অনলাইনে ব্যবসা আইডিয়া | বর্তমানে লাভজনক ৮ টি অনলাইন ব্যবসার আইডিয়া

ইন্টারনেট জগতে বিচরণকারী মানুষের সংখ্যা এখন অনেক। তাই এই প্ল্যাটফর্ম কে কাজে লাগিয়ে অনলাইনে ব্যবসা করছে অনেকেই। এছাড়া যারা এখনো শুরু করেনি, তাদের অনেকেই হয়তো শুরু করার কথা ভাবছে। সেটিই আজকের আলোচ্য বিষয়।

ব্যবসা সাধারণত সেসব স্থানকে কেন্দ্র করে করাটাই উচিত, যেখানে জনমানুষের যথেষ্ট পরিমাণে আনাগোনা আছে। আর ইন্টারনেট নিঃসন্দেহে তেমনই মানুষের একটি বিচরণ স্থল।

এই ইন্টারনেট কে কেন্দ্র করে অনলাইনে ব্যবসা করে সফল মানুষের সংখ্যা নেহায়েত কম নয় বর্তমানে। লাভজনক এমন অনেক প্রোডাক্ট রয়েছে, যেগুলো দ্বারা আপনিও সহজেই অনলাইনে ব্যবসা শুরু করতে পারেন।

আমাদের আজকের জানার বিষয় হলো – অনলাইনে ব্যবসা আইডিয়া এবং বর্তমানে লাভজনক ব্যবসা আইডিয়া বিষয়ে। এমনই কিছু আইডিয়া নীচে তুলে ধরা হলো.. 

 

বিভিন্ন প্রোডাক্ট নিয়ে ই-কমার্স ব্যবসা

 

বর্তমানে বিশ্বে প্রচলিত যতগুলো অনলাইনে ব্যবসা রয়েছে, তার মধ্যে ই-কমার্স ব্যবসা শীর্ষে আছে। আমাদের দৈনন্দিন জীবনে আমরা বিভিন্ন ধরনের গ্রোসারি পণ্য ব্যবহার করে থাকি।

এগুলো জেনারেল স্টোর থেকে কিনতে হয়। কিন্তু সবসময় বাইরে গিয়ে কেনাটা সবার জন্য সহজ নয়। ঘরে থেকে অনলাইনে অর্ডারের মাধ্যমে কাঙ্খিত প্রোডাক্টটি পাওয়ার চাহিদা হয় তখন।

বর্তমানে চাল, ডাল, তেল, বিভিন্ন মসলা সহ অনেক ধরনের প্রোডাক্ট নিয়ে ই-কমার্স ব্যবসা করতে পারেন। প্রাথমিকভাবে, ২/৩টি প্রোডাক্ট নিয়েও কাজ শুরু করা যায়।

নিজস্ব একটা ওয়েবসাইট তৈরি করে ঘরে বসেই ই-কমার্স ব্যবসা অনলাইনে করার মাধ্যমে আয় করতে পারেন। ছোট আকারে শুরু করার জন্য এক লক্ষ টাকা মূলধন যথেষ্ট।

 

কাপড়ের ব্যবসা

 

কাপড় আমাদের নিত্যপ্রয়োজনীয় বিষয় হওয়ার কারণে এর রয়েছে বিপুল চাহিদা। মানুষ সাধারণত বিভিন্ন মার্কেট ও শপিং মল থেকে পোশাক কিনে থাকে। কিন্তু এরপরও অনলাইনে তারা তাদের পছন্দের পোশাক কিনতে কার্পণ্য করে না।

বিশেষ করে ঈদের সময় কাপড় কেনার হিড়িক পড়ে যায়। অনলাইন থেকেও অনেক পোশাক ক্রয় করা হয়। মার্কেট বা শপিং মলে প্রত্যাশিত কোন পোশাক কেউ না পেলে, সেটা অনলাইন থেকে পাওয়ার পর কিনে ফেলা অসম্ভব কিছু নয়।

তাই এসব দিক বিবেচনায় কাপড়ের ব্যবসা নিঃসন্দেহে লাভজনক একটি অনলাইন ব্যবসা হিসেবে বিবেচিত। সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্ম এবং নিজস্ব ওয়েবসাইটে মার্কেটিং করার মাধ্যমে সহজেই অনলাইনে আপনি কাপড়ের ব্যবসা শুরু করতে পারেন।

অনলাইনে ব্যবসা করার জন্য দোকান ভাড়া নিতে হয়না। ফলে সামান্য মূলধন নিয়েই ব্যবসা শুরু করা যায়। মানুষের চাহিদা এবং রুচি বিবেচনা করে পাইকারি মার্কেট থেকে পোশাক কিনে ব্যবসা করতে পারেন।

 

অনলাইন কোর্স ব্যবসা

 

অামরা এমন অনেকেই আছি যারা কি না বিভিন্ন কাজে পারদর্শী। কেউ গ্রাফিক্স ডিজাইনে, কেউ সেলাই সংক্রান্ত কাজে, কেউ বা ওয়েবসাইট ডেভলপমেন্ট বিষয়ক কাজে এক্সপার্ট।

এই বিশেষজ্ঞ হওয়াটাই জলো আপনার অনলাইনে ব্যবসা করার একটি গুরুত্বপূর্ণ উপকরণ। কেননা, আপনি যে কাজে দক্ষ, সে কাজে অনেক মানুষই শিখতে চায়, দক্ষ হতে চায়।

তারা টাকার বিনিময়ে তাদের মূল্যবান সময় খরচ করে এসব বিষয় তাদের থেকে শিখতে উৎসুক থাকে, যারা এসব বিষয়ে যথেষ্ট জ্ঞানী ও অভিজ্ঞ। কাজে এক্সপার্ট ব্যক্তিদের এমন অনেকেই আছেন, যারা ভিডিও কোর্স তৈরি করে অনলাইনে সেল করার মাধ্যমে ব্যবমা করছেন।

তদ্রুপ, আপনিও যদি কোন বিশেষ কাজে দক্ষ হয়ে থাকেন, তাহলে আপনি নিজেও অনলাইনে কোর্স বিক্রীর ব্যবসা করতে পারেন। ডোমেইন হোস্টিং কিনে একটি ওয়েবসাইট তৈরি করে সেখানে কোর্স সেল করতে পারেন।

 

বিভিন্ন খাবার আইটেমের ব্যবসা

 

ঘরোয়া খাবারের প্রতি ঝোঁক আছে অনেক মানুষেরই। সাধারণত, যারা পরিচ্ছন্ন এবং রুচিকর স্বাস্থ্যসম্মত খাবারের মর্ম বুঝেন, তারা ঘরোয়া খাবার খেতে চান।

আমাদের মধ্যে এমন অনেকেই আছেন যারা বিভিন্ন মজাদার খাবার রান্না করতে পারেন। তারা বাড়িতে বসে অনলাইনে তাদের তৈরি করা খাবার বিক্রয়ের মাধ্যমে ব্যবসা করতে পারেন।

ফেসবুকের বিভিন্ন গ্রুপে অনেকেই খাবার বিক্রয়ের মাধ্যমে ভাল পরিমাণে অর্থ আয় করছেন। তাছাড়া আপনি যদি একটি ওয়েবসাইট তৈরি করে সেখানে খাবার সুন্দরভাবে ডিসপ্লে করার মাধ্যমে বিক্রয়ের উদ্যোগ নেন, তাহলে ভাল পরিমাণে ব্যবসায়ীক প্রফিট পাবেন ইনশা আল্লাহ্।

তবে ঘরোয়া খাবারের অনলাইন ব্যবসা করার জন্য আপনাকে বুঝে শুনে দাম নির্ধারণ করতে হবে এবং খাবার যেন কম সময়ে সঠিকভাবে ডেলিভারি হয় – সে ব্যবস্থা গ্রহন করতে হবে। কেননা, ডেলিভারি এক্ষেত্রে খুব গুরুত্বপূর্ণ একটি বিষয়।

 

ফ্লিপিং ডোমেইন ব্যবসা

 

সময়ের সাথে সাথে অনলাইনে ব্যবসা তে মানুষের সম্পৃক্ততা বেড়েছে। ফলে চাহিদা বেড়েছে বিভিন্ন কমার্শিয়াল ডোমেইন এর। কমার্শিয়াল ডোমেইন বলতে ডটকম (.com) ডোমেইন অ্যাড্রেস কে বুঝায়।

এছাড়া অন্যান্য ডোমেইনও রয়েছে। মানুষ তাদের ব্যবসা অনলাইনে পরিচালনার জন্য ডোমেইন ক্রয় করে। তবে নিজের চাহিদা এবং প্রত্যাশা অনুযায়ী ডোমেইন পাওয়াটা কঠিন ব্যাপার বর্তমান সময়ের প্রেক্ষাপটে।

আপনি যদি বিভিন্ন ডোমেইন কিনে সেগুলো লাভসহ বিক্রয় করতে পারেন, তাহলে এভাবে অনলাইনে ব্যবসা করতে পারেন। এটাকে ফ্লিপিং ডোমেইন ব্যবসা বলা হয়।

পুরাতন ডোমেইন এক্ষেত্রে বেশি লাভজনক। তবে ধৈর্য্যশীলতার সাথে এ ব্যবসাটি করতে হয়; কেননা অনেকসময় ডোমেইন বিক্রী হতে অনেক সময় লেগে যায়। তবে টার্গেট অডিয়েন্স এর ভিত্তিতে করতে পারলে এ ব্যবসাটি তে সফলতা লাভ করা সম্ভব।

 

ব্লগের মাধ্যমে ব্যবসা

 

আগে একটা সময় ছিলো, যখন মানুষ ব্লগে লেখালেখি করতো নিতান্তই শখের বসে। কিন্তু আস্তে আস্তে মানুষ এটাকে পেশা হিসেবে নিয়েছে। আপনি নিজের জন্য একটি পার্সোনাল ব্লগ খুলে লেখালেখি করতে পারেন।

যে বিষয়ে আপনার কাছে উপকারী জ্ঞান আছে, সে বিষয়গুলো ব্লগে লিখতে হবে। আপনার ব্লগের লেখা দ্বারা যদি মানুষ উপকৃত হয় এবং আপনার আর্টিকেলগুলো যদি গুগলে র‌্যাংক করে; তাহলে এই ব্লগ থেকে আপনি ব্যবসা করতে পারেন।

বিভিন্ন কোম্পানির সাথে অর্থের ভিত্তিতে চুক্তিবদ্ধ হয়ে তাদের বিজ্ঞাপন আপনার ব্লগসাইটে শো করে আয়ের মাধ্যমে অনলাইন ব্যবসা করতে পারেন।

 

ই-বুক ব্যবসা

 

স্মার্টফোন বর্তমানে মানুষের হাতে হাতে। অনেকেরই অনেক বইয়ের দরকার পড়ে। আর স্মার্টফোনে ই-বুক দ্বারা মানুষ বিভিন্ন বইপত্র পড়ে থাকে। এমন অনেক ওয়েবসাইট রয়েছে, যেখান থেকে কাঙ্ক্ষিত ই-বুক কিনে পড়া যায়।

তাই আপনিও বিভিন্ন দরকারি ও গুরুত্বপূর্ণ ই-বুক তৈরি করে বিক্রয়ের মাধ্যমে অনলাইনে ব্যবসা করতে পারেন। সঠিক পদ্ধতিতে করতে পারলে এ ব্যবসার মাধ্যমে ভাল পরিমাণে অর্থ আয় করা অসম্ভব নয়।

ফেসবুক পেজ বা গ্রুপ, ইন্সটাগ্রাম, টেলিগ্রাম বা টুইটারের মাধ্যমে ই-বুক বিক্রয়ের মাধ্যমে অনলাইনে ব্যবসা করতে পারেন। এটা বেশ সহজ একটি কাজ।

 

মোবাইল ব্যবসা

 

অনেক ধরনের অনলাইন ব্যবসা এর মধ্যে মোবাইল এর ব্যবসা হলো অন্যতম চাহিদাসম্পন্ন ও লাভজনক একটি ব্যবসা আইডিয়া। মোবাইল বর্তমানে নিত্য ব্যবহার্য সামগ্রীর একটি।

নতুন মোবাইলের পাশাপাশি পুরনো মোবাইলের চনহিদাও লক্ষ্যণীয়। আপনি যদি কম দামে পুরনো মোবাইল সংগ্রহ করে লাভসহ অনলাইনে বিক্রী করতে পারেন, তাহলে প্রতি মাস শেষে ভাল পরিমাণে প্রফিট পেতে পারেন।

ফেসবুক মার্কেটপ্লেস এবং বিক্রয় ডটকমের মতো প্ল্যাটফর্ম ব্যবহার করে মোবাইল বিক্রয়ের মাধ্যমে অনলাইনে ব্যবসা করতে পারেন। প্রাথমিকভাবে, ২০ হাজার টাকা যথেষ্ট এ ব্যবসাটি শুরু করার জন্য।

ফেসবুকে পেজ এবং গ্রুপ খুলেও মোবাইল বিক্রয় করতে পারেন। পেজ বুস্ট করার মাধ্যমে অল্প সময়ে অধিক সেলের সুযোগটিও নিয়ে নিতে পারেন।

 

ওয়েবসাইট বিক্রয় ব্যবসা

 

এটি একটি লাভজনক অনলাইন ব্যবসা। তবে এ কাজের জন্য প্রচুর সময় এবং শ্রম বিনিয়োগ করতে হয়। যথেষ্ট পরিমাণে ধৈর্য্য ধারন করার মনমানসিকতার প্রয়োজন হয়।

একটি ওয়েবসাইট খুলে সেটিকে সুন্দরমতো সাজিয়ে, এসইও করে, পর্যাপ্ত পরিমাণে যেন ট্রাফিক ভিজিট হয়; সেরকম ব্যবস্থা করে ওয়েবসাইটটি কে একটি ভাল পজিশনে নিতে হয়।

এরপর সেই ওয়েবসাইটটি যাদের প্রয়োজন, তাদের কাছে বিক্রয়ের মাধ্যমে অনলাইনে ব্যবসা করা হয়। ওয়েবসাইটের মান যত ভাল হয়, তার থেকে তত বেশি লাভের সম্ভাবনা থাকে। যারা ওয়েবসাইট বিষয়ক কাজে এক্সপার্ট, তারা অনলাইনে ব্যবসা টি করতে পারেন।

 

ইতিকথা

 

মানুষের চাহিদা কে কেন্দ্র করেই সাধারণত ব্যবসা পরিচালনা করতে হয়। আর মানুষের চাহিদা হলো বিভিন্ন ধরনের। সব কিছুর চাহিদা একরকম নয়। অবস্থান এবং মানুষ ভেদে রয়েছে পার্থক্য।

আপনি কোন ব্যবসা ভাল বুঝেন এবং কোন ব্যবসার আইডিয়ায় আপনার আগ্রহ বেশি? – এই প্রশ্নের উত্তর খুঁজে অনলাইনে ব্যবসা শুরু করা উচিত। নিজের কাজের প্রতি মনোযোগ এবং ভালবাসা থাকা জরুরি। সর্বোপরি আপনি যদি ধৈর্য্যের সাথে সঠিকভাবে কাজ করতে পারেন, তাহলে অবশ্যই সফলতা পাবেন ইনশা আল্লাহ্।

 

1 thought on “অনলাইনে ব্যবসা আইডিয়া | বর্তমানে লাভজনক ৮ টি অনলাইন ব্যবসার আইডিয়া”

Leave a Comment