ঘরোয়া ব্যবসা কি ও কিভাবে করতে হয় । ১০ টি ঘরোয়া ব্যবসা আইডিয়া

ঘরোয়া ব্যবসা সেগুলোকেই বলে যে ব্যবসা গুলো পরিচালনা করা হয় ঘর থেকে বা ঘরে বসেই আপনি এই ধরনের ব্যবসার সকল কার্যক্রম করতে পারবেন। আজকের আলোচনার বিষয়ই হচ্ছে ঘরোয়া ব্যবসা তাই আপনি যদি ঘরোয়া ব্যবসা সম্পর্কে জানতে চান, বা ভাবছেন এখন থেকে ঘরে বসেই ব্যবসা পরিচালনার মাধ্যমে আয় করবেন তবে এই আর্টিকেলটি আপনাকে বেশ উপকৃত করতে যাচ্ছে। 

আমাদের অনেকের মধ্যে এই ধারনাটি রয়েছে যে ব্যবসা করতেই প্রয়োজন অনেক অনেক টাকা, অনেক লোকবল, একটা কোম্পানি ব্লা ব্লা আরো কত কিছু। কিন্তু সত্যিই কি তাই? আপনার কাছে যদি ভালো একটি আইডিয়া থাকে এবং সেই আইডিয়াকে সঙ্গে করে পরিকল্পিত ভাবে কাজ করার জন্য সামর্থ্য ও বিশ্বাস থাকে তবেই যেকোনো অবস্থানে থেকে ব্যবসা পরিচালনা ও সেখান থেকে লাভবান করা সম্ভব। 

তারই পেক্ষিতে আজ জানাবো বেশ কিছু ঘরোয়া ব্যবসা সম্পর্কে যেগুলোর সাথে শুরু করতে পারনে আপনার পথচলা। পুরোটা জুড়ে থাকবে বেশ কিছু ব্যবসা আইডিয়া এবং সেই ব্যবসা গুলোর সম্পর্কে শর্ট করে কিছু তথ্য যা চট করে আপনাকে বুজতে সাহায্য করবে পুরো ব্যাপার গুলো। শুরু করা যাক আর্টিকেলের মূল বিষয় বস্তু। 

১০ টি লাভজনক ঘরোয়া ব্যবসা আইডিয়া 

ঘরে বসে আয় করার প্রশ্ন উঠলেই মানুষ দুইটা কথাই চিন্তা করে, এমন কোনো কাজ হবে যেটা অনলাইনের মাধ্যমে করা যায়। আরেকটা হলো এমন কোনো ব্যবসা যা পরিচালনা করার ক্ষেত্রে স্পেসিফিক কোনো স্থানের প্রয়োজন হয় না, মানসিক ব্যাপার সব। 

Well, কিছুটা ঠিক আছে আবার কিছুটা নেই। ব্যাপারটা ক্লিয়ার করেই মূল আলোচনার বিষয়ে চলে যাবো। সচারচর ঘরোয়া ব্যবসা লিখে গুগলে সার্চ করলেই দেখা যাবে এতো এতো কন্টেন্ট যেখানে ৫০ টি ১০০ টি করে ঘরোয়া ব্যবসা এর আইডিয়া দিয়ে রেখেছে। আচ্ছা ভালো ভাবে পড়ে দেখেছেন কখনো সেগুলো? 

না দেখে থাকলেই ভালো। অহেতুক এমন কাজ গুলোকেও ঘরোয়া ব্যবসা হিসেবে চিহ্নিত করে রাখা হয়েছে যা ব্যবসা ক্যাটাগরির আন্ডারেই পড়ে না। যাই হোক আমি নিম্মে একচুয়েল ব্যবসা গুলো সম্পর্কে জানাবো এবং অবশ্যই ঘরোয়া ব্যবসা যেগুলো বাসায় বসে করতে হবে, বাসায় বসেই পরিচালনা হয়। 

গিফট আইটেম (উপহার) তৈরি

pexels karolina grabowska 5650016

মানুষ গিফটের জন্য মরিয়া হয়ে থাকে। বিশেষ করে মেয়েদের মধ্যে এর প্রবনতা বেশি। তাছাড়া যেকোনো অনুষ্ঠান যেমন – বিয়ে, জন্মদিন, অ্যানিভার্সারিতে বিভিন্ন রকম গিফট আদান প্রদান করতে দেখা যায়। এই সকল গিফটের সাপ্লাইয়ের জন্যও বর্তমানে বিভিন্ন সার্ভিস রয়েছে। 

বেশির ভাগ ক্ষেত্রে অনলাইন সোসাল মিডিয়া ফেসবুকের মাধ্যমেই এই ব্যবসার প্রচার ও অর্ডার গ্রহন করা হয়। যেমন করে আপনি সেই সকল গিফট তৈরি করতে পারবেন সেই সম্পর্কে গ্রাহককে বিস্তারিত জানিয়ে অর্ডার গ্রহন করবেন, অতঃপর প্রয়োজনীয় ম্যাটারিয়ালস গুলো এনে নিজ ঘরে বসেই প্রোডাক্ট বা গিফৎ তৈরি করে অনলাইন ডেলিভারির মাধ্যমে তা গ্রাহকের হাতে পৌছে দিতে পারবেন। 

দেখলেন তো কতটা ইজি প্রসেস, তবে একচুয়েল ভাবে করতে গেলে কিন্তু এতোটাও ইজি লাগবে না, বিভিন্ন রকমের সমস্যার দেখা মিলবে সময়ের সাথে ক্ষনে ক্ষনে সেগুলোর সমাধান করে এগিয়ে যেতে পারলেই আপনি সফল। 

হস্ত বা কুটির শিল্প 

গ্রাম বাংলায় একদা কুটির বা হস্ত শিল্পের ব্যাপক প্রচলন ছিলো, যুগের ধারাবাহিকতায় এখন নিত্য নতুন আধুনিক প্রোডাক্টের কারনে এর কিছুটা ব্যবহার কমে গেছে। তবে একেবারেই যে মৃত্য তেমন কিন্তু নয়। এখনও বাংলাদেশে তৈরি বেশ কিছু হস্ত শিল্পের পণ্য বিশ্ব বাজারে ছড়িয়ে আছে। হস্ত শিল্পের কিছু পণ্য হলো: 

হস্ত বা কুটির শিল্প
  • কাঠের তৈরি যেকোনো জিনিস
  • মাটির হাড়ি – পাতিল
  • কলস
  • কুলো 
  • কাপড়ের তৈরি পুতুল 
  • বেতের তৈরি সৌখিন জিনিস 
  • নকশি কাঁথা
  • কার্পেট ও পাপোশ সহ আরো অনেক কিছু

আপনি যদি এই গুলো তৈরি করতে পারেন বা আপনার পরিবারের কেউ জেনে থাকে তবে ম্যাটারিয়ালস গুলো এনে এক বা একাধিক ক্যাটাগরির প্রোডাক্ট তৈরি করে বিক্রি করতে পারবেন লোকাল মার্কেট থেকে অন্য সব স্থানে। 

ঘরোয়া খাবারের ব্যবসা 

বর্তমানে মানুষের রেস্টুরেন্টে খাওয়ার প্রবনতা বাড়ছে। শরহ থেকে সেই ধারা চলে গেছে গ্রাম গঞ্জেও। তারই পাশাপাশি বেড়েছে অনলাইন প্লাটফর্মে খাবারের বিজ্ঞাপন এবং সেখানেই কেনা বেচা যার সুন্দর সমাপ্তি ঘটে থাকে খাবারের হোম ডেলিভারির মাধ্যমে। 

ঘরোয়া খাবারের ব্যবসা

রেস্টুরেন্ট গুলোও চলে এসেছে অনলাইন খাবার অর্ডার গ্রহন প্লাটফর্ম গুলোতে, সেই সুবাদে সুযোগ হয়েছে যারা নতুন করে ঘরোয়া ভাবে খাবারের ব্যবসা করতে চাচ্ছে। নিজ বাসায় খাবার তৈরি করে ডেলিভারি দিতে পারেন খাদকের ঘরে। এক্ষেত্রে সাহায্য করবে – ফুড পান্ডা, হাংরি নাকি, পাঠাও, ফুড পিয়ন, কুক অ্যাপস এর মত প্লাটফর্ম গুলো। 

আপনি যদি খাবার রান্না করতে এবং তা তৈরি করে সঠিক ভাবে পরিবেশনে দক্ষ হয়ে থাকেন তবে আপনি এই ব্যবসাটি করতে পারবেন। এক্ষেত্রে ব্যবসায়ের সকল কার্যক্রম ঘরে বসেই পরিচালিত হবে এক্সট্রা কোনো স্পেস লাগবে না শুরু করার জন্য। বাজার থেকে কাচামাল আনায়ন, অনলাইনে অর্ডার গ্রহন, ঘরে বসে তৈরি এবং ডেলিভারি ম্যান দিয়ে পাঠিয়ে দেয়া ব্যাস। 

হাঁস মুরগি পালন 

সেই প্রাচীন কাল থেকেই হাঁস মুরগি পালার প্রবনতা মানুষের মধ্যে বিধ্যমান। শহরে তা তেমন দেখা না গেলেও গ্রাম পর্যায়ে প্রতিটি ঘরে ঘরে কিছু না কিছু হাঁস মুরগি পালার ব্যাপার লক্ষ্য করা যায়ই। কম বেশি অনেকেই হাঁস মুরগি পালার মাধ্যমে কিছু অর্থ আয় করে থাকে।

হাঁস মুরগি পালন

তবে জীবন যাপনের জন্য খুব অল্প কিছু পরিমানে হাঁস মুরগি পালনের মাধ্যমে চলা সম্ভব না। এক্ষেত্রে প্রয়োজন একটা ছোট খাটো ফার্ম যা আপনার বিনিয়োগের উপর নির্ভর করবে। আপনি আপনার সাধ্য মোতাবেক বাড়িতেই নিদিষ্ট কোনো স্থানে হাস মুরগির ফার্ম তৈরি করতে পারেন। এক্ষেত্রে প্রথমে কিছুটা বিনিয়োগ প্রয়োজন হলেও এর বিপরীতে ভালো পরিমাণের মুনাফা পাওয়া যাবে। 

আপনি যদি এটা জানতে ইচ্ছুক হোন কিভাবে হাঁস মুরগির ফার্মের ব্যবসা করতে হয়, এই ব্যবসার প্রসেস, খরচ সহ যাবতীয় অন্যান্য বিষয় সম্পর্কে তবে আমাদের ওয়েবসাইটে থাকা ব্যবসা আইডিয়া নামক মেনুতে চেক করুন। উক্ত বিষয় ছাড়াও সব ধরনের ব্যবসায়ের আইডিয়া নিয়ে আমরা আলোচনা করে থাকি। 

গবাদি পশু ও ডেইরি ফার্ম 

উপরের জানালাম হাঁস মুরগির ফার্ম সম্পর্কে, এবার জানুন আরেকটা জনপ্রিয় আয়ের মাধ্যম বা ঘরোয়া ব্যবসা আইডিয়া সম্পর্কে যা হচ্ছে গবাদি পশু যেমন – গরু, ছাগল এর ডেইরি ফার্ম। ডেইরি ফার্ম বলতে বোঝানো হচ্ছে গরু ছাগলের দুধ উৎপাদনের সাথে জরিত ফার্ম। গবাদি পশু পালনের মাধ্যমে দৈনিক তাদের থেকে ভালো পরিমাণের দুধ উৎপাদন করা সম্ভব। 

গবাদি পশু ও ডেইরি ফার্ম

আপনি জেনে অবাক হবেন যে, বাংলাদেশে দৈনিক মাথাপিছু দুধের চাহিদা ২৫০ মি.লি. যার বিপরীতে উৎপাদন হচ্ছে মাত্র ১৭৫ মি.লি. তাছাড়া বার্ষিক হিসাব দেখা গেলে জানা যায়, দেশে বর্তমানে বছরে ১৫২ লাখ টন দুধ প্রয়োজন বা চাহিদা আছে, কিন্তু দেশে উৎপাদন হচ্ছে মাত্র ১০৬.৮ লাখ টন দুধ। 

একটা ব্যবসা করার আগে অবশ্যই আপনি দেখবেন ঐ প্রোডাক্ট বা সার্ভিসটির চাহিদা কেমন? যদি এটা বোঝাই যায় যে চাহিদা অনেক আছে সেই পরিসরে যোগান নেই তবে কেনো শুরু করবেন না সেই ব্যবসা? আপনি যদি পরিকল্পনা মাফিক ডেইরি ফার্মের ব্যবসাটি পরিচালন করতে পারেন তবে খুবই দ্রুত এই সেক্টরে আপনাকে সফল হতে দেখা যাবে। 

আর সবচেয়ে বড় কথা হলো এই ব্যবসাটি প্রাথমিক ভাবে আপনি নিজ বাসা থেকেই করতে পারবেন। শুরুতে একটা দুইটা দিয়েই শুরু করুন না, প্রথমেই বিশাল বড় ফার্ম তৈরি করতে হবে এমন কোনো ব্যাপারই নেই।  

অনলাইনে কোর্স বিক্রি

করোনা কালীন সময়ের পর অন্তত্য বাংলাদেশের মানুষ এটা বুজে গেছে যে অনলাইন অনেক বড় একটা প্লাটফর্ম যেখানে আপনি যেকোনো কিছু দিয়েই নিজের ব্যবসা করা থেকে শুরু করে যেকোনো ধরনের আয় করতে পারবেন। উক্ত কাজে কিছু মেধা ও পরিশ্রম হলেই হবে। বাস্তবিক ভাবে কোনো অফিস বা কোনো নিদিষ্ট স্থানের প্রয়োজন হয় না এই ক্ষেত্রে। 

অনলাইনে কোর্স বিক্রি

মানুষ এখন অনলাইনে আয় করার জন্য খুব ইচ্ছা প্রসন করছে, যার সুবাদে তৈরি হয়েছে অনেক অনেক প্লাটফর্ম যেগুলোতে শেখানো হয় কিভাবে আয় করা যায়। আবার শুরু যে এই একটাই টপিক তাও কিন্তু নয়। আছে আরো অনেক অনেক বিষয় যা নিয়ে মানুষ জানতে চায় শিখতে চায়। আপনি যদি কোনো বিষয়ে খুব দক্ষ হয়ে থাকেন তবে আপনিও এমন কোর্স তৈরি করতে পারেন এবং সেটাকে অনলাইনের মাধ্যমেই বিক্রি করতে পারেন। 

এটা সম্পুর্ণ আপনার উপর নির্ভর করবে আপনি আপনার কন্টেন্ট কোথায় এবং কিভাবে তৈরি করতে চাচ্ছেন। পাশাপাশি আপনার তৈরি করা কোর্স অনলাইনে বিক্রি করার জন্য পেয়ে যাবেন অসংখ্য প্লাটফর্ম। আপনি চাইলে নিজের ওয়েবসাইট তৈরি করে নিজের ব্রান্ডিং করার মাধ্যমেও কোর্স সেল করতে পারবেন। 

গাড়ি ভাড়া দেওয়া 

আপনি কি চাচ্ছেন ঘরে বসেই এমন আয় করতে যেখানে আপনার পরিশ্রম হবে না তবুও আপনি ভালো পরিমাণের একটা লাভের দেখা পাবেন? তবে গাড়ির ব্যবসা খুব ভালো একটি মাধ্যম হতে পারে আপনার জন্য। কারন এখানে আপনাকে স্রেফ বিনিয়োগ করতে হবে বাকি কাজ গুলো অন্য কেউ একজন আপনার হয়ে করে দিবে। মানে কি সেটার? আপনি মূলক অন্য কোনো একজনের কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করে দিবেন এবং সেটার মাধ্যমে আয় করবেন। 

গাড়ি ভাড়া দেওয়ার ব্যবসা

আপনার যদি মোটামোটি ভালো পরিমাণের অর্থ থেকে থাকে এবং আপনি চাচ্ছেন ভালো কোথাও বিনিয়োগ করতে যেখান থেকে প্রতি মাসেই কিছু না কিছু আউটকাম পাবেন তবে আপনি আপনার অর্থ বিনিয়োগ করে একটি গাড়ি কিনে ফেলুন এবং সেটিকে ভাড়ায় চালাতে দিয়ে দিন। 

এখন বর্তমানে উবার, পাঠাও এর মত প্লাটফর্মের সাহায্যে অনেকেই এই ব্যবসাটি করছে, এতে করে আপনি ঘরে বসেই আয়ের মাধ্যম তৈরি করে ফেলতে পারবেন। তাছাড়া আপনার কাছে যদি এতো অর্থ না থেকে থাকে তবে আপনি একই ব্যাপার ঘটাতে পারেন রিস্কা, ভ্যান, অটো, মাইক্রো, এর মত ছোট খাটো যান কিনে সেগুলো ভাড়া দিতে। আপনাকে যে বড় গাড়িই কিনতে হবে ব্যাপারটি এমন নয়। 

এক্ষেত্রে দুই ধরনের কাজ হবে, প্রথমত আপনার ঘরোয়া ব্যবসা এর মধ্যে এটা পড়ে যাবে আর কোনো একজনের কর্মসংস্থান গড়ে তোলা হবে আপনার কাছের মাধ্যমে। 

রিসেলিং ব্যবসা 

আপনি কি কখনও বিক্রয় ডট কম এর কথা শুনেছেন? না শুনলেও সমস্যা নেই, আমি যেটা বলতে চাচ্ছি তা হলো এটা এমন এক প্লাটফর্ম যেখানে যেকেউ চাইলেই যেকোনো জিনিস ক্রয় বিক্রয় করতে পারবে, হোক সেটা নতুন কোনো প্রডাক্ট হোক বা পুরাতন। 

রিসেলিং reselling ব্যবসা

রিসেলিং এর ব্যপারটা হচ্ছে আপনি একটি প্রোডাক্ট কিনলেন, কিন্তু সেটা ব্যবহারের জন্য না বরং আবার অন্য কোথাও বিক্রি করার জন্য। এই সিস্টেমটাকে বলা হবে রিসেলিং করা। এখন এই রিসেলিংটা করবেন কোথা থেকে? ওই যে প্রথমেই বললাম বিক্রয় ডট কম এর কথা। এটা জাস্ট একটা উদাহরণ, আপনাকে যে এখানে বিক্রি বা ক্রয় করতে হবে এমন কোনো ব্যাপারই নেই।

আপনি চাইলে আপনার কমিউনিটিতে উক্ত ব্যাপারটা ঘটাতেই পারেন। মূলত ঘরোয়া ব্যবসা এর জন্য রিসেলিং এর কাজটি অনেকটাই বেটার কারন এখানে কোনো স্পেসিফিক দোকান বা প্লেসের প্রয়োজন হয় না। মূলত আজকাল ব্যবসা করার ক্ষেত্রে অনেক অনেক অপচুনিটির পাশাপাশি অনেক বেশি সুবিধা পাওয়া যাচ্ছে অনলাইনের কারনে।

আপনিও আপনার সুবিধা মোতাবেক কোনো প্লাটফর্ম বা অফলাইনেও মার্কেট ধরে রিসেলিং এর ব্যবসা করতে পারেন। আরেকটা ভালো ব্যাপার এইটা যে উক্ত কাজে আপনাকে যে এবল একটি প্রোডাক্ট নিয়ে কাজ করতে হবে এমনটাও নয়। আপনি চাইলেই একাধিক পণ্যের মাধ্যমে ব্যবসাটি করতে পারেন। 

ঘরোয়া নার্সারি 

অনেকের বাগানের সখ থাকে তাইনা? আপনারও কি তেমনটাও আছে? আপনি গ্রামে থাকে, বা হোক না শহরে। যেকোনো স্থানেই নার্সারি গড়ে তোলা যায়। এটা ঘরোয়া ভাবে করা সম্ভব তাই এটাকেও ঘরোয়া ব্যবসা এর আওতাভুক্ত করাই যায়। হ্যা স্থান ভেদে নার্সারির আকার ছোট বড় হবে তবে সেটা আদৌও কি কোনো বড় ব্যাপার? 

আপনি যেহেতু ব্যবসাটি করতে চাচ্ছেন তবে ছোট না বড় সেটার দিকে মনযোগ কম দিয়ে বরং আপনি নার্সারির ব্যবসাটি কতটা কার্যকর ভাবে গড়ে তুলতে পারবেন সেটায় মনযোগ দিন। নার্সারির ব্যবসা যেমন লাভজনক তেমনই বেশ ভালো লাগার মত একটা কাজ। 

ঘরোয়া ভাবে নার্সারি ব্যবসা

এই ব্যবসা ছিলো অতীতে, আছে বর্তমানে এবং যত দিন পৃথিবী ধংস না হবে ততদিন অব্দি থাকবে। নার্সারিতে তৈরি করা বিভিন্ন গাছের চারার চাহিদা দিন দিন বাড়ছে ছাড়া কমছে না। বর্তমানে পরিবেশ সচেতন সকলেই অল্প পরিমাণ করে হলেও গাছ লাগায়। অন্যদিক গ্রামে এর চাহিদা খুবই বেশি। শহর পর্যায়েও আজকাল ব্যাপক ভাবে দেখা দিচ্ছে। প্রতিটা ছাদে ছাদে এখন গাছের সবুজের দেখা মিলে। 

তবে হ্যা নার্সারির ব্যবসা করার আগে অবশ্যই আপনাকে গাছের বিষয়ে ভালোভাবে জানতে হবে। আপনার যদি যেই ধারনা না থাকে তবে যেকোনো কৃষি ভিত্তিক প্লাটফর্মে ছোট একটা ট্রেনিং গ্রহনের মাধ্যমে পুরো ব্যাপার গুলো বুজে উক্ত কাজের মাধ্যমে ব্যবসা পরিচালনা করতে পারেন। 

ক্র্যাফট ব্যবসা 

প্রথমেই বলে রাখি ক্র্যাফটের মানে কি, মূলত বিভিন্ন ধরনের কাগজের মাধ্যমে বিভিন্ন সৌখিন জিনিস তৈরি করা এবং সেগুলোকে প্রোপার ভাবে উপস্থাপন করাই হলো ক্র্যাফট। এই কাজে ব্যাপক ভাবে কারু শিল্প ও আর্টের দক্ষতা প্রয়োজন হয়। ছোট সিম্পল জিনিসকে আকর্ষনীয় করে তোলার মাধ্যমে নান্দনিক একটা ভাবমুর্তি প্রতিস্থাপন করা হয় এই কাজে। 

ঘরোয়া ভাবে ক্র্যাফট ব্যবসা

আপনি যদি এসব ব্যাপারে ইন্টারেস্ট হয়ে থাকেন তবে ঘরে বসেই উক্ত কাজ গুলো করে দারুন সব প্রোডাক্টে রুপান্তর করতে পারবেন। মেয়েদের ঘরোয়া ব্যবসা এর মধ্যে এটি বেশ জনপ্রিয়। কাগজ দিয়ে বিভিন্ন জিনিস যেমন – কাগজ দিয়ে তৈরি করা যেকোনো জিনিস, কাপুরের সাজায্যে তৈরি করা নান্দনিক কিছু, কাগজের খেলনা, ঘড় সাজানোর বস্তু, ওয়াল পেপার, 

আপনি যদি ক্র্যাফটের ব্যবসা করতে চান তবে প্রথমেই আপনার প্রোডাক্ট গুলো এমন ভাবে তৈরি করতে হবে যেগুলোর জন্য কেউ অর্থ প্রদানে ইচ্ছা প্রসন করে। মানুষের চাহিদা ও সৌখিন ব্যাপার গুলো সম্পর্কে ভালো ধারনা রাখতে হবে। এবং সকল কিছুর সমন্ধয়ে তৈরি করতে হবে আপনার প্রোডাক্ট। 

বিক্রি কোথায় করবেন? এটার জন্য রয়েছে অনেক অনেক উৎস, সবচেয়ে বেশি এই প্রোডাক্ট গুলো বিক্রি হয় বিভিন্ন সোসাল মিডিয়ায় যার মধ্যে ফেসবুক অন্যতম। তবে বর্তমানে অনেক ই-কমার্সেও এটার চাহিদা দেখা যায়, তাছাড়া নিজের মত করে ওয়েবসাইট তৈরি করে সেখানে বিক্রি করার মাধ্যমেও ব্যবসা পরিচালনা করতে পারবেন। 

উক্ত আর্টিকেল থেকে যা শিখতে পারলেন 

আমাদের আলোচনার মূল বিষয় বস্তু ছিলো ঘরোয়া ব্যবসা আইডিয়া। যেখানে বুজানো হয়েছে একটা ব্যবসাকে কখন ঘরোয়া ব্যবসা বলা যায়, তাছাড়া একটি ঘরোয়া ব্যবসা পরিচালনা করার উপায় ও ১০ টি সেরা ঘরোয়া ব্যবসা আইডিয়া প্রদান করা হয়েছে আর্টিকেলে যা বর্তমান সময়ে জনপ্রিয় পাশাপাশি ভবিষৎতেও এর প্রভাব ব্যাপক ভাবে থাকবে। আশা করছি উক্ত বিষয় গুলো আপনাকে বুজতে সাহায্য করেছে ঘরোয়া ব্যবসা সম্পর্কে। আমরা প্রতিনিয়তই এমন ব্যবসার আইডিয়া নিয়ে কেস স্ট্যাডি করে থাকি, রেগুলার এই সব বিষয় জানতে ওয়েবসাইটিকে ফলো করে রাখতে পারেন। 

2 thoughts on “ঘরোয়া ব্যবসা কি ও কিভাবে করতে হয় । ১০ টি ঘরোয়া ব্যবসা আইডিয়া”

Leave a Comment