দিন। আপনি অফিসিয়াল জব করতে পারেন অফলাইনেও। যেমনটা বললাম যত কোম্পানি যত প্রোডাক্ট ততই মার্কেটিং আর ততই প্রয়োজন মার্কেটিং এর প্রোফেশনাল। যথাযথ ভাবে শিখতে পারলে আপনি যেকোনো কোম্পানির হয়ে তাদের পন্য সেল বিষয়ক কাজ ও করতে পারবেন আপনার ডিজিটাল মার্কেটিং এর জ্ঞান কাজে লাগিয়ে। আসলে মার্কেটিং এমন একটি বিষয় যেখানে কাজের শেষ নেই। আপনি যেকোনো একটি বা একাধিক উপায় খুজে, শিখে জাস্ট কাজে লেগে যেতে পারবেন।

ডিজিটাল মার্কেটিং এর কাজ কি নিয়ে?

ডিজিটাল মার্কেটিং এ অন্তর্ভুক্ত সকল কিছুকে তিনটি ভিন্ন ভিন্ন প্লাটফর্মে ভাগ করা হয়েছে। একটির সাথে আরেকটি ভিন্ন। আর প্রতিটি ভাগের জন্য নিদিষ্ট করে উপায় রয়েছে। দেখে নেয়া যাক কোন সেই কাজ গুলো

Visible Products : সেই সকল পন্য যেগুলো ধরা ছোয়া দেখা যায়, ভোক্তার চাহিদা পূরন করতে সক্ষম। দুনিয়ায় যত গুলো প্রোডাক্ট আছে এটির আওতায় পরে।

Digital Products : এটিও প্রোডাক্ট তবে এটা ধরা ছোয়া যায়না কেবল ধরনা ও অভাব পূরন করা যায়। অনলাইন ভিত্তিক সমস্যার সমাধানে এসব প্রোডাক্ট তৈরি হয়। বিভিন্ন সফটওয়্যার, আপ্পস, গেমস এর আওতায়।

Digital Service : এটা সম্পুর্ন সেবা মূলক। অনলাইন অফলাইন, আপনার সেবাটি যেমনই হোক না কেনো তা সেবা গ্রহনকারীকে জানান দেয়া থেকে শুরু করে সেবা গ্রহনকারীকে আপনার সেবা দেওয়া অব্দি যাবতীয় কাজ করা হয় ডিজিটাল মার্কেটিং এর মাধ্যমে।

ডিজিটাল মার্কেটিং শেখার উপায়

বলছিলাম ডিজিটাল মার্কেটিং এর বিষয়ে ব্যাসিক ধারনা নিয়ে। এবার বলি কিভাবে শিখতে পারবেন ডিজিটাল মার্কেটিং। এক্ষেত্রে বলবো তিনটি উপায় রয়েছে ডিজিটাল মার্কেটিং শিখার। আপনি যেকোনো একটি বা একাধিক উপায়ে শিখতে পারবেন এক্ষেত্রে আপনার সুবিধা মোতাবেক আপনি উপায় বেছে নিতে পারেন।

Digital Marketing course : ডিজিটাল মার্কেটিং এর কোর্স করার মাধ্যমে শিখতে পারবেন। এক্ষেত্রে কোর্স বলতে ভিডিও কোর্স বুঝানো হয়েছে যা অনলাইনে ঘরে বসেও শিখা যায়। এছাড়াও রয়েছে বিভিন্ন ইন্সটিটিউড যেখানে ডিজিটাল মার্কেটিং এর কোর্স শিখানো হয়। আমি নিদিষ্ট করে কোনো প্রতিষ্ঠান এর নাম বলছি না। নিজে থেকে খোজ নিয়ে দেখুন আশে পাশের কোন প্রতিষ্ঠান শেখায়। এক্ষেত্রে খেয়াল রাখবেন প্রতিষ্ঠানটি যেনো MLM না হয়। প্রশ্ন উঠবে কত খরচ হয় ডিজিটাল মার্কেটিং এর কোর্স করতে।

সাধারণত ৫ হাজারের আশেপাশে কিছু একটা পেমেন্ট চার্জ করতে পারে প্রতিষ্ঠান থেকে শিখলে। এমনতে অনলাইনে ভিডিও কোর্সের মূল্য অনেকটাই কম। এক্ষেত্রে পড়বে আনুমানিক ১৫০০ – ২০০০ টাকার কাছাকাছি। তবে এতো সময় ধরে এই লিখাটি পড়ছিলেন তার মানে এই যে আপনি প্রকৃতপক্ষে শিখতে ইচ্ছুক। আপনার ইচ্ছাকে সাদুবাদ জানাই।

পাশাপাশি আমার সাথে যোগাযোগ করলে যেকোনো বিষয়ক অনলাইন ভিত্তিক ডিভিও কোর্স পেয়ে যাবেন যেগুলো সবই পেইড কোর্স আর এগুলো পাবেব নাম মাত্র মূল্যে আবার অনেক ক্ষেত্রে বিনামূল্যে। আমার সাথে যোগাযোগ করতে পারবেন আমার ফেসবুক আইডি অথবা পেজের মাধ্যমে। শিক্ষা হোক উন্মুক্ত। এছাড়া আপনি যদি কোর্স না করতে চান তাহলেও আরেকটি উপায় রয়েছে সেটি হলো।

Learn Alone : জী, আপনি একা একাই সব শিখতে পারবেন যদিও এই পথটা খুব সময় সাপেক্ষ। অনলাইনে নেই এমন কোনো বিষয়ই নেই। আজকাল গুগল ও ইউটিউবে ভালো ভাবে সার্চ করতে পারলে সব কিছুই জানা সম্ভব। এছাড়া আপনি এই ব্লগেও ডিজিটাল মার্কেটিং এর পুর্নাঙ্গ গাইডলাইন পেয়ে যাবেন ফ্রিতে।

তো এই ছিলো ডিজিটাল মার্কেটিং এর খুটিনাটি সব বিষয়ে ব্যাসিক ইনফরমেশন। যদিও আর্টিকেলটি খুব বড় হয়েছে তবে ইনফরমেশন পরিপূর্ণ ভাবে উপস্থাপন করতে প্রয়োজন ছিলো।এছাড়াও থাকবে প্রতিটি বিষয়ে পুর্নাঙ্গ গাইড লাইন। তার জন্য সাবস্ক্রাইব করে রাখুন ব্লগটি অথবা যুক্ত থাকুন ফেসবুকে পেজে।

People also asked :

আর যদি আর্থিক ভাবে সচ্ছল না হয়ে থাকেন তাহলে বলবো মোবাইলের মাধ্যমে সেগুলো করা যায় সেগুলো দিয়ে শুরুটা করেন। শুরু করাটা জরুরি। একবার শুরু করলে পরে সেখান থেকে আয় শুরু হলে পরবর্তীতে নিজের টাকাতেই কম্পিউটার বা ল্যাপটপ কিনে নিতে পারবেন।

2 thoughts on “ডিজিটাল মার্কেটিং কি, কেন ও কিভাবে শিখব? ডিজিটাল মার্কেটিং শেখার উপায়”

Leave a Comment