গণতান্ত্রিক নেতৃত্ব কাকে বলে? Democratic Leadership । নেতৃত্বদান – ব্যবস্থাপনা 

গণতান্ত্রিক নেতৃত্ব সম্পূর্ণ বিপরীত ধর্মী প্রতিষ্ঠানের অধীনস্থদের সহযোগিতা উপর ভিত্তি করে গণতান্ত্রিক নেতৃত্ব প্রতিষ্ঠিত। এটি একটি উদারনৈতিক নেতৃত্ব। এই ধরনের নেতৃত্বে অনন্ত স্তলোদের সাথে আলাপ আলোচনা ও মতামত গ্রহণ এবং সংশ্লিষ্ট অন্যান্যদের সাথে পরামর্শ করে সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়। ফলে গণতান্ত্রিক নেতৃত্ব ক্ষমতা ও সিদ্ধান্ত গ্রহণ বিকেন্দ্রীকরণে আগ্রহী থাকে। 

Bartol ও Martin এর মতে. “Democratic behavioral style of leaders who tend to involve the group in decision making, let the group determine work methods, make overall goals known and use feedback as an opportunity for helpful coaching.” 

অর্থাৎ, নেতৃত্বের গণতান্ত্রিক আচরণগত স্টার। সিদ্ধান্ত গ্রহণে গ্রপের সম্পৃক্তকরণ, কার্য পদ্ধতি নির্ধারণ, লক্ষ্যের সার্বিক জ্ঞাপন এবং সাহায্যকারী প্রশিক্ষকের ফলাবর্তনের ব্যবহার করণ। এরূপ নেতৃত্বে দ্বিমুখী যােগাযােগ ব্যবস্থা বজায় থাকে। সিদ্ধান্ত গ্রহণে অধনস্তদের অংশগ্রহ। পরামর্শ দানের সুযােগ থাকে বলে এরূপ নেতৃত্বকে অংশগ্রহণমূলক বা পরামর্শমূলক নেতৃত্ব বলা হয়। 

অধীনস্ত কর্মীকে মতামত প্রদানের সুযােগ সম্বলিত নেতৃত্ব গণতান্ত্রিক মূল্যবােধের উপর প্রতিষ্ঠিত বলে একে গণতান্ত্রিক নেতত বলে গণতান্ত্রিক নেতৃত্বের অনেকটা ডগলাস ম্যাকগ্রেগরের Y তত্ত্ব (Theory-Y) এর অনুরূপ। এরূপ নেতৃত্বে কর্মীদের প্রশংসা ও সমালােচনা উভয়ই গ্রহণ করা হয় এবং কার্য সম্পাদনে দলগত দায়িত্ব সচেতনতার উন্নয়ন ঘটানাের প্রচেষ্টা চালানাে হয়। 

গণতান্ত্রিক নেতৃতের সুবিধা ও বৈশিষ্ট্য (Characteristics and advantages of democratic leadership) 

ক. গণতান্ত্রিক নেতৃত্বের কর্মীদের মধ্যে দায়িত্ববােধ জাগ্রত করে কার্যের ফলপ্রদতা বৃদ্ধি করে। 

খ. এরূপ নেতৃত্ব কর্মীদের ব্যক্তিগত উৎকর্ষতা ও দক্ষতা বৃদ্ধির সহায়ক। 

গ. গণতান্ত্রিক নেতৃত্বের কর্মীর সৃজনশীলতা ও উদ্যোগ গ্রহণে উৎসাহিত করে মনােবলের উন্নয়ন ঘটায়। 

ঘ, এ ধরনের নেতৃত্ব প্রতিষ্ঠানে কর্মীদের সহযােগিতা ও সহজ সমন্বয়ের সহায়ক। 

ঙ. এরূপ নেতৃত্ব সিদ্ধান্তের গ্রহণযােগ্যতা ও বাস্তবায়ন নিশ্চিত করে। 

চ. এরূপ নেতত্ব অধস্তন কর্মীদের যন্ত্রের মত ব্যবহার করে না এবং কর্মীরা সুযােগ পেলে দক্ষতার সাথে কার্য সম্পাদন করতে পারে বলে বিশ্বাস করে।

ছ, এ ব্যবস্থায় নেতৃত্ব নিজে একা সিদ্ধান্ত গ্রহণ না করে অধস্তনদের অংশগ্রহণকে উৎসাহিত করে এবং কর্মীদের মধ্যে গণতান্ত্রিক মূল্যবােধ জাগ্রত করে। 

গণতান্ত্রিক নেতৃত্বের সীমাবদ্ধতা (Limitations of democratic leadership) : 

ক. গণতান্ত্রিক নেতৃত্বে সিদ্ধান্ত গ্রহণ সময় সাপেক্ষ ও ব্যয়বহুল। 

খ, এ ব্যবস্থায় কর্মীদের দায়িত্ব এড়ানাের প্রবণতা দেখা যায়। 

গ. এরূপ নেতৃত্ব কর্মীদের অবাধ্যতা সৃষ্টিতে উৎসাহ যােগায়। 

ঘ, অধস্তন কর্মবিন্দ নেততের গণতান্ত্রিক মনােভাবকে দর্বলতা বলে গণ্য করে।

ঙ, এ ধরনের নেতৃত্বে আদেশ-নির্দেশের নির্দিষ্টতার অভাব অনেক ক্ষেত্রেই নেতৃত্বের কার্যকারিতা বিনষ্ট করে।

পরিশেষে এই ছিলো গণতান্ত্রিক নেতৃত্ব সংক্রান্ত বিষয়ক আর্টিকেল যেখানে গণতান্ত্রিক নেতৃত্ব কি, কাকে বলে, বৈশিষ্ট্য এবং এই সংক্রান্ত অন্যান্য বিষয়ে আলোচনা করা হয়েছে। নেতৃত্ব এর অন্যন্য বিষয় গুলোর সম্পর্কে জানুন উক্ত লিংক ক্লিক করার মাধ্যমে। 

 

1 thought on “গণতান্ত্রিক নেতৃত্ব কাকে বলে? Democratic Leadership । নেতৃত্বদান – ব্যবস্থাপনা ”

Leave a Comment