ইংরেজিতে দক্ষ হওয়ার উপায় | কিভাবে ইংরেজিতে দক্ষ হওয়া যায়? ৫ টি কৌশল

ইংরেজি জানা ও ইংরেজিতে দক্ষ হওয়া দুইটা কখনই এক বিষয় নয়। ইংরেজি জানার পাশাপাশি ইংরেজিতে দক্ষ হয়ে থাকলে কথা বলা সহজ হয়ে যায়। এক্ষেত্রে নিজেকে দক্ষ করে তুলতে উল্লেখিত স্টেপ গুলো অনুসরণ করুন।

প্রথমেই বলে রাখছি এই আর্টিকেল্র মাধ্যমে আপনি কিভাবে ইংরেজিতে কথা বলা শিখবেন তা জানানো হবে না। বরং আপনি যতটুকুই ইংরেজি ভাষা আয়ত্ত করেছেন বা জানেন তা ব্যবহার করেই কিভাবে ইংরেজিতে কথা বলবেন, ইংরেজিতে দক্ষ হওয়ার জন্য পদক্ষেপ নিবেন সে সম্পর্কে ধারনা দেয়া হবে।

ইংরেজিতে দক্ষ হওয়া এর ক্ষেত্রে ও কথা বলার ক্ষেত্রে কেবলই যে ইংরেজিতে খুব ভালো করতে হবে এই ধারনাটা ভুল। আপনার কাছে যতটুকু ধারনা আছে সেগুলোর যযথাযথ ব্যবহারের মাধ্যমে আপনিও প্রাথমিক ভাবে ইংরেজিতে কথা বলার ক্ষেত্রে দক্ষতা অর্জন করতে থাকবেন।

ইংরেজিতে দক্ষ হওয়ার ৫ টি কৌশল

এখানে ৫ টি এমন কৌশল সম্পর্কে আলোচনা করবো যেগুলো এপ্লাইয়ের মাধ্যমে আপনার মধ্যে ইংরেজি সম্পর্কে বিদ্যমান জ্ঞানের মাধ্যমেই ইংরেজিতে কথা বলার ক্ষেত্রে দক্ষতা অর্জন করতে সক্ষম হবেন। কৌশল গুলো পড়ুন, জানুন ও নিজের জীবনে এপ্লাই করুন।

১. Fluently কথা বলতে থাকার চেষ্টা করুন

ইংরেজিকে কেবলই একটা ভাষা হিসেবে ভাবতে হবে। আমরা যারা বাঙালি তারা জন্মের পর থেকেই কিন্তু বাংলা ভাষায় দক্ষ ছিলাম না।

একটু একটু করে বলতে বলতে বাংলা ভাষায় দক্ষতা অর্জন করতে পেরেছি। ইংরেজিতে কথা বলার সময় প্রায় সময়ই মানুষ চুপসে যায় কারন তারা ভাবে ইংরেজিতে বলছি, যদি ভুল হয় তাহলে লোকে হাসাহাসি করবে।

যার ফলে একেবারে দক্ষ হওয়ার আগে কেউ সহজে ইংরেজিতে কথা বলতে চায় না। আপনি কি জানেন এখানেই মূলত ভুলটার শুরু হয়?

যদি এটা ভেবে থাকেন ইংরেজিতে দক্ষ হওয়া এর পরেই ইংরেজিতে কথা বলা শুরু করবেন তাহলে আবারও আপনাকে ছোট বেলার কথা মনে করিয়ে দিতে চাইবো।

যতক্ষন না অব্দি Fluently বলা না শুরু করবেন ততক্ষন অব্দি দক্ষ হওয়ার প্রথম স্টেপে পা রাখতে পারবেন না। হোক সেটা ভুল ইংরেজি লোকের সমালোচনা প্রথম দিকে ভুলে থাকতে হবে।

তবে আমরা বাঙালিরা সভাবতই সমালোচনার ভয়ে থাকি। এক্ষেত্রে যা করা যেতে পারে তা হলো : কেউ যদি আপনার fluently ইংরেজি বলার ক্ষেত্রে প্রশ্ন তুলে তাকে জানাতে পারেন আপনি ইংরেজি বলার প্রথম লেভেলে আছেন, সংশোধন এর বিষয় আসবে পরবর্তী ধাপে।

২. ভোকেবুলারির বিষয় ভুল ধারনা দূর করুন

অনেকেই নিজেকে এই কথায় দমিয়ে রাখে যে, আমি তো বেশি একটা ভোকেবুলারি (Vocabulary) পারি না বা জানি না। আমি কিভাবে ইংরেজি বলবো?

ঠিক আছে, আপনার বিষয়টা বুজেছি। আচ্ছা বলুন তো, যখন কাউকে ইংরেজি বলতে শুনেন তখন কি একটু হলেও আপনি তার বলার মানে টা বুজেন?

যদি বুজে থাকেন তাহলে অবশ্যই আপনি ভোকেবুলারি জানেন। হ্যা হতে পারে তার পরিমান অনেকটা কম কিন্তু আপনি অবশ্যই জানেন।

এক্ষেত্রে স্রেফ আপনি বলতে ভয় পাচ্ছেন। এটাকে কাটিয়ে উঠুন, যতটুকু ভোকেবুলারি জানা আছে তাই দিয়ে চেষ্টা করুন। প্রথম কৌশলে বলা নির্দেশনা ফলো করে Fluently ইংরেজিতে কথা বলুন।

৩. গ্রামার সংক্রান্ত ভীতির সমাধান

ভোকেবুলারির ভয় চলে যাওয়ার পর খেয়াল আসে, আমি ভোকেবুলারি তো কিন্তু গঠনের ব্যাপারটা কি করা যায়?

আসলে আপনি যখন শুরু করেছেন Expert থাকা অবস্থায় শুরু করেন নি। যার ফলে আপনি প্রথম দিকেই এতো এতো গ্রামার এপ্লাই করে কথা বলতে পারবেন না।

আর এটা কখনই করতে যাবেন না। তাহলে কি করা যায়? সব সময় একটি Verb এর উপর বাক্য শেষ করুন। কথাকে সিম্পল রাখুন, বাক্যকে বেশি পেচাতে যাবেন না।

একটি বাক্যকে শুদ্ধ করতে একটি Verb প্রয়োজন তা সবারই জানা। যখনই একটি verb বাক্যে থাকবে সেটা অতিসহজ একটা বাক্য হবে যেমন : Subject, Verb, Object কিন্তু যখনই verb একের বেশি হবে তখনই গঠনটি জটিল হতে থাকবে।

তাই যখনই একে অপরের সাথে সাভাবিক conversation চালাবেন তখন চেষ্টা করবেন এক verb এর বাক্য তৈরি করা। এটা প্রথম দিকের স্টেপ।

যখন ধিরে ধিরে ইংরেজি গ্রামারে দক্ষতা অর্জন করতে থাকবেন তখন নিত্যনতুন ফর্মুলা এপ্লাই করবেন। হোক ছোট ও সহজ কিন্তু শুরুটা সুন্দর করুন।

৪. কথা বলার সময় বডি ল্যাংগুয়েজ ঠিক রাখুন

এই পর্যায়ে আপনি যতই ইংরেজি জানুন, বুজুন বা ইংরেজিতে দক্ষ হওয়া এর সব প্রসেস এপ্লাই করে থাকেন না কেন, আপনি যদি কথা বলার ধরন ঠিক ভাবে উপস্থাপন না করেন তা অপর পাশের মানুষের কাছে গ্রহনীয় হবে না।

এক্ষেত্রে বাংলা হোক বা ইংরেজি, কথা বলার ক্ষেত্রে যে কয়টি বিষয়ে খেয়াল রাখা প্রয়োজন তা নিয়ে আলোচনা করছি।

চোখের ভংগি : যখনই কারো সাথে কথা বলবেন অবশ্যই তার পুরো এটেনশন আপনার মধ্যে রাখতে হবে। এক্ষেত্রে তার চোখের দিকে তাকিয়ে কথা বলতে হবে। এতে উপর পাশের মানুষের দৃষ্টি আপনার মধ্য থাকবে।

যদি একের অধিক লোক হয়ে থাকে বা কোনো সমাবেশ হয়ে থাকে তবুও এরুপ ভাবে তাদের দিকে তাকাবেন যেনো তারা বুজতে পারে আপনি তাদের সাথেই কথা বলছেন।

হাতের ব্যবহার : এটাকে হাতের ইঙ্গিত ও বলা যেতে পারে। কথা বলার সময় কথার অনুযায়ী আপনার হাতে নাড়িয়ে ব্যাপারটাকে সহজ ভাবে উপস্থাপন করার চেষ্টা করবেন।

এতে আরেকটা ভালো দিক আছে যা হলো, এর মাধ্যমে শ্রোতার এক ঘিয়েমি ভাব আসবে না যখন আপনার কথা শুনতে থাকবে। আপনার হাতের ইঙ্গিতর মাধ্যমে তার মস্তিষ্ক সচল থাকবে আপনার উপর আর ঠিক ভাবে আপনার কথা শুনবে।

সুন্দর হাসি : হাসি দেখতে পছন্দ করে না এমন মানুষ খুজে পাওয়া যাবে না। কেউ ভালো হোক বা খারাপ, মোটা বা পাতলা, ফর্সা বা কালো যাই হোক না কেন হাসিতে সবাইকেই সুন্দর লাগে।

অন্যদিকে হাসি মুখ দেখলে অপর পাশের মানুষেরও বিষয় গুলো পজিটিভ লাগবে। মানুষ পজিটিভ বিষয় বেশি গ্রহন করে তাই কথা বলার ক্ষেত্রে অবশ্যই খেয়াল রাখবেন যেনো আপনি হাসছেন তবে এটা মোটেও অট্টহাসি হবে না, সিম্পল মুচকি হাসি, যা ধর্মীয় ভাবেও গ্রহনযোগ্য

৫. নিজের কনফিডেন্স ও ভরসা বজায় রাখুন

পৃথিবীর কেউই সয়ং সম্পুর্ন নয়, কেউই কোনো বিষয়ে পুরোপুরি দক্ষ নয় তা যে বিষয়ই হোক না কেনো। তবে নিজের সক্ষমতা অনুযায়ী নিজেকে ভরসা করতে হবে। নিজেকে বিশ্বাস ও কনফিডেন্স এর মধ্যে রাখতে হবে।

আপনি কি তা অপর পাশের মানুষ ততক্ষন অব্দি বুজবে না বা জানবে না যতক্ষন না অব্দি আপনি তাকে আপনার সম্পর্কে সচ্ছ ধারনা প্রকাশ করছেন।

আপনি যদি কনফিডেন্সের সহকারে কোনো স্টেপ গ্রহন করে থাকেন। অন্যান্য সবাই আপনার বাহ্যিক ও ভেতরের কনফিডেন্টের লেভেলটাই দেখবে ও অনুভব করতে পারবে।

তাই ইংরেজিতে দক্ষ হওয়া এর ক্ষেত্রে ইংরেজিতে কথা বলার সময় অবশ্যই নিজেকে ভরসা করবেন এবং নিজের আত্নবিশ্বাস বজায় রাখবেন।

আর্টিকেলের সমাপ্ত করছি এই আশা রেখে যে আপনিও কৌশল গুলো যথাযথ ব্যবহার করে কিছুটা হলেও নিজের উন্নয়ন করতে সক্ষম হবেন। মনে রাখবেন সফলতার জন্য প্রথম স্টেপটি কঠিন ও খুবই গুরুত্বপূর্ণ। আপনার জন্য শুভকামনা।

Leave a Comment