একার্থক পরিকল্পনা কি । একার্থক পরিকল্পনার প্রকারভেদ

যে পরিকল্পনা নির্দিষ্ট সময়ে বিশেষ উদ্দেশ্য অর্জনের জন্য প্রণয়ন করা হয় তাকে একার্থক পরিকল্পনা বলে।  এই ধরনের পরিকল্পনা শুধুমাত্র একবার ব্যবহার করা যায়। মূলত বিশেষ কোন পরিস্থিতি বা অবস্থা মােকবিলার জন্য একার্থক পরিকল্পনা প্রণয়ন করা হয়।

বিশেষজ্ঞদের মতে একার্থক পরিকল্পনা কাকে বলে? 

Prof. R. W. Griffin এর মতে, “Single use plan is developed to carry out a course of action that is not likely to be repeated in the future. অর্থাৎ একার্থক পরিকল্পনা এমন ধরনের কার্যক্রম সম্পাদনের জন্য প্রণয়ন করা হয় যা ভবিষ্যতে আর পুনরায় ব্যবহারের প্রয়ােজন পড়ে না।

Bartol Martin এর মতে, “Single use plans are plans aimed at achieving a specific goal that once reached will most likely not Occur in the future.”  অর্থাৎ একার্থক পরিকল্পনা হলাে সেই সকল পরিকল্পনা বা কোন একটি নির্দিষ্ট লক্ষ্য অর্জনের জন্য প্রণয়ন করা হয় এবং যা একবার অর্জিত হলে ভবিষ্যতে পুনরায় প্রয়ােজন পড়ে না।

উল্লিখিত সংজ্ঞাগুলাের বিশ্লেষণ ও আলােচনার আলােকে বলা যায়, নির্দিষ্ট কোন উদ্দেশ্য অর্জনে বা বিশেষ কোন পরিস্থিতি মােকাবিলার জন্য যে পরিকল্পনা প্রণয়ন করা হয় তাকে একার্থক পরিকল্পনা বলে।

একার্থক পরিকল্পনার প্রকারভেদ

আমরা ইতিমধ্যে জেনেছি, যে পরিকল্পনা কোন প্রতিষ্ঠানে শুধুমাত্র একবারই ব্যবহার করা হয় তাকে একার্থক পরিকল্পনা বলে। একার্থক পরিকল্পনা নির্বাহীদের নিকট অত্যন্ত গুরুত্ব বহন করে। তাই অধিকাংশ প্রতিষ্ঠানের নির্বাহীগণকে বিভিন্ন ধরনের একার্থক পরিকল্পনা ব্যবহার করতে দেখা যায় । একার্থক পরিকল্পনাকে বিভিন্ন ভাগে ভাগ করা যায়। নিমে এগুলাে আলােচনা করা হলাে :

১. কর্মসূচি (Program) 

কোন সুনির্দিষ্ট লক্ষ্য অর্জনে প্রতিষ্ঠানের পরিকল্পনা বাস্তবায়নে যেসব প্রধান পদক্ষেপ বা। কার্যক্রম গ্রহণ করা হয় তাকে কর্মসূচি বলে । যে কোন কর্মসূচি বাস্তবায়নে কতকগুলাে পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়। কর্মসূচির কার্যকর বাস্তবায়নে গৃহীত এসব পদক্ষেপ অনুযায়ী কার্যাবলি সম্পাদন করা হয় । 

Prof. R, W. Griffin এর ভাষায়, “A program is a single use plan for a large set of activities.” অর্থাৎ “বড় রকমের কার্যক্রম নির্ধারণে কর্মসূচি একটি একার্থক পরিকল্পনা।” কার্য পদক্ষেপগুলাের ধারাবাহিকতা প্রকাশ করে কে, কোথায়, কখন এবং কত সময়ে কি কাজ। করবে তার রূপরেখা অঙ্কন করে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিকে দায়িত্ব দিয়ে যে পরিকল্পনা করা হয় তাকে প্রােগ্রাম বা কর্মসূচি বলে ।

২. প্রজেক্ট (Project) 

কর্মসূচির আওতায় গৃহীত এক একটি পদক্ষেপ বাস্তবায়নের জন্য গৃহীত পৃথক পরিকল্পনাকে প্রজেক্ট বলে। অর্থাৎ একটি কর্মসূচির কার্যকর বাস্তবায়নে পর্যায়ক্রমে কতকগুলাে পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়। এরূপ প্রতিটি পদক্ষেপকে এক একটি পৃথক পরিকল্পনার রূপ দেয়া হলে তাকে প্রজেক্ট হিসেবে অভিহিত করা হয়। 

R. W. Griffin এর মতে, “A project is a single use plan of less scope and complexity than a program. A project may be part of a broader program or it may be a self-contained single use plan.” অর্থাৎ, কর্মসূচি থেকে অপেক্ষাকৃত ক্ষুদ্র ও কম জটিল একার্থক পরিকল্পনাকে প্রজেক্ট বলেত। প্রজেক্ট বৃহৎ কর্মসূচির একটি অংশ। অথবা এটি নিজেই একটি একার্থক পরিকল্পনা।

প্রকল্পকে খণ্ড পরিকল্পনাও বলা হয়ে থাকে। প্রতিটি প্রজেক্টের একটি নির্দিষ্ট উদ্দেশ্য থাকে এবং প্রত্যেকটি প্রজেক্ট সনের একটি নির্ধারিত সময়সীমা ও ব্যয় নির্ধারণ করা থাকে। প্রজেক্ট পরিকল্পনা গ্রহণের মাধ্যমে কার্যভার হস্তান্তর এবং নিয়ন্ত্রণ কার্য সহজ ও সুষ্ঠুভাবে করা সম্ভব হয় ।

৩. বিশেষ কর্মসূচি (Special program) 

 প্রতিষ্ঠানের প্রােগ্রাম পরিচালনায় ব্যাঘাত সৃষ্টি হলে বা বিশেষ কোন পরিস্থিতিতে কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার লক্ষ্যে যে কর্মসূচি গ্রহণ করা হয় তাকে বিশেষ কর্মসূচি বলে। বিশেষ কর্মসূচি গ্রহণের মাধ্যমে সাময়িক অসুবিধা দূর করা হয়। এককথায়, আকস্মিক পরিস্থিতি মােকাবিলার লক্ষ্যে যে একার্থক। পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়ে থাকে তাকে বিশেষ কর্মসুচি (Special program) বলে। এরূপ কর্মসূচির মূল বৈশিষ্ট্য হচ্ছে:

(ক) কর্মসূচি সম্পাদনের কোন নির্দিষ্ট সময়সীমা থাকে না এবং  (খ) চলমান কার্যক্রমের ব্যাঘাত ঘটার কারণে সৃষ্ট পরিস্থিতি মােকাবিলায় ভারসাম্যহীনতা দূরীকরণকল্পে বিশেষ কর্মসূচিমূলক একার্থক পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়। প্রধান কর্মসূচির কার্যকারিতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে কখনাে কখনাে বিশেষ কর্মসূচিমূলক একার্থক পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়ে থাকে।

৪. বিশদ পরিকল্পনা (Detailed plans) 

প্রতিষ্ঠানের উদ্দেশ্য অর্জনের লক্ষ্যে গৃহীতব্য ধারাবাহিক কাযাবাল সম্পন্নের জন্য কতিপয় ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র পদক্ষেপ গ্রহণ করে সেসব ক্ষুদ্র পদক্ষেপের ব্যাখ্যা আকারে প্রণীত একার্থক পরিকল্পনাকে বিশদ পরিকল্পনা (Detailed plans) বলা হয়। 

কোন উদ্দেশ্য অর্জনের লক্ষ্যে এর খুটিনাটি বিষয় বিবেচনা, উক্ত পদক্ষেপ বাস্তবায়নের উপযুক্ত পদ্ধতি নির্ধারণ এবং সেসব পদ্ধতি যথােপযুক্ত সময় ও স্থানে কার্যকরী করার লক্ষ্যে প্রয়ােজনীয় সম্পদ ও তথ্য যােগান দেয়াই বিশদ পরিকল্পনার মূল উদ্দেশ্য। প্রতিষ্ঠানের সকল স্তর ও কার্যের জন্য বিশদ পরিকল্পনা প্রণয়ন করা ঠিক নয়।

আর্টিকেল থেকে যা শিখলেন

উল্লেখ্য যে, এখানে একটি নয় বরং দুইটি বিষয় একসাথে আলোচনা করা হয়েছে। প্রথমে জানানো হয়েছে একার্থক পরিকল্পনা কি এবং বিশেষজ্ঞদের মতে একার্থক পরিকল্পনা কাকে বলে সেটি। পরবর্তীতে জানানো হয়েছে একার্থক পরিকল্পনার প্রকারভেদ সম্পর্কে। তাছাড়া পরিকল্পনা বিষয়ক আপনার যদি আরো কোনো বিষয়ে জানতে ইচ্ছা করে তবে এখানে ক্লিক করে জেনে নিতে পারবেন খুব সহজেই। 

Leave a Comment