গ্রোথ হ্যাকিং মার্কেটিং | কি এবং কিভাবে করবো | প্রাথমিক ধারনা | Growth Hack Tips

মার্কেটিং দুনিয়ায় প্রতিনিয়ত নতুন সব পদ্ধতি উদ্ভবন হচ্ছে। যার মধ্যে অন্যতম হলো গ্রোথ হ্যাকিং মার্কেটিং। এটি মূলত এমন এক ধারনা যেখানে মানুষের মস্তিষ্কের সাথে মার্কেটিং এর কন্সেপ্ট একত্রিত করা হয়।

মার্কেটিং সম্পর্কে অবগত নয় এমন লোক খুব কমই আছে বর্তমানে। এনালগ মার্কেটিং এর পাশাপাশি ডিজিটালাইজেশনের মাধ্যমে মার্কেটিং সেক্টরে যুক্ত হচ্ছে নতুন নতুন পদ্ধতি। 

আমাদের আশেপাশে থাকা কোম্পানি গুলো প্রতিনিয়ত নতুন মার্কেটিংয়ের ফর্মুলা, পদ্ধতি, উপায় এপ্লাই করে তাদের প্রোডাক্টগুলো ভোক্তার দারপ্রান্তে নিয়ে এসেছে। 

গ্রোথ হ্যাকিং মার্কেটিং কি? 

মার্কেটিংয়ের ক্রমবিকাশের মাধ্যমেই “গ্রোথ হ্যাকিং” মার্কেটিং এর উৎপত্তি যার উদ্দেশ্য হলো সল্প খরচে বেশি গ্রাহকের কাছে পন্যের সম্পর্কে তথ্য ছড়িয়ে দেয়া। কঠিন মনে হচ্ছে? বুজিয়ে বলছি

এটি পুরো মার্কেটিং সেক্টরের একটি নতুন আইডিয়া। ডিজিটাল মার্কেটিং এর সাথে কিছুটা রিলেট করা গেলেও সম্পুর্ন ডিজিটাল মার্কেটিং নয়

ইতিমধ্যে বড় বড় কোম্পানি এই পদ্ধতি অবলম্বন করে মার্কেটে তাদের পন্যের প্রোমোশন করে যাচ্ছে। তবে বড় কোম্পানির পাশাপাশি ছোট কোম্পানি গুলো, যাদের মূলত বাজেট কম তাদের ক্ষেত্রেও বেশ জনপ্রিয়তা লাভ করেছে গ্রোথ হ্যাকিং মার্কেটিং পদ্ধতি। 

কারন গ্রোথ হ্যাকিং মার্কেটিং এর মাধ্যমে সব চেয়ে কম খরচে আবার কোনো কোনো ক্ষেত্রে কোনো খরচ ছাড়াই সব চেয়ে বেশি প্রোমোশন করার পদ্ধতি এটি। গ্রোথ হ্যাকিং পুরোটাই একটা আইডিয়ার উপর নির্ভর করে।

যেকোনো ধরনের প্রোডাক্টই হোক, মার্কেটে যখন এর সৃষ্টি হয় তখন থেকেই এর প্রসেস শুরু হয়। একটি কোম্পানির বিভিন্ন ডিপার্টমেন্টের গুরুত্বপূর্ণ পদে থাকা লোকদের নিয়ে তৈরি করা বিশেষ টিমই হলো গ্রোথ হ্যাকার।

যাদের উদ্দেশ্য হলো কোম্পানির বর্তমান অবস্থান থেকে এক লাফে উচুতে লাফ দেয়া। যার জন্য তৈরি করা হয় মাস্টার প্লান। অনেকটা সৃজনশীল মূলক কাজ হচ্ছে উক্ত গ্রোথ হ্যাকিং প্লানিং। 

মার্কেটিং স্ট্রাটেজির উদাহরণ

এখানে মূলত একটা পন্যকে ঘিরে করা মার্কেটিং স্ট্রাটেজি গুলোর মাধ্যমে জ্যামিতিক হারে মার্কেটিং গ্রোথ করা। একটা বাস্তবিক উদাহরণ দিচ্ছি.. 

আমাদের আশেপাশে থাকা ই-কমার্স প্লাটফর্ম গুলো তাদের পন্যের প্রমোশন বা তাদের ব্রান্ডিং এমন ভাবে গ্রাহকের মাঝে তুলে ধরে যা কিনা পরবর্তীতে সেই গ্রাহক অজান্তেই ওই ই-কমার্স প্লাটফর্মের প্রোমোশন করে বসছে। 

যেমন দারাজেই ধরা যাক, প্রতিনিয়ত নতুন ভাউচার ও নিউ ইউজার ডিস্কাউন্ট দিয়ে তাদের আয়ত্তে থাকা গ্রাহকদের জানান দিচ্ছে, পরবর্তীতে সেই গ্রাহকরাই ওই সকল ভাউচার ও ডিস্কাউন্ট তাদের বন্ধু বা তার সার্কেলে শেয়ার করছে। 

এখানে শেয়ারকারী লোক ভাবছে ডিস্কাউন্ট শেয়ারের মাধ্যমে সেই কেবল উপকৃত হচ্ছে কিন্তু না এতে করে তার অজান্তেই তার বন্ধু বা তার সার্কেলের মাঝে দারাজের প্রোমোশন করে দিচ্ছে। এটাই একটা গ্রোথ হ্যাকিং মার্কেটিং আইডিয়া। 

আবার দেখুন, আপনি রেস্টুরেন্টে গিয়েছেন খেতে। আপনি সেখানের সাজ সজ্জায় মুগ্ধ হয়ে সেখানে কিছু ফটোসেশন করে সোসাল মিডিয়ায় সেগুলো আপলোড করে উক্ত লোকেশন সম্পর্কে আপনার বন্ধুদের জানান দিলেন। 

এখানে আপনি সম্পুর্ন বিনামূল্যে উক্ত রেস্টুরেন্টের প্রোমোশন করে দিয়েছেন। যেখানে আপনার বন্ধুদের কাছে রেস্টুরেন্টটির বার্তা জানান দেয়াতে তাদের মার্কেটিংয়ে খরচ করতে হত, এখন সেটা আর করতে হচ্ছে না কারন তাদের হয়ে কাজটি আপনি করে দিয়েছেন। 

আর এটা হয়তো আপনি নিজের অজান্তেই করেছেন তবে আপনার সাইকোলজি নিয়ে কাজ করে উক্ত পরিকল্পনা মাফিক সব কিছু এরেঞ্জ করেছে গ্রোথ হ্যাকিং মার্কেটিং এর আইডিয়া প্রদানকারী টিম। আশা করছি কিছুটা ক্লিয়ার হয়েছে গ্রোথ হ্যাকিং মার্কেটিং কি সে সম্পর্কে।

 

গ্রোথ হ্যাকিং মার্কেটিং এ কাজ কি? 

 

এর কাজ মূলত পন্যের বাজারজাতকরণের পরে ওই পন্যকে কেন্দ্র করে প্রোমোশনের উদ্দ্যেশ্যে আধুনিক উপায় যেমন : এসইও , গুগল অ্যানালিস্ট, কন্টেন্ট রাইটিং, ভিডিও মেকিং করে পন্যের হাইপ তৈরি করা।

সুন্দর ভাবে গ্রাহকের কাছে উপস্থাপন করা যাতে গ্রাহক অল্পতেই পন্যের প্রতি আকৃষ্ট হয়ে উঠে এমন সব আইডিয়া এপ্লাই করা। 

গ্রোথ হ্যাকিং কিভাবে করবো? 

  • টার্গেটেড গ্রাহক কারা (প্রথম দিকে সবাইকে ঘিরে না, নিদিষ্ট কিছু একক গ্রাহক যাদের দ্বারা পরবর্তীতে আরো গ্রাহক পাওয়া যাবে) 
  • টার্গেটেড গ্রাহকদের মানসিকতা, তাদের চাহিদা
  • পন্যের অভাব পূরনের ক্ষমতা (প্রকৃতপক্ষে প্রোডাক্ট দ্বারা গ্রাহকের উপকার হবে কিনা তার চাহিদা পূরন হবে কি না সেটা জানা) 
  • ঘটনার বিশ্লেষণ (গ্রাহকের এক্টিভিটিস) 
  • সম্ভব্য পদক্ষেপ (পন্যের উপর গ্রাহকের প্রতিক্রিয়া) 
  • জ্যামিতিক হারে বৃদ্ধি (এক গ্রাহক হতে আরেকজন গ্রাহক সৃষ্টি) 

 

গ্রোথ হ্যাকিং মার্কেটিং করা হয় কাস্টমারদের দিয়ে। এখানে অনেকাংশে কাস্টমারই আপনার প্রচার আইটেম। যখন কোনো কাস্টমার বা গ্রাহক আপনার প্রোডাক্ট ব্যবহার করবে এবং গ্রাহক সেই প্রোডাক্টিতে মুগ্ধ হবে তখন গ্রাহক নিজে থেকেই যেকোনো স্থানে ওই ক্যাটাগরি সংক্রান্ত কথায় আপনার প্রোডাক্ট সম্পর্কে জানান দিবে। আপনার প্রোডাক্টের প্রোমোশন সেভাবেই হবে। 

তাই লক্ষ রাখুন প্রোডাক্টের মানের উপর। কারন যদি মানই ভালো না হয়, আপনার টার্গেটেড গ্রাহকের প্রোডাক্ট পছন্দ না হয় তাহলে সে কখনই সাবকন্সিয়াসলি আপনার প্রোডাক্টের প্রমোশন কোথাও করবে না এটাই সাভাবিক। 

মনে রাখবেন বর্তমানে সব চেয়ে বড় বড় কোম্পানি গুলো যেমন : গুগল, ফেসবুক, টুইটার, আপেল, আমাজন সব প্রায় অনেক গুলোই মার্কেটিংয়ের এই পদ্ধতি অনুসরণ করছে। 

এমনকি ছোট কোম্পানি গুলোও অল্প সময় দ্রুত বেড়ে উঠতে একই পদ্ধতি অবলম্বন করছে তাই সঠিক দক্ষতা ও মাস্টার প্লান তৈরির মাধ্যমে আপনিও নিজের গ্রোথ হ্যাকিং মার্কেটিং প্রসেস তৈরি করুন এবং এগিয়ে যান। আপনার জন্য শুভকামনা রইলো। ধন্যবাদ। 

 

Leave a Comment