অর্থায়নের বৈশিষ্ট্য সমূহ | Features of Finance | অর্থায়নের বৈশিষ্ট্য গুলো কি কি

অর্থায়ন কি তা জানার পাশাপাশি অর্থায়নের বৈশিষ্ট্য সম্পর্কে জানাটা গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠে। এটি বুজতে সহযোগিতা করবে মূলত কোনটাকে অর্থায়ন বলা যায়।

ব্যবসায় প্রতিষ্ঠানের আর্থিক পরিকল্পনা প্রণয়ন, সমন্বয়সাধন, নিয়ন্ত্রণ এবং এগুলাের যথাযথ প্রয়ােগকে অর্থায়ন বলে।

অর্থায়ন ও এর সাথে সম্পৃক্ত সকল বিষয় গুলোকে সহজে ব্যাখ্যা করতে আছি আমি সেলিম এবং আপনি আছেন আমার Salim Speaking নামক ব্লগে। আজকের বিষয় অর্থায়নের বৈশিষ্ট্য সমূহ।

অর্থায়নের প্রকৃতি সম্পর্কে জানার জন্য অর্থায়নের বৈশিষ্ট্য সমূহ সম্পর্কে জানা প্রয়ােজন। অর্থায়নের প্রধান বৈশিষ্ট্য গুলাে নিম্নে আলােচনা করা হলাে :

১. বিনিয়ােগের সুবিধা | Investment Opportunities

অর্থায়নে বিনিয়ােগকে লাভ বা উপার্জনের জন্য অর্থের সদ্ব্যবহার হিসেবে ব্যাখ্যা করা যেতে পারে। বিভিন্নভাবে বিনিয়ােগ করা যেতে পারে যথা

(ক) অর্থের সাহায্যে ভৌত সম্পত্তি (যেমন : ভূমি
উন্নয়ন, বাণিজ্যিক সম্পত্তি সংগ্রহ ইত্যাদি) গ্রহন।

(খ) ব্যবহারিক কার্যাবলি (যেমন : উৎপাদন, বাণিজ্য, ইত্যাদি) চালিয়ে যাওয়া।

(গ) আর্থিক সিকিউরিটিজ (যেমন : শেয়ার, বন্ড, মিউচ্যুয়াল ফান্ড ইউনিট ইত্যাদি) অর্জন।

মূলত বিনিয়ােগ সুবিধা হচ্ছে ভবিষ্যতে অর্থনৈতিক উপার্জনের প্রত্যাশায় বিভিন্ন সময়ে প্রদত্ত আর্থিক সম্পদের প্রতিশ্রুতি।

২. লাভজনক সুবিধা | Profitable opportunities

অর্থায়নে লাভজনক সুবিধাকে গুরুত্বপূর্ণ লক্ষ্য হিসেবে বিবেচনা করা হয়। লাভজনক সুবিধার অর্থ হচ্ছে প্রতিষ্ঠান তার সম্পদকে প্রতিযােগিতা মূলক বাজার ব্যবস্থায় সবচেয়ে দক্ষভাবে ব্যবহার করে। এটি দীর্ঘমেয়াদি লাভের বিনিময়ে স্বল্পমেয়াদি লাভকে উৎসাহিত করবে না।

উদাহরণস্বরূপ, ব্যবসায় প্রতিষ্ঠান আইন বহির্ভূত ও অনৈতিকভাবে স্বল্প মেয়াদের জন্য ব্যাপক লাভ অর্জন করতে পারে।

কিন্তু এর ফলে দীর্ঘ মেয়াদের জন্য মসৃণভাবে লাভ অর্জনের সম্ভাবনা বাধাগ্রস্ত হয় এবং ভবিষ্যতে টিকে থাকার সম্ভাবনা রহিত হয়।

৩. তহবিলের কাম্য মিশ্রণ | Optimal mix of funds

প্রত্যাশিত ফলাফল অর্জনের জন্য তহবিলের সবচেয়ে ভালাে কাম্য মিশ্রণের সাথে অর্থায়ন জড়িত। তহবিল দু’ধরনের যথা :

(ক) মালিকানা অবদান (যেমন : সাধারণ শেয়ার, সংরক্ষিত মুনাফা ইত্যাদি)

(খ) ঋণকৃত তহবিল (যেমন : ব্যাংক ঋণ, ব্যাংক জমাতিরিক্ত, ঋণপত্র, ইত্যাদি)

তহবিলের সংমিশ্রণ এমন হওয়া উচিত যাতে উদ্যোক্তার লাভের পরিমাণ হ্রাস না পায় এবং দক্ষ ও কার্যকরভাবে ব্যবসায়ের ব্যয় পুনরুদ্ধার করা সম্ভব হয়।

৪. অভ্যন্তরীণ নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা | Internal control system

প্রতিষ্ঠান অথবা কর্মক্ষেত্রে অভ্যন্তরীণ নিয়ন্ত্রণ বজায় রাখার সাথে অর্থায়ন জড়িত। অভ্যন্তরীণ নিয়ন্ত্রণ হচ্ছে প্রতিষ্ঠানের প্রারম্ভিক স্তরে তৈরিকৃত নীতি ও নিয়মাবলির সমষ্টি এবং এগুলাে ব্যবসায়ের প্রয়ােজনে পরিবর্তনযােগ্য।

ধারাবাহিকভাবে অনুসরণের উপযােগী করে গড়ে তােলার জন্য এই নীতি ও নিয়মগুলাে বিভিন্ন সময়ে তদারক করা হয়।

৫. ভবিষ্যৎ সিদ্ধান্ত গ্রহণ | Future decision making

প্রতিষ্ঠানের ভবিষ্যৎ সিদ্ধান্তের সাথে অর্থায়ন জড়িত। একটি ভালাে অর্থায়ন প্রবৃদ্ধি ও ভালাে উপার্জনের একটি নির্দেশক।

এটি শুধু প্রতিষ্ঠানের উত্তম বিশ্লেষণাত্মক সিদ্ধান্তের দ্বারা সম্ভবপর। তবে বর্তমান ও ভবিষ্যৎ প্রত্যাশার উপর অধিক গুরুত্ব প্রদানের সিদ্ধান্ত গ্রহণ করতে হবে।

সুতরাং বলা যায়, কোনাে ব্যক্তি, প্রতিষ্ঠান বা সরকারের উদ্দেশ্য অর্জনের জন্য প্রয়ােজনীয় তহবিল সংগ্রহ, তহবিল বিনিয়ােগ এবং তহবিলের সুষ্ঠ ব্যবস্থাপনা সংক্রান্ত যাবতীয় কার্যাবলিকে অর্থায়ন বলে যার মধ্যে উপরের বৈশিষ্ট্যসমূহ বিদ্যমান থাকে।

এটুকুই ছিলো অর্থায়নের বৈশিষ্ট্য সম্পর্কে যাবতীয় তথ্য। অর্থায়ন সংক্রান্ত আরো তথ্য পেতে উপরে মেনু অপশন থেকে Finance ক্যাটাগরিটি দেখতে নিতে পারেন। ধন্যবাদ।

 

Leave a Comment