একার্থক পরিকল্পনার সুবিধা ও অসুবিধা সমূহ বিস্তারিত

একার্থক পরিকল্পনার সুবিধা ও অসুবিধা সম্পর্কে আলোচনা যেখানে একার্থক পরিকল্পনার স্মরনের পাশাপাশি এর সুবিধা এবং অসুবিধা নিয়ে আলোচনা করা হয়েছে। 

আমরা ইতিমধ্যে জেনেছি যে পরিকল্পনা নির্দিষ্ট সময়ে বিশেষ উদ্দেশ্য অর্জনের জন্য প্রণয়ন করা হয় তাকে একার্থক পরিকল্পনা বলে।  এই ধরনের পরিকল্পনা শুধুমাত্র একবার ব্যবহার করা যায়। মূলত বিশেষ কোন পরিস্থিতি বা অবস্থা মােকবিলার জন্য একার্থক পরিকল্পনা প্রণয়ন করা হয়।

একার্থক পরিকল্পনার সুবিধা ও অসুবিধা

এবার জানবো একার্থক পরিকল্পনার সুবিধা কোন গুলো এবং অসুবিধা কোন গুলো সেই সম্পর্কে। প্রথমেই সুবিধা দিয়ে শুরু করা যাক। 

একার্থক পরিকল্পনার সুবিধাসমূহ

কোন সুনির্দিষ্ট উদ্দেশ্য অর্জন বা কোন বিশেষ পরিস্থিতি মােকাবিলায় একার্থক পরিকল্পনা প্রণয়ন করা হয়। এ ধরনের পরিকল্পনা ব্যবহারে প্রতিষ্ঠানের জন্য নানাবিধ সুবিধা আনয়ন করে থাকে। নিম্নে একার্থক পরিকল্পনার সুবিধাসমূহ আলােচনা করা হলাে:

১. সহজ বাস্তবায়ন (Easy accomplishment) 

কোন বিশেষ পরিস্থিতি মােকাবিলায় এ ধরনের পরিকল্পনা। ব্যবহার করা হয়। ফলে প্রতিষ্ঠানে নিয়ােজিত কর্মীরা প্রতিষ্ঠানের অন্যান্য কাজের চেয়ে এরূপ পরিকল্পনা বাস্তবায়নে অধিক গুরুত্ব দিয়ে থাকেন। এক্ষেত্রে পরিকল্পনার কার্যকর বাস্তবায়নে কর্মীরা আন্তরিকতা ও নিষ্ঠার সাথে কার্য সম্পাদন করে। এতে পরিকল্পনার বাস্তবায়ন সহজ হয়।

২, ব্যবস্থাপকগণের কাৰ্যদক্ষতা বৃদ্ধি (Increasing managerial efficiency) 

একার্থক পরিকল্পনার অধীনে গৃহীত কর্মসূচি গ্রহণ ও বাস্তবায়নে ব্যবস্থাপকগণের স্বাধীনতা থাকে। তাই কার্যক্ষেত্রে ব্যবস্থাপকগণের নিজস্ব চিন্তাভাবনা, প্রজ্ঞা ও মেধার প্রতিফলন ঘটে। ব্যবস্থাপকগণের চিন্তাচেতনা তাদের কার্যদক্ষতা বৃদ্ধির সহায়ক হিসেবে। কাজ করে।

৩, সর্বোত্তম পন্থার প্রতি গুরুত্বারােপ (Importance to the best method) 

প্রতিষ্ঠানের কোন বিশেষ উদ্দেশ্য অর্জনে একার্থক পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়। এ ধরনের পরিকল্পনা গ্রহণের ক্ষেত্রে অত্যন্ত সতর্কতা অবলম্বন করতে হয়। কেননা, এরূপ পরিকল্পনা কোন কারণে অকার্যকর হলে তা আর কার্যকর করা সম্ভব হয় না। তাই একার্থক পরিকল্পনা গ্রহণকালে নির্ধারিত একাধিক বিকল্প হতে সর্বোত্তম বিকল্পটি পরিকল্পনা হিসেবে গ্রহণ করা হয়। সুতরাং এরূপ পরিকল্পনা সর্বোত্তম পন্থার প্রতি গুরুত্বারােপ করে থাকে।

৪. দ্রুত পদক্ষেপ গ্রহণ (Rapid action) 

একার্থক পরিকল্পনা স্বল্প বা মধ্যমেয়াদি হয়ে থাকে । এরূপ পরিকল্পনা | বাস্তবায়নকালে কি কি সমস্যা হতে পারে তা ব্যবস্থাপকরা পূর্বেই অনুমান করে থাকেন। ফলে উদ্ভূত সমস্যার সমাধানে দ্রুত পদক্ষেপ গ্রহণ করা সম্ভব হয়।

৫. নিয়ন্ত্রণে সহায়তা (Aid to controlling) 

একার্থক পরিকল্পনা একটি বিশেষ ধরনের পরিকল্পনা। কেননা, এরূপ পরিকল্পনায় উদ্দেশ্য সুনির্দিষ্ট থাকে। তাছাড়া একার্থক পরিকল্পনার অধীনে গৃহীত কর্মসূচি অত্যন্ত গুরুত্বের সাথে বিবেচনা করা হয়। এতে গৃহীত পরিকল্পনার বাস্তবায়নকালে কোনরূপ ত্রুটি-বিচ্যুতি পরিলক্ষিত হলে তার প্রয়ােজনীয় সংশােধনমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করা যায়। সুতরাং একার্থক পরিকল্পনা নিয়ন্ত্রণের ক্ষেত্রে বিশেষ সুবিধা আনয়ন করে।

৬. কর্তৃত্ব ও দায়িত্ব অর্পণ (Delegation of authority & responsibility) 

একার্থক পরিকল্পনায় শুরুতেই প্রতিষ্ঠানের জনশক্তির যথার্থ প্রয়ােগ সম্পর্কে নিশ্চিত করা হয়। সংগঠন কাঠামােকেও প্রয়ােজনানুযায়ী সাজানাে হয়ে থাকে। ফলে দায়িত্ব ও কর্তৃত্ব সুনির্দিষ্টভাবে হস্তান্তর করা সহজতর হয়।

একার্থক পরিকল্পনার অসুবিধাসমূহ

একার্থক পরিকল্পনার বহুবিধ সুবিধা থাকলেও এর কতিপয় অসুবিধা রয়েছে। নিম্নে একার্থক পরিকল্পনার অসুবিধাসমূহ আলােচিত হলাে: 

১ ব্যয়বহুল (Expensive) 

কোন সুনির্দিষ্ট উদ্দেশ্য অর্জন বা বিশেষ কোন পরিস্থিতি মােকাবিলায় একার্থক পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়। এরূপ পরিকল্পনা একবার ব্যবহার করা হয় এবং প্রয়ােজন শেষে এর কার্যকারিতা নিঃশেষ হয়ে যায় অথচ এ ধরনের পরিকল্পনা প্রণয়নকালে প্রচুর তথ্য সংগ্রহ ও বিশ্লেষণ করতে হয়। এতে প্রতিষ্ঠানের প্রচুর অর্থ ব্যয় হয় সুতরাং একাধীক পরিকল্পনার একটি বিশেষ অসুবিধা হলাে এটি ব্যয়বহুল।

২. সময় সাপেক্ষ (Time consuming) 

একার্থক পরিকল্পনা নির্দিষ্ট সময় ও বিশেষ পরিস্থিতি মােকাবিলায়। ব্যবহার করা হয়। তাই এরূপ পরিকল্পনা প্রণয়নকালে তথ্য সংগ্রহ ও বিশ্লেষণে প্রচুর সময় ব্যয় করতে হয়।

৩. দক্ষ কর্মীর অভাব (Lack of efficient workers) 

একার্থক পরিকল্পনা প্রণয়ন ও বাস্তবায়নে কর্মীর দক্ষতার বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্বের সাথে বিবেচনা করা হয়। কেননা দক্ষ কর্মী ব্যতীত এরূপ পরিকল্পনা প্রণয়ন বা বাস্ত বায়নে অচলাবস্থার সৃষ্টি হয়। কিন্তু অধিকাংশ প্রতিষ্ঠানেই দক্ষ কর্মীর যথেষ্ট অভাব পরিলক্ষিত হয়। সুতরাং একার্থক পরিকল্পনার ক্ষেত্রে এটি একটি অন্যতম সমস্যা।

৪. সুনির্দিষ্ট নিয়ম-নীতির অভাব (Lack of specific rules)

একার্থক পরিকল্পনা প্রণয়নে যথেষ্ট সতর্কতা অবলম্বন করা হয়। কিন্তু এরূপ পরিকল্পনার সাথে সংশ্লিষ্ট অধস্তন কর্মীদের সুযােগ-সুবিধা, ছাটাই ও কার্যের সময়সীমা প্রভৃতি ক্ষেত্রে কোন সুনির্দিষ্ট নিয়ম-নীতি অনুসরণ করা হয় না। ফলে ঊর্ধ্বতন নির্বাহীগণ অধস্তনদের প্রতি অধিকাংশ সময় স্বৈরাচারী মনােভাব পােষণ করে। কাজেই, একার্থক পরিকল্পনার ক্ষেত্রে এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ সমস্যা।

৫. নির্বাহীদের কার্যভার বৃদ্ধি পায় (Workload of the executives) 

একার্থক পরিকল্পনা বারবার প্রণয়ন করতে হয় বিধায় নির্বাহীদের কার্যভার বৃদ্ধি পায় 

৬. প্রয়ােগ ক্ষেত্র (Field of application) 

একার্থক পরিকল্পনার প্রয়ােগ ক্ষেত্র অত্যন্ত সীমিত। একার্থক পরিকল্পনা নির্দিষ্ট সময় ও বিশেষ উদ্দেশ্যে প্রণয়ন করা হয়। তাই অবিরাম কার্য প্রক্রিয়া চলে এরূপ ক্ষেত্রে একার্থক পরিকল্পনা প্রয়ােগ করা যায় না।

আর্টিকেলটির মাধ্যমে যা শিখলেন

এই ছিলো একার্থক পরিকল্পনার সুবিধা ও অসুবিধা সমূহ। এখানে দুইটি বিষয়েই সচ্ছ ধারনার শিরোনাম ও সংক্ষিপ্তে আলোচনা করা হয়েছে যার মাধ্যমে একার্থক পরিকল্পনার মাধ্যেম যে সুবিধা ও অসুবিধা গ্রহন করবো সেই সম্পর্কে জানতে পারা গেলো। পরিকল্পনা বিষয়ক অন্যান্য ক্ষেত্রে বিস্তারিত জানতে এখানে ক্লিক করুন। 

Leave a Comment